somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিশ্ব সৃষ্টির প্রথম লগ্নেই কৃষ্ণবিবরের জন্ম !!!

১৭ ই জুন, ২০১১ রাত ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির উষাকালে যখন একে একে ছায়াপথ গ্রহ-তারা সৃষ্টি হতে শুরু করে, কৃষ্ণবিবরেরও জন্ম সেই সময়ে। নাসার বিজ্ঞানীরা সেই সময়ে সৃষ্ট বিপুল আয়তনের কৃষ্ণবিবরের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন। 'চন্দ্র এক্স-রে' মানমন্দিরের সাহায্যে পরিচালিত এ গবেষণাপত্র গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বখ্যাত সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

এক মহাবিস্ফোরণ থেকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ১৩৭৫ কোটি বছর আগে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, সৃষ্টির উষাকালে প্রাথমিক পর্যায়ে সৃষ্ট ছায়াপথগুলোর ভেতরে বিপুল শক্তির কৃষ্ণবিবর ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিজ্ঞান সংস্থা 'নাসা'র বিজ্ঞানীরা চন্দ্র এক্স-রে মানমন্দির ও হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে প্রাপ্ত এক্স-রশ্মি বিশ্লেষণ করে এই তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, 'আমরা আকাশ ভরা যে সূর্য, তারা, গ্রহ, নীহারিকা আর ছায়াপথ দেখি, তার বাইরেও এমন কিছু বস্তু রয়েছে, যা আশপাশের সবকিছু গিলে খায়। এর আকর্ষণ শক্তি এতটাই তীব্র যে আলোও তার হাত থেকে রেহাই পায় না। আশপাশের সব কিছুই এরা তখন গিলে খায় নির্বিশেষে। মহাকাশীয় এই বস্তুটির নাম ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণবিবর। কিন্তু সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে এসব কৃষ্ণবিবরের অস্তিত্ব বেশ অদ্ভুত। বিষয়টি এ কারণে বিস্ময়কর যে কৃষ্ণ বিবর সাধারণত বৃহৎ আকৃতির নক্ষত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর পর নক্ষত্রের সব পদার্থ নিজের ভেতরে ভেঙে পড়লে তা প্রচণ্ডভাবে ঘনীভূত হয়। সে সময় এর মহাকর্ষীয় শক্তি অসম্ভব মাত্রায় বেড়ে যায়।
নতুন এ তত্ত্বের প্রধান গবেষক হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইজাকুয়েল ট্রেইস্টার বলেন, 'বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বয়স যখন মাত্র ১০০ কোটি বছরের কম, সেই উষাকালে সৃষ্ট প্রচুর পরিমাণে বিপুল আকৃতির কৃষ্ণবস্তুর অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছি আমরা।' ট্রেইস্টার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, কৃষ্ণবিবরের ভেতরে মহাকাশের বস্তু যখন বিধ্বস্ত হয়, তখন প্রচণ্ড গতিতে এদের মধ্যে যে সংঘর্ষ হয় তাতে এক ধরনের উজ্জ্বল এক্স-রে উৎপন্ন হয়। এখন সৃষ্টির শুরুর কৃষ্ণবিবরের অস্তিত্বকে চিহ্নিত করার জন্য বিজ্ঞানীরা ওত পেতেছেন এই এক্স-রে' শনাক্ত করতে। এ কাজে প্রথমে এক্স-রে' মানমন্দিরের সাহায্য নেওয়া হয়। এটি নাসার একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। ১৯৯৯ সালের ২৩ জুলাই এটি উৎক্ষেপণ করা হয়। মহাকাশ থেকে যেসব এক্স-রে রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার অধিকাংশই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল আটকে যায় বলে পৃথিবীর কক্ষপথে এ মানমন্দির নির্মাণ করতে হয়। ট্রেইস্টার বলেন, মহবিশ্বের অতি গভীরে 'চন্দ্র এঙ্-রে' দুরবিন প্রায় ২০০ ছায়াপথের দিকে অপলকভাবে তাকিয়ে থাকে। তবে প্রথম ৪৫ দিন সেই অতিদূরবর্তী ও গভীরতম স্থানের 'এক্স-রে'র সরাসরি আলামত পাওয়া যায়নি। এরপর নাসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ 'হাবল টেলিস্কোপ'কে কাজে লাগানো হয়। চন্দ্র এবং হাবলের মিলিত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বের করা হয় 'মিসিং' এক্স-রে।
সূত্র
৩টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×