somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামে প্রেমের যত নাম, আর যত কাহিনী... ;)

০৯ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নামে প্রেমের যত নাম, আর যত কাহিনী... ;)
=====================================
সালঃ ১৯৯৭
প্রেম ট্রেম তখন খুব একটা বুঝি না। স্কুলে পড়ি তখন। পিটি করে ক্লাসে ঢুকা মাত্র একজন আমাকে কিছু বলতে চাইছে। আর একজন ওর মুখ চেপে ধরছে। যে মুখ চেপে ধরছে তাকে একটা ঝাড়ি দিলাম। দেন যা বললোঃ
ও বলছে নৃত্য না কী তোমার লাভার।
পুরো ক্লাসে হাসির রুল। আমি এতটুকু বুঝেছিলাম বিষয়টা খারাপ কিছু।
বেছ আর কোন কথা চিন্তা না করে দিলাম ঠাস করে একটা চড়...
তারপর বিচার আচার নিয়ে বাসায়.... ;)

সালঃ ২০০১
প্যাকটিক্যাল পরিক্ষার খাতায় নিজের মতো করে লিখছি বর্ণনা। কারন আমি একাই খাতা রেডি করে দিয়েছিলাম ১৪ জনের। পরিক্ষার দিন আমার সাথে পড়েছিলো একজন। যিনি অসম্ভব সুন্দরী। দেমাগও বেশি। বাট এক কিডির আন্টি। উনি আমাকে কিছু দেখাতে বললো। আমি একটু দেখালাম। তারপর অন্য কারো কাছ থেকে আর একটু দেখে লিখলো। আবার আমাকে দেখাতে বললো। কিন্তু তখন যেটা লিখছিলাম, সেটা মাত্র সে অন্য কারো কাছ থেকে দেখে লিখছে। এবার তাকে দেখাতে গেলে খাতার পেইজ উল্টে দেখানো লাগবে। দেখাতে চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এক টিচার এসে আমাকে অন্য বেঞ্চে সরিয়ে নিলো। সেই রমনী সেদিন পরিক্ষার হলে সবার সামনে বললোঃ
কী সব বানাইয়া লেখে, আবার আমারে দেখায় না। কিছু তো পারেই না।
পর দিন পরিক্ষার আগে সবাই আমারে নিয়া হাসি তামাশা শুরু করলো। তোমার ডারলিং রে না দেখাইয়া তো মহা অন্যায় করছো। গিয়া মাপ চাইয়া আসো।
বেছ মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। সারা হল খুঁজে বের করলাম সেই রমনীকে। দেন এক হাজার মাইল বেগে কথা শুনাইলাম। হলের ভেতর ই কান্না শুরু করছিলো সেই রমনী। তারপর একদিন বাসায় বিচার আচার... ;)

সাল ২০০২
ঢাকায় এসেই কোন কারন ছাড়াই ফারহানা নামটা খুব পছন্দ হইলো। আপন মনে একদিন সব বইয়ের পেছনে লিখলাম ফারহানা। পরদিন বড় ভাইয়ের চোখ পড়লো।
বেছ সেদিনই বিচার আচার... ;)

সাল ২০০৪
যাকে কোন দিন কল্পনাই করি নি তাকে নিয়ে ...। ঈদের বাড়ি যাবার সময় মাত্র এক বার আমার দুলাভাইয়ের মোবাইল নাম্বার দিয়েছিলাম তাকে যেনো স্কুলের দরকারে উনার বাবা ফোন দিতে পারে। তাতেই কাজ.. উনার বাবা না, উনিই দিনে চার পাঁচ বার ফোন দিয়ে শুধু জানতে চাইতো স্যার আছে না কী?
বাসার সবাই ভাবলো ছাত্রীর সাথে ইটিস পিটিস। কিন্তু তারে জীবনেও আমি এক অক্ষর পড়াই নাই।
বেছ ঈদের দ্বিতীয় দিনেই আমার নামে পুরো ফ্যামেলি মিটিং... ;)

সাল ২০০৫
নতুন ডিজিউজ সিম। ধানমন্ডির এক মেয়ে পড়াশোনার বিষয়ে মাঝে মাঝে ফোন দিতো। আর বেশি ফোন দিতো মন খারাপ থাকলে। ফোন দিয়ে কান্নাকাটি করতো বেকুবের মতো। শান্তনা দিতাম। শর্ত ছিলো কোন দিন দেখা করবো না। একদিন আমার মোবাইল থেকে আমার এক ফ্রেন্ড মেয়েটির নাম জানার অনেক চেষ্টা করলো। ফোন দিয়ে শুধু হ্যালো হ্যালো করলো। আমি যখন ফোন কানে নিলাম। ও পাশ থেকে শোনা গেলো
আমি সিলভীর বড় কোন, সিলভী সিলভী... এটা কে... প্রেম করো...
বেছ বিচার আচার দেন মোবাইল সিজ ৩ মাসের জন্য... ;)

সাল ২০০৭
কোন এক স্কুলে গেলাম চাকুরীর জন্য। হেড ম্যাম নাই। যিনি ছিলেন উনি শুধু আমার নাম জানতেন। কিন্তু কোন দিন না কী দেখেন নাই। তো সেই রমনী আমাকে পরদিন আসতে বললো সকালে। হেড ম্যামের সাথে দেখা কারানোর কথা বলে। পরদিন সকালে গিয়ে দেখি কেউ নাই শুধু সেই রমনী। হেড ম্যাম আসে দুপুরে। আর উনি আমাকে আসতে বলতো সকালে। এভাবে তিন দিন পার হবার পর সত্য জানতে পারলাম। জানার পর তেমন কিছু বলি নি। কিন্তু যেদিন কিছু বলতে গেলাম। সেদিন উনার আম্মাজান ফোন দিয়ে
বাবা আমার মেয়ের সাথে তুমি কোন রকম যোগাযোগ কইরো না। ওর বিয়ে ঠিক করা আছে। আমি তোমার হাতে পরি পায়ে পরি..
দেন বিচার আচার মেয়ের নামে.... ;)

সাল ২০০৯
মেয়ে শুধু আমাকে ফোন দিয়ে কেমন আছি, কী করি খবর নিয়েই লাইন কেটে দেয়। আমাকে ফোন দিতে দেয় না। কোন দিন দেখেও নাই। শুধু মোবাইলে কথা হয়। আচমকা একদিন আমার মোবাইল নষ্ট হইলো। টানা এক সপ্তাহ মোবাইল নাম্বার অফ ছিলো। যেদিন ফোন দিলাম সেদিন বলতেছে
এক্ষুনি না কী আত্নহত্যা করতে যাইতেছিলো। পরে সব হ্যাঁ আর জ্বী বলে বাসায় ফেরালাম। দেন ওর আম্মু কাছে সব খুলে বললাম
বেছ নামে বিচার আচার, ওর মোবাইল টুবাইল সব সিজ... ;)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৫১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×