somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামে প্রেমের যত নাম, আর যত কাহিনী... ;) পার্টঃ২

১১ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নামে প্রেমের যত নাম, আর যত কাহিনী... ;) পার্টঃ২
=====================================
সালঃ ২০১১
অচেনা নাম্বারে মেসেজ গিয়েছিলো তাতেই। উনি আমার বিগ ফ্যান। মাঝে মাঝেই ফোন দিয়ে রান্না ঘরের খুরচুন, চামচ, ডাল ঘুটনী দিয় মারামারির প্লান করতেন। আমিও করতাম। কে কাকে কিভাবে হাসপাতালে পাঠাবে সেই প্লানিং। কারন তখন অবদি কেউ আমরা কখনো হাসপাতালের বেডে শুয়ে দেখিনি। ছোট বোনের পরীক্ষার প্রথম দিন ওকে হল পর্যন্ত পৌছে দিয়ে আসবো। তাই সকাল উঠেই ফ্রেশ হলাম। তাও আবার কী যেনো মনে করে ওয়াশ রুমে গেলাম। পরে ওয়াশ রুম থেকে হাসপাতালের বেড হয়ে অপারেশন থিয়েটার। সেদিন সেই পাতিল মাস্টারের সাথে দেখা করার কথা ছিলো। কিন্তু বেচারী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর যখন আমাকে ফোন দিয়েছিলো। তখন আমি ওপারেশন থিয়েটারে। ফোন কোথায় ছিলো নিজেও জানতাম না। পরে উনি আর আমার কোন খুঁজ কোন দিন নেয় নি। একদিন ফেবুর বদৌলতে জানতে পারলো সব, অবশ্য ততদিনে উনি অন্য কারো পার্মানেন্ট পাতিল মাস্টার হয়ে গেছেন। তবে খুব আফসোস আর দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

সালঃ২০১২
আমার মেঝু ভাইয়ের এক বড় ভাই। যিনি এক সময় আমাকে দেখেছিলেন হাসপাতালে মেঝু ভাইয়ের সেবা করতে। হাসপাতালের ডাক্তার নার্স সবাই আমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলো। উনি প্রথম সেদিন আমাকে দেখে বিস্মিত হয়ে ছিলো। শুধু বলেছিলো তুই তো দেশী পিয়ারারে। সেই ভাইয়া আর আমার মেঝু ভাই যেদিন হাসপাতাল থেকে আমাকে নিয়ে আসতে গিয়েছিলো সেদিন উনি তো পুরাই হতবম্ব। আমাকে যখন এ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হচ্ছিলো, তখন বলা হলো একটা পা বাড়ানোর জন্য। আমি তখন আমার যেই পায়ে ২৭ টা সেলাই করা ছিলো। সেই পা ই আগে বাড়িয়ে ছিলাম ;) ওই ভাইয়া তখন আমাকে বলেছিলো তুর ওপারেশন হইছে কোন পায়ে। আমি তখন বলছিলাম ওটা তো অতীত। উনি তখন বলছিলো তুই তো রোবটের জাত ভাই। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার সেই ভাইয়ের ১০ দশ স্টুডেন্ট আমার নাম শুনলেই ফিদা হইতো। তারপর পায়ের বেন্ডেজ খোলার পর একদিন আমাকে ফেস টু ফেস দেখার পর ই সেই সংখ্যা ১ এ এসে নামে। সেই ১ ছিলো ছোট খাটো হাতির বাচ্চা। কিন্তু উনি সেই ভাইয়ার মতো জানতো আমি না কী দেশী পিয়ারা। নানান অযুহাতে উনি আমার ধারে কাছে ঘুর ঘুর করতো। সবাই তো ভাবতো আমার আর ওর ইয়ে... আছে। কিন্তু উনি আমার কাছ থেকে কম্পিউটার, বাচ্চাদের হেন্ডল করা, আর কথা বলার কিছু ধরন মুখস্ত করেই এক সময় ঈদের চাঁদ হয়ে গেলো। কারন তখন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে চান্স পেয়েছিলো। বেচ উনি তো উনি ই নাম টা ছিলো শান্তু মটো। সাবাই ডাকতো। আমি শুধু মটো বলতাম।

সালঃ২০১৩
ঢাকার বাইরে বগুড়াতে। একি সাথে দুই প্রতিষ্ঠানে টিচিং করি। একটাতে কম্পিউটার আর ট্রাভেল এন্ড টুর অপারেশ এর ক্লাস নেই। আর এক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আর উনার উয়াইফের অনুপস্থিতিতে আমিই প্রতিষ্ঠানের সব দেখাশোনা করি। একটা কোচিং সেন্টার প্লাস স্কুল। বগুড়ার মেইন শহরে। জলেশ্বরী তলায়। নাম ইউনিক কোচিং সেন্টার। ওখানে যে কত জনের জামাই আদর আর দাওয়াত পেয়েছি তা আর নাম বলে শেষ হবে না। তবে ওগুলোর সব ই ছিলো অনেকটা এক তরফা। কিন্তু কিডিদের কাছে কারো কোন অবস্থান তখন ছিলো না। দশ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে। মাত্র তিন মাসে সব কিডিদের কাছে আমি ই আমি। অন্য কারো নামটা পুরো কোচিং এ খুব একটা শোনা যেতো না কিডিদের মুখে। ওদের সাথে মাখামাখি দেখে কখনো কখনো অনেক অভিবাবকও আমার প্রেমে পড়তো। একদিন রাতে হঠাৎ এপেন্ডিসাইডের ব্যথা। তারপর শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজে আমার অপারেশন। তারপর বাড়ির সবার অনুরোধে সবার সব প্রেম মায়া মমতা ভালোবাসাকে ছেড়ে ঢাকায় চলে আসি। এখন অবদি আর কোন দিন বগুড়ায় যাই নি। কিডিদের ভয়ে ;)

সালঃ ২০১৪
জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় মা বাবা আত্নীয় স্বজন সবার ই প্রেম ভালোবাসা আমার জন্য নিষিদ্ধ হয়ে গেলো। তার মাঝেও একজন মোবাইলে আমার খুজ খবর নিতো। লাইফের অনেক না বলা কথা ওর সাথে শেয়ার করেছি। একটা সময় একটি বার আমার সাথে দেখা করার জন্য অনেক আকুতি মিনতি করে। কিন্তু ওর কিছু কথা, আচরন আর শব্দের ব্যবহারে আমি প্রায়ই অবাক হতাম। কিন্তু আমার জন্য এতো আবেগ আর দরদ এই ভেবে আবার সব ভুলেও যেতাম। কিন্তু কোন একদিন আমি যখন জানতে পারলাম সে একজন কল গার্ল। তারপর সে আর আমার সাথে কোন যোগাযোগ রাখে নি। একদিন ফোন দিয়ে অনেক কেঁদে বলেছিলো আমার লাইফ থেকে একটি দিন ওকে ভিক্ষা দিতে। কিন্তু আমি পারি নি। এতো বছরের ধরে রাখা ইগো আর নষ্ট করি নি। এই ভেবে যে ও আমার কাছে প্রথম সব সত্য গোপন করেছে। তারপর সে একদিন তার হাসব্যান্ডকে নিয়ে হানিমুনে গেলো আমাদের সিলেটে। স্টুডিওতে ছবি ওয়াশ করতে দিয়েছিলো। সেই স্টুডিও থেকেই আমি একটি ফোন পাই। তারপর একদিন সেই মেয়ে আমার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে সব কিছুই গোপন করার অনুরোধ করে মোবাইল নাম্বার চেইঞ্জ করলো...

সালঃ২০১৫
ঈদের আগের দিন রাতে। ফেবুতে বসে বইপোকাদের গল্প কবিতা নামে একটি পেইজ খুজে পাই। রিকুয়েশ্ট পাঠাই। এবং মিনিটের মধ্যেই এড হয়ে যাই। সেদিন প্রথম বার বই বা বই বিষয়ক কোন পোস্ট বা লেখা মনোযোগ দিয়ে বেশ অনেক্ষণ পড়ি। বৃষ্টি বিষয়ক একটি পোস্টে একজনের সাথে কমেন্টস এ পরিচয়। টুকটাক টেক্সট আদান প্রদান। তখন আমার ফেবু আইডিতে রিকুয়েশ্ট পাঠানোর অপশনটা অফ করে রাখাছিলো। সেই নিয়েই অনেক গল্প। তখন ওর বিএফ এর সাথে ব্রেক আপের মাত্র দুই মাস। আর তখন আমি পুরোদস্তুর নারী বিদ্বেষী। হায় হ্যালো ছাড়া কোন মেয়ের কথা তখন কানে নেই না। কিন্তু মেয়েটির কিছু কিছু বিষয় খুব ভালো লাগতো। অনেক সময় কেটেছে ইনবক্সে। কখনো লিস্টে এড করার কথা বলেনি। একটা পর্যায় নেট কানেকশন না থাকার কারনে মোবাইলে টেক্সট। কিন্তু মোবাইল নাম্বার পাবার পর দু'এক দিন পর্যন্ত শুধু টেক্সট আদান প্রদান হতো। এক সপ্তাহ পর প্রথম ওর কল পাই। আমার সময়টা তখন খুব বাজে যাচ্ছিলো। এক মাত্র ওই ছিলো কিছু শেয়ার করার মতো কেউ। কিন্তু আর সবার মতো ও একদিন ভাবতে শুরু করলো আমি হয়তো ওর প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছি। অনেক চেষ্টা করেও বুঝাতে পারি নি। কাউকে ভালোবাসতে গেলে যতটুকু বিশ্বাস বা সাহস লাগে তা আমার নেই। কিন্তু এতো ভালো একজন বন্ধুকে হারানোর কষ্টে অনেক কিছু করেছি। মাঝে একটা সময় ওর সাথে এমন আচরণ করেছি। ভাবতেই লজ্জা লাগে। ওকে নিয়েই আমার প্রথম কোন বড় গল্প এই গ্রুপে স্থান পায়। ওকে অনেক নামে ডাকতাম। ম্যাপস, হাতির ডিম, পপস... নাম বিষয়ে কোন দিন কোন প্রশ্ন করতো না। প্রেম ভালোবাসায় বিশ্বাস হারালেও। ওর সাথে পরিচয় হবার পর প্রথম উপলব্ধি হয়। কোন মেয়েও হয়তো আমার বন্ধু হতে পারে।..... (চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×