somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাত্রির সাথে পরিচয় [মূল কবিতাঃ Acquainted with the Night by Robert Frost]

১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[আমার কথাঃ এই পোস্টটাকে কি পোস্ট বলা যায়- আসলে আমি জানি না! অনুবাদ কি?- হতে পারে, যেহেতু অন্য ভাষার একটি কবিতার শরীরকে বাংলা ভাষায় ছুঁতে চাওয়া হয়েছে.. নাকি রূপান্তর বলবো- যেহেতু বর্ণনাভঙ্গিতে ব্যবহৃত হয়েছে 'গদ্য-ফর্ম'? যেটাই হোক, আমি আমার সাধ্যমত মূল কবিতার ভাবের কাছাকাছি থাকতে চেষ্টা করেছি..
চেষ্টা করলেও অনেক সময় অনেক কিছুই ঠিক ঠাক মত হয় না, আমার ক্ষেত্রেও হয় নি! হঠাত হঠাত মূল কবিতার সাথে দৃশ্যমান দূরত্ব তৈরি হয়েছে; যার পুরো দায় দায়িত্ব আসলে অনুবাদকালীন সময় আর তখনকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার! নিরব, নিঝুম শীতের রাত, আলো-ঝলমলে শহর ততক্ষণে গাঢ় ঘুমে। বাইরে হয়তো কাচগুড়োর মতন শিশির কোমল করে তুলছে ইট-পাথরের নিষ্ঠুর দালানগুলোকে। হয়তো কুয়াশায় হারিয়ে যাওয়া ঢাকার রাজপথে তখন সত্যি সত্যিই হেটে চলেছিলো এমন একজন- রাত্রির সাথে যার পরিচয়....

এমন সব চিত্রকল্প যখন মাথার ভেতর প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়ায়, তখন অনুবাদ/ রূপান্তরের ধ্রুপদী ব্যাকরণে আটকে থাকাটা নিশ্চিতভাবেই বড় কঠিন ! সম্মানিত পাঠক আমার মেধার দুর্বলতা এবং অপরিপক্বতাকে ক্ষমা করবেন।

আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক!]


খুব বেশিদিন হয় নি- তবু মনে হয় অনন্তকাল ধরেই যেন রাত্রির সাথে আমার পরিচয়। টিপটিপ বৃষ্টিতে সেরকম এক রাতেই ঘর ছেড়ে বেরিয়েছিলাম। ক্লান্ত পায়ে আবার যখন ফিরে এলাম ঘরে- বৃষ্টি তখনো ঝরছে- ক্লান্তিহীন, একটানা! আবার বেরুলাম- এবারের গন্তব্য অজানা, হয়তো শহর পেরিয়ে দূরে কোথাও- রাজপথের শেষ সীমায় যে নিঃসংগ সোডিয়াম লাইটটা তার সোনালী হলুদ দুঃখ বিলিয়ে চলেছে- তারো দূরে.....

নৈশপ্রহরীদের ছোট্ট দলটির সাথে দেখা হোল গলিটা পার হয়ে আসার পর। এই শহরের সবচেয়ে বিষণ্ণ সে গলির আশেপাশেই ছিলো তারা। আমি লোকগুলোকে দেখে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলাম। চোখাচোখি হওয়া মানেই কৌতূহল, আর কৌতূহল মানেই প্রশ্ন প্রশ্ন খেলা। ইদানীং আর এসব খেলা খেলতে ভালো লাগে না...

আরো খানিকটা পথ নিভৃতে পেরিয়ে আসার পর ব্যার্থ আহবানের মত কারো একটা কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম আমি। মনটা হঠাতই কেমন চঞ্চল হয়ে উঠলো, গভীর আগ্রহ আর ছেলেমানুষি এক আশা নিয়ে কান পাতলাম- কেউ কি কাদছে তবে আমার জন্য? ব্যাকুল হয়ে ডাকছে, অপেক্ষা করে আছে এই আমি ঘরে ফিরে যাবো বলে??

"কেউ কি আমাকে বিদায় দেবে না"- আমি ব্যথিত স্বরে বলে উঠি, কিন্তু কোন উত্তর পাই না, শুধু মহাজাগতিক সময়কে বয়ে নিয়ে চলা এক শ্রান্তিহীন গতির পিপীলিকার দেখা পাই- আমার মতই যে হেটে হেটে চলেছে বহুদূর, বিরতিহীন! আমাকে দেখে বোধহয় তার মায়া হোল, সে আমাকে উপদেশ দিল এক অনির্দিষ্ট অপেক্ষার; অস্পষ্ট গলায় বললো- "সময় এখনো আসে নি..."

আমি হাটছি আর হাটছি। ক্লান্তি আমাকে গ্রাস করে চলেছে। অগুনতি কত যুগ কিংবা কত শতাব্দী ধরে আমায় অপেক্ষা করে যেতে হবে আমি জানি না, শুধু জানি-
একাকী রাতের কোন এক নির্জন অন্ধকারের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে...

মূল কবিতাঃ

I have been one acquainted with the night.
I have walked out in rain—and back in rain.
I have outwalked the furthest city light.

I have looked down the saddest city lane.
I have passed by the watchman on his beat
And dropped my eyes, unwilling to explain.

I have stood still and stopped the sound of feet
When far away an interrupted cry
Came over houses from another street,

But not to call me back or say good-bye;
And further still at an unearthly height,
One luminary clock against the sky

Proclaimed the time was neither wrong nor right.
I have been one acquainted with the night.

-- Robert Frost (March 26, 1874 – January 29, 1963)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩৬
১৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পঁই পঁই করে হিসাব রাখতে হবে, নতুবা বিপদে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪

আমরা ক'জনা বেশ কিছুদিন আগে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রথমেই একজনকে হিসাবের সব দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিয়েছিলাম মার্কেটিং ও টেকনিক্যাল সাইড গুলির দ্বায়িত্ব। সৌদীতে অনেক POS রেডিমেড পাওয়া গেলেও আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৫

'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×