somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

#রম্যগল্পঃ "কালোজাদু"

০৫ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৮:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


=================

সুমনাকে আমি খুব পছন্দ করতাম, কয়েকবার আকারে ইঙ্গিতে বলেছিও। কিন্তু ঐ মেয়ে মহা ধুরন্দর। সাবানের মত পিছলে গেছে।

অবশ্য সুমনা দেখতেও সাবানের মতই। উজ্জ্বল ফর্সা গায়ের রঙ, সবসময় কি একটা লোশন মেখে ইউনিভার্সিটিতে আসে দেখে ওর আশপাশ দিয়ে হাটলে খুব চমৎকার একটা গন্ধ পাওয়া যায়। সমস্যার মধ্যে একটা হলো ও ইদানিং ফুলে গোল হয়ে যাচ্ছে সাবানের মত। একদিন ওকে কথায় কথায় এটা বলতেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো-

"কত্ত বড় সাহস তোর, তুই আমাকে সাবানের মত গোল বলিস ! তুই নিজে কি ! তুই নিজেও তো দেখতে সাবানের মত। ঐ যে গুয়ের সাবানগুলো আছে না, যেগুলা ব্যবহার করতে করতে লম্বা হয়ে যায়- ঐরকম......"

যাই হোক- ভিন্ন প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছি। আমি যতবার সুমনাকে আমার মনের কথাটুকু বলতে চেয়েছি- এই মেয়ে না বোঝার ভান করে পিছলে গেছে। তাই একবার ভাবলাম- ওকে যাদু করবো। কার্জন হলের পাশের খাম্বাটায় এক বিরাট তান্ত্রিক সাধুর নাম দেখেছিলাম। উনি "ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ কামাখ্যা" থেকে তন্ত্রের ওপর পিএইচডি করে এসেছেন। রবিবার ক্লাস ফাকি দিয়ে গিয়ে উনার সাথে পরিচিত হলাম......

"ও, এটা কোন ব্যাপারই না"- উনি সব শুনেটুনে বললেন- "আমি একটা মন্ত্রপড়া রসুন দিয়ে দিচ্ছি। এটা নিয়ে ঐ মেয়েকে খাওয়াস।"

পরেরদিন আমি সুমনাকে চটপটি খাওয়ানোর ভান করে রসুনটুকু খাইয়ে দিলাম। সুমনা শুধু একবার ফুচকাওয়ালা মামাকে বলেছিলো- "মামা, চটপটিতে কেমন একটা রসুন রসুন গন্ধ যেনো। এই তুই পাচ্ছিস?"

"কেম্নে পাবো, আমি আমার নাক আজকে বাসায় রাইখা আসছি হা হা হা......" আমি একটা বিকট রসিকতা করে ওর প্রশ্নটুকু এড়িয়ে যেতে চাইলাম।

ফুচকাওয়ালা মামাকে আমি আগেই পান খাওয়ার জন্য একশ টাকা দিয়ে বলেছিলাম সুমনার চটপটিতে যেনো রসুন মিশিয়ে রাখে। আমার রসিকতায় দেখলাম ফুচকাওয়ালা মামাও হাসছে। এই "সহমত হাসির" জন্য উনি আরো পঞ্চাশ টাকা দাবী করেছিলেন পরে......

যাই হোক- এর পরের দুই দিন সুমনা ইউনিভার্সিটিতে এলো না। আমি বুক ধুকপুক নিয়ে ওর আগমনের অপেক্ষা করছিলাম। আহ, শেষ পর্যন্ত সত্যি সত্যি সুমনা তাহলে আমার হতে চলেছে ! এই দুই দিন না জানি- শয়নে স্বপনে, ঘুমে জাগরণে মেয়েটা আমার কথা কতবার ভেবেছে ! আমার আর তর সইছিলো না।

তৃতীয় দিনের দিন সুমনা এসে আমাকে জানালো- ঐদিন চটপটি খেয়ে বাসায় যাওয়ার পর থেকে ওর নাকি প্রচন্ড ডায়রিয়া শুরু হয়। এ জন্যেই ভার্সিটি আসতে পারে নি এই দুই দিন। আমার প্রতি ভালোবাসা জাগা তো দূরের কথা- আমার সাথে দেখা হওয়ার পর যাচ্ছেতাই বলে গালাগালি করলো। বললো- আর জীবনেও নাকি ঐ মামার কাছ থেকে চটপটি খাবে না ইত্যাদি......

আমি মনমরা ভাব নিয়ে তান্ত্রিক বাবার কাছে সবকিছু খুলে বললাম। উনি গম্ভীরভাবে সব শুনেটুনে জানালেন-
"মন খারাপ করিস না, এবার এমন জাদু করবো- ঐ মেয়ের বাপ মা সহ তোর পেছন পেছন ঘুরবে......তুই শুধু আমাকে ঐ মেয়ে আর ওর বাপ-মার কয়েকটা চুল জোগাড় করে দিবি......"

আন্টি আর সুমনার চুল জোগাড় করাটা কোন বিষয় না, ওদের বাসাতে আমি প্রায়ই যেতাম। কোন না কোন একটা ব্যবস্থা হয়েই যাবে। সমস্যা বাধবে আংকেলকে নিয়ে। উনার মাথায় বিরাট এক টাক। মরুভূমিতে আমি ঘাস পাবো কই- এই চিন্তায় চিন্তায় আমি শুকিয়ে যেতে লাগলাম।

চুলপড়া প্যাকেজেরদাম ছিলো একশ টাকা। আমি আরো পঞ্চাশ টাকা দিয়ে তান্ত্রিক বাবার সাথে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং এ এলাম। উনাকে বললাম- "আংকেলের শরীর পিওর কাশ্মিরী উলের কম্বল দিয়ে বানানো। প্রচুর লোম লোকটার গায়ে। মাথার চুলের বদলে আমি আপনাকে উনার বুকের লোম জোগাড় করে দিচ্ছি।"

এরপরদিন সুমনাকে বললাম- "তোর আব্বার টাওয়েল থেকে উনার একটা দু'টো লোম জোগাড় করে দিতে পারবি?"
আমার কথা শুনে সুমনা খুবই বিরক্ত হলো। আমি অন্যদিকে তাকিয়ে বললাম- "আমার hobby মানুষের লোম জমানো।"
"এগুলো কি ধরণের বিশ্রী হবি সাখাওয়াত !"

অবশ্য আমার 'হবি'(!) নিয়ে নাক কুচকালেও সুমনা ওর আব্বার কয়েকটা লোম এনে দিলো। তান্ত্রিক বাবা কি করলো জানি না- কিন্তু এর পরদিনই শুনলাম আমাদের ক্লাসের ফাস্ট বয় আবির নাকি সুমনাকে প্রপোজ করেছে। সুমনাও নাকি রাজি হয়ে গেছে । কি একটা বাজে অবস্থা !

আমার মনে হলো- টাওয়েলে তো মানুষের সারা শরীরের লোম ছুটে একটা দু'টো লেগে থাকে। সুমনা নিশ্চই ওর বাবার বুকের লোমের বদলে পাছার লোম এনে দিয়েছিলো। তা না হলে এমন হবে কেন! তান্ত্রিক বাবাও একমত হলেন আমার সাথে, বিড়বিড় করে বললেন- "তোর মাথা পরিষ্কার। তুই আমার সুপারভিশনে পিএইচডি করবি?"

সেই থেকে মাসে দুইশ টাকা স্কলারশিপে তান্ত্রিক বাবার সাথেই আছি। উনার কাছ থেকে বাণ মারা শিখছি। আমার পরবর্তী টার্গেট সুমনাকে বাণ মেরে বশে আনা। দেখা যাক কি হয় !
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৮:১৪
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×