কোনো “প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা” কি পাচ্ছে “মুক্তিযোদ্ধার” প্রকৃত সম্মান ???
শিরিন বানু মিতিল প্রশিক্ষণ শেষে মেজর জলিলের নেতৃত্বে পরিচালিত ৯ নং সেক্টরে যোগ দেন।
দুঃসাহসী এ মুক্তিযোদ্ধার (শিরিন বানু মিতিলের) অবদান ও সাহসিকতা সর্বজন স্বীকৃত। পাবনার মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধে তার অংশগ্রহণ ও অবদান নিয়ে কোনো প্রশ্ন না থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে দীর্ঘদিন বন্ধ করে রাখা হয়েছে তার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্থগিত করে রাখা হয়েছে তার নাম।
বাবা-মা দু’জনই বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। মাতমহ খান বাহাদুর ওয়াসিম উদ্দিন আহমেদের রাজনৈতিক আদর্শ মিতিলকে প্রভাবিত করে। জেলা ছাত্র ইউনিয়নে সভাপতি পদের কারণে শিরিন বানুকে বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর অনন্য সাধারণ মা সেলিনা বানু বলেছিলেন ‘ঘরে বসে মরার জন্য জন্ম দেইনি তোদের। ঘরের বের হয়ে একটা কিছু কর দেশের জন্য।’ বড় খালা এবং ফুফু বলেছিলেন ‘যুদ্ধে যাচ্ছ যাও তবে তোমাদের পিঠে যেন গুলি না লাগে।’ মামাত ভাই জিদান বলেছিলেন, ‘তুমি প্রীতিলতার মতো শার্ট-প্যান্ট পরে যুদ্ধে যেতে পারো।’ এই সব কথা মিতিলের চেতনায় অমিয়বাণীর মতো ধ্বনিত হয়।
পাবনার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কিত প্রায় প্রতিটি গ্রন্থ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণায় তার গৌরবগাঁথা উচ্চারিত হলেও অজ্ঞাত কারণে জেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়নে সংযুক্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে নেই তার নাম ও অবদানের কথা।
দেশ স্বাধীন হলে ১৯৭২ সালে তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ায় পড়তে যান। সেখানকার পিপলস ফেন্ডশিপ ইউনিভারসিটি অব রাশিয়ায় পড়া শেষে ১৯৮০ সালে দেশে ফেরেন তিনি। এর মধ্যে ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা শহরের কাটাবিল’র মাসুদুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
শিরিন বানু বেসরকারি সংস্থা পিআরআইপি ট্রাস্টের (PRIP Trust) ‘জেন্ডার অ্যান্ড গভার্নেন্স’ বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চাইল্ড অ্যান্ড মাদার কেয়ার (CMC) নামে একটি সেবাকেন্দ্রের সঙ্গেও বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৫ সালে ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী কমলা ভাসিনের নেতৃত্বে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সহ সংগ্রামী নারীর যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশের ১৬ জনের মধ্যে শিরিন বানুও ছিলেন।
(???????)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




