বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ ১০০ মিটার দৌড় বা ১,০০০ মিটার রিলে রেস ছিলো না - যে কারো বাঁশির হোইসেলে শুরু হোলা আর নির্দিষ্ট গন্তব্যে গিয়ে শেষ হয়ে গেল !
শের ই বাংলা, সোহরাওয়াদীর্, ভাষানি, মনি সিং, মোজাফফর, মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ, মোহাম্মদ আলি, তোয়াহা, মতিন, আলাউদ্দিন, সিরাজ শিকদার প্রমুখ যতো প্রবীন নবীন নেতা ছিলেন কেউ ই বাঙালির স্বাধিনতা ও স্বার্বভৌম সম্পর্কে দৃঢ় চিত্ত ও সংশয় মুক্ত ছিলেন না ! কেউ ই নির্লোভ ও নির্মোহ ছিলেন না !
মন্ত্রীত্ব পেলে লোভ সংবরণ করেননি শের ই বাংলা - সোহরাওয়ার্দী !
একমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যতিক্রম !
তিনি মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করে আটষট্টি হাজার গ্রাম ঘুরে ঘুরে -
বাঙলার মানুষকে স্বাধিনতার মন্ত্রে এমন ভাবে উজ্জিবিত করেছেন যে -
তিনি নিজেও যদি ১৯৭১ এর মার্চে বলতেন - তোমরা পাকিস্থানি হানাদারদের বিরুদ্ধে কিছু কোরো না !
তাও তিনি থামাতে পারতেন না !
তার প্রমান ০২ মার্চ ১৯৭১ এ স্বাধিন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলোন !
তখন facebook ছিলো না -ই মেইল- Mobile ছিলো না -
সারা বাংলায় সে পতাকা কি করে ভরে গেলো রাতারাতি !
মার্চ ০৩, ১৯৭১ পল্টন ময়দানে লক্ষ জনতার সামনে স্বাধিনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হলো !
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দলে মিঠিল !
সচিবালয় কর্মকর্তারা ৩২ নং ধানমন্ডি থেকে নির্দেশনা নিয়ে অফিস যায় !
অফিস শেষে ৩২ নং হয়ে নতুন নির্দেশ চায় !
রাজপথে ছাত্র ছাত্রীদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণের মহড়া !
সারা দেশে এক চিত্র !
কি ভাবে সারা দেশ চলতো তখোন ?
মোবাইল ছিলো না ! ই মেইল ছিলো না !
টি ভি ছিলো হাতে গোনা !
জেলা শহরে ফোন ছিলো তিন অংকের বা দুই সংখ্যার !
ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে মার্চের প্রথম থেকে বা ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে !
অর্থাত্ জাতীয় সংসদ অধিবেশন নিয়ে টাল বাহানার শুরুতেই বাঙালি নিশ্চিত হয়ে যায় - জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বাধীনতা মন্ত্রের বিকল্প নেই !
স্বাধিনতার পক্ষের অন্যান্য দলের কোনো নেতারা কি জাতির পিতার মতো করে নিশ্চত নির্দেশ দিয়েছেন অনুসারিদের -
সকলে এই ঠিকানাটা মুখস্ত করে রাখবেন -
সব আমি বলে রেখেছি -
সব আমি ঠিক করে রেখেছি -
চিত্ত রঞ্জন সুতারের বাসা "চন্দ্রশীল" -
২১ রাজেন্দ্র রোড -
নর্দান পার্ক -
ভবানিপুর !
১৮ মার্চ ১৯৭১ জাতির পিতা নেতৃবৃন্দকে এই নির্দেশনা দেন !
এতো কিছুর পরেও যারা বলতে চায় স্বাধিনতার জন্যে তাঁদের অনেক ভূমিকা - অবদান ! কারো ঘোষণা না হলে নাকি দেশ স্বাধিনই হোতো না- সেই সকল ডক্টরেটরা আহম্মকের স্বর্গে বাস করলেও আমি করি না -
তাঁদের উদ্দেশ্যে আমার বক্তব্যঃ
রান্নার সকল কৃতিত্ব বাবুর্চির !
কে মশলা ফেসে ? কে পানি টানে ? কে আগুণ ফু দিয়ে ধরায় ?
কে গামছা নিয়ে দাড়িয়ে থাকে বাবুর্চির হাত মোছার জন্যে ?
কে চেখে দেখেছে মাংসের লবন ঠিক হোলো কি না ?
কে চেখে দেখেছে ফিন্নিতে চিনি আরো দরকার কি না ?
এদের কথা কেউ বলে না !
এদের কেউ খোজেও না !
ভালো রান্না হলে তাঁর (বাবুর্চির) প্রশংসা !
রান্না খারাপ হলেও তারই (বাবুর্চির) বদনাম বা নিন্দা !
পানি কে টেনেছে নারী না পুরুষ ? কেউ তাঁদের খোঁজে না !
তবে তাঁদের অবদান কেউ অস্বীকার করে না ।
তাঁরা সব কৃতিত্ব দাবি করলে কেউ মানবে কি ?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ৯:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



