আমি কিছুদিন আগে যোগাযোগ করলাম এডমিনের সাথে, বিষয় ঃ লেখা পাঠানো এবং বিবর্তনের পাতায় ছাপার অক্ষরে তা দেখতে পাওয়া। কত কষ্ট করে, কেষ্ট ব্যাটাকে ধরে-টরে লিখলাম। ওমা, এডমিন সাহেবের কোন পাত্তাই নেই। ভাবলাম ডাক্তার মানুষ হয়তো, ছুরি-কাঁচি নিয়ে ন্যাশনাল থিয়েটার ছেড়ে অপারেশন থিয়েটারের রুগীর রোগের রেশনের সব্বোনাশে ব্যস্ত বিধায় এই কাল বিলম্ব। কিন্ত কীসের কি! হপ্তা যায়, দিন যায়, ঘন্টা যায়, মিনিট যায় এমনকি সেকেন্ডও যায় - আমি ফেরত চিঠির আশায় ডাক পিয়নের পথ চেয়ে বসে থাকি। ডাক পিয়ন আর আসে না, আমার লেখাও আর ছাপার অক্ষরে জ্বলজ্বল করে না!
একবার ভাবি এই দুঃখে, লাজ লজ্জার মাথায় বেসবল ব্যাটের একটা জম্পেশ বাড়ি দিয়ে সুইসাইড খাই। কিন্ত সেফ সাইড থেকে বাঁধ সাধে কয়েকদিন আগের ঘটনা।
তখন পৌষ মাষ, কার স্বপ্নে যে হয়েছিলো আমার ঘুমের নাশ। এক শনিবার দিন, সেই ময়ূর ডাকা ভোরে ঘুম ভাঙার পর মনে হলো পেটের ভেতর হ্যানা-বারবারা দৌড়াচ্ছে। সূধীজনের জন্য বলি, এই হ্যানা-বারবারা মানে হলো বিখ্যাত কার্টুন, "ইন্দুর-বিলাই রেস"। তো যাইহোক, ইন্দুর-বিলাই রেসের শেষ হুঁইসেল বাজার আগেই জামা পড়ে অনতিদূরে ম্যাকুস মামার দোকানে দিলাম হানা। উদ্দেশ্য পরিষ্কার, একটা এগমাফিন সাথে কিছু আলু ভাজি, আর পানীয় হিসেবে যেহেতু কফি খাওয়া রহিত করে রেখেছি, সুতরাং কোলা জাতীয় কিছুই সম্বল। শিষ বাজিয়ে, দুলতে দুলতে এগুচ্ছি, পথে বাজলো গ্যাড়াকল!
পুলিশের সবুজ রঙের গাড়ি থেমে আছে সামনে। এই সাত সকালে এ আবার কীসের আলামত? সামনে এগুতেই দেখলাম সোয়াট টীমের আনাগোনা- লে হালুয়া। গায়ের রঙ তামাটে, সারা রাত ঘুমের সাথে যুদ্ধ চেহারা মুবারক বিপর্যস্ত, মুখে প্রশান্তির শিষ, এই অবস্থায় নিজেকে কোমরে দড়ি বাঁধা আবিষ্কার করে ফেল্লেও আশ্চর্য হবার কিছু নেই। একবার ভাবলাম পিতৃ প্রদত্ত একটা মাত্র জান বাঁচাতে দেই একটা দৌড়-
কী ভেবে উলটা দৌড় না দিয়ে এগিয়ে গেলাম সামনে। সুন্দরী পুলিশ কর্মীটির দিকে তাকিয়ে একটা গ্লুকোজ হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কাহিনী কি! মহিলা যা বয়ান করল্লেন তা নিম্নরূপঃ
"ভোর 6 ঘটিকা। জনৈক ভদ্রলোক, আত্মহননের হীন উদ্দেশ্যে সব প্রক্রিয়া সমাপন করছেন। এমতাবস্থায় তিনি আবিস্কার করিলেন তাহার নিবাসের ঠিক উল্টা দিকে ফটোপ্রস্টের (ক্যামেরা এবং এ জাতীয় জিনিষের খুব জম্পেশ সমাহার আছে দোকানটাতে) দোকানের সামনে কে বা কাহারা সন্দেহজনক বিচরণ করিতেছে। মুহুর্তের মাঝেই সন্দেহজনকদের মাঝ হইতে দুইজন ফটোপ্রোস্টের দরোজা ভাঙিয়া ভিতরে তশরীফ লইয়া ফেলিলেন। সাথে সাথেই বিকট শব্দে এলার্ম বাজিয়া উঠিলো, সেইদিকে ভ্রি-ক্ষেপ না করিয়া সন্দেহজনকদের বাকীরাও ভেতরে প্রবেশ করিলো। আত্মহননে উদ্বুদ্ধ ব্যক্তি নিজেকে হননের কথা ভুলিয়া গিয়া সিভিক সেন্সের বশবর্তী হইয়া '110' ডায়াল করিয়া পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করিলো। পুলিশ আসিয়া উক্ত জায়গা ঘিরিয়া ফেলিলো।
ইতোমধ্যে ফটোপ্রোস্টে অভিযান চালাইয়া বীর ডাকাতেরা পাশের বাড়ির (ভাগ্য ভালো ঐ বাড়িতে কোন সুদর্শনাকে দেখিয়া তাহাদের কবি প্রতিভা জাগরিত হয় নাই) ছাদ ডিঙাইয়া, নিচের ঘরের কাঁচের দরোজা ভাঙিয়া যেইনা বের হইয়াছে, অমনি "যাইবা কই চান্দু" বলিয়া সাতজন স্পেশাল পুলিশের একখানি দল তিনজনকে পাকড়াও করিয়া ফেলিলো। তবে এইসকল ডামাডোলের ফাঁকতালে একজন ভাগিতে সক্ষম হইয়া গেলো এবং এখন এই ভাগিয়া যাওয়া জনকেই ধরিবার অভিপ্রায়ে মাথার ওপরে হেলিকপ্টারের ঘটঘট আওয়াজে কর্ণকূহর ছিন্নভিন্ন হইবার দশা"।
কী জন্যে যেনো গল্পটার অবতাড়না করেছিলাম মনে পড়ছে না এখন আর। যাইহোক, আমি মনোযোগ দিয়ে সুন্দরী পুলিশ কর্মীটির ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ শুনে ভাবলাম, আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর নেওয়া হয়ে যাচ্ছে। একটা সুন্দর ধন্যবাদ দিয়ে মাকুস মামার দোকানের দিকে পা বাড়ালাম ভুখা আমি।
পরে শুনেছিলাম সেই আত্মহননকারীকেও পুলিশ ছাড়েনি, পাকড়াও করে তাকে চ্যাঙদোলা করে থানায় নিয়ে গেছে। ব্যাটার অপরাধ ছিলো "এই সাত সকালে আত্মহনন করতে গেলা ক্যান"? এইবার তোমার আত্মহনন করার অভিপ্রায়ের কারণ দর্শাও চান্দু!
লও, এ্যালা ঠ্যালা সামলাও!
------------
একটা অনলাইন ফোরামের জন্য লেখা
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



