কয়েকদিন আগে মার্গারেট নামে এক বৃদ্ধার সাথে কথা হচ্ছিল। আমার প্রাথমিক ধারণা মতে সে ছিলো এক বদমেজাজী, বিদঘুটে, পানলিপ্সু মহিলা। কিন্ত যখন কথা হলো, বুঝলাম তার একমাত্র ছেলে যে একটা জার্মান টিভি চ্যানেলের টেকনিক্যাল অপারেটর, আর একমাত্র মেয়ে যে কিনা হল্যান্ডে পড়াশুনা করতে গিয়ে লা-পাত্তা। মার্গারেটের অভিযোগ, তার মেয়ে ভুল মানুষের সাথে প্রেমে পড়েছে যে কিনা তাকে ব্যবহার করছে কেবল। মার্গারেট নিজে তাকে ফোন করে, মেয়ে কখনোই না।
আমি এক পর্যায়ে বল্লাম, তুমি পান করো কেনো? ওর একটা হাত ধরলাম.... মার্গারেট নিজেকে সামাল দিতে পারলোনা আর। কেঁদে ফেললো, বললো, তুমি জানোনা আমি কতো একা, আর এই একাকীত্ব থেকে, একাকীত্বের যন্ত্রনা থেকে বাচার জন্য আমি পান করি..... আমার আর কোন উপায় নেই যে।
আমি কিছু বলতে যেয়েও আর কথা বাড়াতে পারিনি। অবাক হয়ে শুরু তার দুচোখ বেয়ে অশ্রু ঝরা দেখেছি.... ওর বয়সের ভারে কুঁচকে যাওয়া চামড়ার হাত দুটু আমার হাতে শক্ত করে ধরে, অসহায় বোধ করেছি, ছটফট করেছি ওর জন্যে কিছু না করতে পারার মানসিক অস্বস্থিতে.....। তবুও সময় কেটে যায়, তবুও জীবন বয়ে চলে..... তার নিজস্ব নিয়মে....। যেমনটা বয়ে যাচ্ছে মার্গারেটের..... যেমনটা আমাদের....। মার্গারেটের একাকীত্ব যেনো আমাকেও বুঝিয়ে দিতে চাইলো, "সব কিছুর মাঝে আমিও কতো একা, কতো নি:সঙ্গ এই আমি....."।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


