somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাক দিয়েছ কনকচাঁপা

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৯:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বয়েস ঠিক কত হলে ভালবাসা নামক অনুভূতিটা মানুষের মনে জাগ্রত হয়, তা জানি না । তবে বিশ বছর বয়সে আমি প্রথম ভালবাসার অস্তিত্ব অনুভব করেছিলাম। তা কোনো মানব বা মানবীর ডাকে নয়, বরং আমাকে ভুলিয়েছিল বুনোফুলের গন্ধ। একটু একটু করে ওই গন্ধ প্রবেশ করেছে আমার মনের গভীর থেকে আরো গভীরে। হলদে ফুলের কোমল রূপ আর মিষ্টি ঘ্রাণ আমাকে করেছে মোহিত, মুগ্ধ। তাই তো আমি ওকে ডেকেছি ‘কনকচাঁপা’ নামে। কনকচাঁপাই প্রথম আমার জন্য সাজিয়েছিল ভালবাসার আরতি। ওর মায়াময় আহ্বানে আমার হৃদয়ে নববসন্ত জেগেছিল, গেয়ে উঠেছিল কোকিল পাখি আর স্বপ্নগুলো রঙিন হয়েছিল কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ও পলাশের রক্তিমতায়। আমি ওর সরল মনের গল্পমুখরতায় মিশে গেছি নির্ভয় উচ্ছ্বাসে।

: কনকচাঁপার গন্ধ-ছোঁওয়া বনের অন্ধকারে
সন্ধ্যা কাটে, কাব্য খোঁজে ছন্দ বারে বারে
ছন্দ পেয়ে মন যে খোঁজে গন্ধভেজা নাম
কনকচাঁপা বলেই আজি তোমাকে ডাকলাম।
: সাঁঝের মায়ায় কনকচাঁপাই হলাম না-হয় আজ
দারুণ তোমার কথার কারুকাজ
সুয্যি নামটি তোমার জন্য কালোর বিপরীত
যার আলোতে অন্ধকারে চাঁদ এত সুন্দর!
: আলোয় না-হয় পুরো আকাশ রাঙিয়ে দিলাম ভোরে
কিন্ত শোনো তোমার থেকে সুয্যি তো খুব দূরে!
: মিথ্যে কথা, সুয্যি দেখি ঘুমোয় মেঘের পাশে
হাত বাড়ালেই জানালা দিয়ে বাসায় চলে আসে।
: ঝরাপাতায় চড়ে যদি আমি তোমার ঘরে
কী বলবে তারপরে?
: তোমার ছোঁয়ায় বাধার প্রাচীন আঁধার যেন কাটে
মনন, চেতন ঋদ্ধ করো দীঘল চারুপাঠে
মহৎ জীবন, দীপ্ত স্বপন গড়ো ভালোয় ভালোয়
লোকের মনও ভরিয়ে দিয়ো ভালবাসার আলোয়।
: চাইছ যখন হারিয়ে না-যাই ভ্রান্তি বেড়াজালে
করব আঘাত হাজার যুগের আঁধার নায়ের পালে
আলোয় মোড়া সত্যিকারের দীপ্র মানুষ হব
চিরটাকাল তোমার উদার আকাশ মাঝে রব।
: স্বপ্নগুলো পূর্ণতা পাক তব।

প্রেমের প্রথম দিনগুলি কেটে গেছে খুব দ্রুত, অবচেতনে। তবে মনের ভেতরের নিস্তরঙ্গ বোধ ঘুচে গেছে চিরতরে, সবখানে জেগেছে সুখময়তার ঝলমলে ঢেউ। আমি দু’চোখের কোণে মেখেছি লাল-নীল জরি। কথকতায়, আলাপনে, লুকোচুরি, গানে-গানে এরই মধ্যে জীবনতরী অনেক পথ বয়ে গেছে। তবু নিত্য ওর ভাবনা আমার চিত্তে দিয়ে যায় মায়ার দোলা।



কনকচাঁপা আমাকে ভালবাসে কি না বুঝি না তবে সে আমার কাছাকাছি ছিল বিকেল, সন্ধ্যা এবং রাত্রির সবক্ষণে, সবখানে। ওখনও সাতসকাল, সারা দুপুর জুড়ে ও আমার পাশে থাকে। আচ্ছা, ভালবাসা কি শুধু বলে-কয়ে, ঘোষণা দিয়ে হয়? নিভৃতে, গোপনে কারো হাত ধরে পথহাঁটা যায় না? আমি বলি- যায়। না-জানুক তবু ও আমার অনেক প্রিয়, অনেক আপন। কনকচাঁপাকে আমি কোনো সীমিত বৃত্তে বাঁধতে চাইনি, চাই না। ও ঘুরে বেড়াক বৃক্ষের শাখায় শাখায়, পাখির নীলাভ পাখায়, প্রকৃতির উদার রাজ্যে। ইচ্ছে মতোন ও গায়ে মাখুক ভোরের শিশির, ঠাণ্ডা বাতাস কিংবা ফুলের রেণু।

মনে মনে, কানে কানে কিংবা মুঠোফোনে ওর সঙ্গে প্রায়ই কথা হয়, তবু কখনও বলিনি, বলব না- ভালবাসি। হোক অপ্রকাশিত, তবু এ ভালবাসা চিরদিনের, চিরকালের। ওর দীপ্ত উপস্থিতি সতত মূর্ত আমার মনের দৃষ্টিসীমায়।
কনকচাঁপা অবয়বে পুরোটা নারীর মতোই। তবে ওকে আমার মনে হয় যেন কোনো সুশোভিত ফুল কিংবা বহতা নদী। ওর অজানা রঙ-গন্ধ আছে, আছে পাপড়ি-বৃতির সৌন্দর্য। নদীর মতো ওর চলার ছন্দও আছে। যেমন আছে ভরা জোয়ারের বান, তেমনি ভাটার টান। তাই ওকে আমি খুঁজি-ফিরি নদীর প্রবহণে, পুষ্পের কোমলতায়।

দেখতে দেখতে দিন চলে গেছে বহু দূর। সময়ের প্রয়োজনে কিংবা জীবনের আয়োজনে আমিও কিছুটা দূরে। তবে থেমে নেই চির প্রবহমাণ কালের চাকার আবর্তন। সে ছুটছে আর ছুটছে। সময়ের সাথে এমনি করে কনকচাঁপা তার নিজ পথ ধরে হেঁটে যাবে। আমিও হাঁটতে থাকব আমার ভূবনপথে। তবু দেখা হবে. কথা হবে। দু’জনে মুখোমুখি হব ভোরের সূর্যোদয়ে, জমাট শিশিরের শুভ্রতায় চলতি পথে, শান্ত নদীর তীরে কিংবা দূর পাহাড়ের ছায়ায় জেগে-ওঠা ছোট্ট সবুজ গাঁয়ে। রাখালিয়া বাঁশির সুরে কোনো এক মোহনীয় বিকেলে মনে পড়ে যাবে এইসব স্মৃতির-প্রীতির কাব্য। পূর্ণিমা চাঁদের আলোয় কিংবা রুপোলি তারা-ভরা রাতে দু’জনে সুর করে গাইব হারানো দিনের গান। শেষরাত্রির ঝিঁঝিঁ-ডাকা নিঃস্তব্ধ ক্ষণেও কনকচাঁপা আমারই থাকবে।

(জাহিদ রুমান)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৬ রাত ৯:৪৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গরীবের বউ সবার ভাবি

লিখেছেন অপলক , ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০২



৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২


একুশটি বার মৃত্যুর মুখোমুখি: এক অবিনশ্বর সংগ্রামের নাম শেখ হাসিনা
শুধু ২১ আগস্টের সেই ভয়াল গ্রেনেড হামলাই নয- বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯৮৮ সাল থেকে আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×