
সেদিন এক বসন্তে রুপকের ভাবির সাথে দেখা। সব ফেলে জানতে চাইলাম, কেমন আছে। ভণ্ডামির চূড়ান্ত করে বললো, “তোমার কি তাতে ? সে তো মরেনি ভাতে”। আমি তাজ্জবের রেখা ছেড়ে সোজা পথ ধরলাম। দু’চার ঘটি জল পান করেছিলাম তাতে কি এমন হয়েছিলো !তুবড়ি দিয়ে সব উড়িয়ে দিয়েছিল। কারো বাড়া ভাতে তো আর ছাই দেইনি। সেই ইচ্ছেও ছিল না কোনদিন। তবু কোথা থেকে যেন সহস্র বয়সের অজগর এসে পেঁচিয়েছিল। গিলে নিচ্ছিল আমার রাত-দিন। আবার গিলছিল, ওগরাচ্ছিলো আমাকে যখন তখন। এই যখন অবস্থা তখন না ছেড়ে আমি কোথায় যেতুম ? কলি দি তো সেই কবে থেকেই আমার উপর মহা ক্ষ্যাপা। কেন বেরুচ্ছিনা ওই কুয়া থেকে, ছাড়ছি না জংলীটাকে। কি বলে বোঝাই, মাথার উপর যার আকাশ থাকে না তার পায়ের তলার মাটি- মাটির ভেতরে কি-না সে কী করে বুঝবে? জন্মাবধি যে দেখেইনি সূর্যের আলো কোন কালে সে কি করে বুঝবে তার উত্তাপ !যাক, সেই দিন গত হয়েছে অনেক হল। এখন সময় ফোঁড়ে সকাল-সন্ধ্যা একাল সেকালের হাত নাড়ে। বাড়ছে বয়স, কত হল ? কে জানে রকমারি ছাঁচে তার কি রূপ বেরোয় ! ডুবে ডুবে ডুব দেবার যে কি আছে তা ভেবে পাইনে। ওগো জলের মাছ, খোলা বাতাসে আগে প্রাণ খুলে শ্বাস নিতে শেখ। তারপর বুঝবে ডুব দেবার মজা কি। সংসারে সমুদ্রে আমরা তো সকলেই মাছ। কতক থাকে ডুবেই, কতক মাঝে মাঝে ভাসে, কিন্তু বাতাসে শ্বাস নিতে পারে কয়জনা ?!

সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৩:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



