সুমি সহজ হতে পারছেনা দেখে সজিব তাকে সহজ করার উদ্যোগ নেয়। বুকের কাছাকাছি এসে দাঁড়ায়। সুমি শিহরিত হয়, তার ভিতরে ভাংচুর হতে থাকে সজিব সেটা বুঝতে পারে। সুমিকে কায়দা করে বুকের মধ্যে জাপটে ধরে।
সুমি শারিরীক ভাবে সুখের সাগরে ভাসতে থাকে। বুকের মধ্যে বহুদিন পর আনন্দ পেল, আনন্দ নিয়েই বরে আজকে আমি যাই সজিব ভাই !
-তোমাকে আর যেতে দিবনা। তোমাকে পেয়ে আমি সুখি হতে চাই !
এরপর থেকে সুমির সঙ্গে সজিবের সবরকম ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। বাঘ যেমন মাংস রক্ত দেখে পাগল, সুমিরও সে রকম অবস্থা হলো।
একদিন বাসায় ফিরতে বেশ দেরী হয়ে যায়, হৃদয় বলে কোথায় গিয়েছিলে ?
-বাহিরে বেড়াতে।
-কার সঙ্গে এতক্ষণ সময় কাটালে সুমি ?
-এত প্রশ্ন করছ কেন হৃদয় এতদিন পা ! তুমি তো আমার খোজ রাখনা, সারাক্ষণ লেখা নিয়ে থাক আর তুমি এখন আমাকে খুজছ কেন?
-সুমি তুমি আমার স্ত্রী, আমি ছাড়া কে তোমাকে খুজবে ? কোন কিছু পেয়ছ বুঝি ?
সুমি কোন কথার উত্তর দেয়না শুধ স্পষ্ট ভাবে বলে, আমি তোমার কথা শুনতে এখন বাধ্য নই হৃদয় ?
সংসারের ভিত নড়ে ওঠে। নারী পুরুষের স্বাদ পেলে নতুন ভঅবে তখন সব মায়া ত্যাগ হয়ে। ঘর সংসারে তখন মন বসেনা।
-সুমি তুমি তো আমার সাথে এমন ভাবে কথা বলনি ?
-যা খুশি এখন ভাবতে পার বলে সুমি চলে যায়। পরের দিন থেকে নিখোজ ! কোথাও সুমিকে খুজে পাওয়া যায় না, তাহলে কোথায় গেল সুমি ?
কিছুদিন পর হৃদয় জানতে পারল সজিবের সাথে সুমি চলে গেছে চিরদিনের জন্য । হৃদয় প্রচন্ডভাবে মানসিক আঘাত পায়! কারণ সুমিকে সময় দিতে না পারলেও খুব ভালোবাসত হৃদয়। সুিমর সব স্মৃতি তার চোখের সামনে দোলা খাচ্ছে।
হৃদয় কিছুতেই লেখালেখিতে মন বসাতে পারছেনা। আজ লেখালেখির কারণে সুমিকে হারালো। আর রোজগার কার জন্য করবে ? সুসাহিত্যিক হতে যেয়ে তার জীবনের মূল শিকড় উপড়ে গেল। ইদানিং সে আর লিখতে বসেনা। এক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ল।
পরের মাসে শেষ তারিখে উপমা হৃদয়কে দেখতে না পেয়ে খোঁজ নিল হৃদয়ের বাড়িতে। শুনতে পেল তার স্ত্রী বন্ধুর হাত ধরে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। আর হৃদয অসুস্থ হয়ে ক্লিনিকে। তাকে দেখার মত কেউ নেই।
কথা শুনে উপমা দিশেহারা হয়ে ক্লিনিকে ছূটল। হৃদয়ের অসহায় অবস্থা দেখে তার চোখে জল আসে।
হৃদয়ের অসুস্থতাকে সারিয়ে সুস্থতা আনতে হলে প্রয়োজন মায়া, মমতা ও ভালোবাসা। ক্লিনিকে হৃদয়কে দেখে উপমা থমকে যায়, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, চোখের নীচে কালো হয়ে গেছে। গলার স্বর ভেঙ্গে গেছে এবং কথা বলতে হৃদয়ের কষ্ট হচ্ছে দেখে উপমা তাকে থামতে বলে।
উপমা কোমরে কাপড় গুজে হৃদয়ের সেবা যত্ময় লেগে যায়। সে হৃদয়ের মানসিক অবস্থা বুঝতে পেরে অতীতের কথা মুখে টেনে তুলল না। নিজের শরীরের প্রতি অবহেলা করার জন্য এই অসুস্থতার সৃষ্টি হয়েছে।
উপমা পরম মমতায় সেবা ওমানসিক সাহচর্যে ধীরে ধীরে হৃদয়কে সুস্থ করে তোলে। এই বার সুস্থ হলেও পরবতর্ীতে দেখা গেল হৃদয় লিখতে পারছেনা বলে আর্থিক সমস্যায় ভুগছে।
এদিকে ঢাকা থেকে কলেজেরর জন্য তাকে বারবার ডেকে পাঠাচ্ছে। উপমার মা এদিন বলে বসলেন কি সব খবর শুনছি লোকমুখে, তুই নাকি কার সেবায় ব্যস্ত ছিলি ! তার নাকি বৌ পালিয়েছে ? আর চাকরীতে কেনইবা যাচ্ছিস না ? সবসময় বাহিরে থাকিস।
মায়ের মুখে এত খববর শুনে উপমা রেগে বলে সব সত্য শুনেছ মা। এর পর মানসিক ভাবে প্রস্তুত থেক !
উপমার মা অবাক হয়ে যায় মেয়ের তেজ দেখে। এদিকে হৃদয় অনেকটা মনের জোর ফিরে পেয়েছে উপমার জন্য। উপমা অবিবাহিত মেয়ে বেশি মেলামেশা করলে যদি ওর বদনাম হয়ে এই ভয়ে কথাটা উপমাকে বলল।
উপমা কথা শুনে হেসে খুন। আগে আমরা বন্ধু ছিলাম এখন না হয় তার চে বেশী সম্পর্ক হবে, অসুবিধে কোথায়? উপমা নিদ্ধির্ধয় হৃদয়কে বলে, আমি কিন্তু উপমা আমি যে লিখতে পারিনা !
-আমি তোমাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে ডাক্তার দেখাব। দেখবে একদিন তুমি আবার লিখতে পারছ।
-উপমা তুমি তো আমায় ছেড়ে কোনদিন চলে যাবেনা ?
-না হৃদয় কোনদিনই যাবনা।
মেয়ের জেদের কাছে হার স্বীকার করে উপমার মা বিয়েতে মত দিলেন।
হৃদয় উপমার সাথে এখন ঢাকায় থাকে। ভিন্ন পরিবেশে এসে সত্যিই সে সুস্থ হলো এবং লেখায় আবার মন বসাতে পারছে। তবে চবি্বশ ঘন্টা আর লেখায় ডুবে থাকেনা। উপমার প্রেমে হৃদয় স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়।
এখনও চলতে ওদের সুখের সংসার ......
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





