রাত্রে ঘুৃমিয়ে ছিলাম। শরীর খুব পরিশ্রান্ত ছিল। আমার পাশে জনৈক বন্ধু লুৎফরও ঘুমিয়েছিলো। তার পাশে ঘুমিয়েছিলো রফিক নামের একজন, যে কোকাকোলা কোম্পানিতে চাকরি করে।
রফিক সারাদিনই বাসার বাইরে থাকে। তার ডিউটি সকাল ন'টা হতে রাত ন'টা। শুধু রাত্রে এসে ঘুমায়।
মাঝরাত্রি! শুনলাম, রফিক লুৎফরকে ফ্যান বন্ধ করতে বলছে। লুৎফর বললো, ঠিক আছে।
সকালে ঘুম থেকে জেগে দেখি ফ্যান তখনও ঘুরছে। শীতে আমরা তিনজনই জবুথবু।
লুৎফরকে জিগ্যেস করলাম, তোমাকে না ফ্যান বন্ধ করতে বলেছিলো রাত্রে, বন্ধ করো নি কেন?
লুৎফর যেন আকাশ থেকে পড়লো। জানালো, তাকে কেউ ফ্যান বন্ধ করতে বলে নি। আমি দ্বিধায় পড়ে গেলাম। তাহলে কে ফ্যান বন্ধ করতে বললো? আমি যে স্পষ্ট শুনেছি কেউ একজন বলেছে।
২
"ভাই, নন্দীবাড়িটা কোনদিকে?"
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় জনৈক মাইক্রোচালক একজন পথচারীকে জিগ্যেস করলো। কিন্তু পথচারী বলতে পারলো না। আমিও একই পথ ধরে যাচ্ছিলাম। আমার কাছে মনে হলো, আমি বোধহয় জায়গাটা চিনি।
যে-ই লোকটাকে বলতে যাবো, হঠাৎ খেয়াল হলো; আমি চিনি না। তাহলে কেন মনে হলো, আমি চিনি? দুয়েকদিনের মধ্যে ওখানে গিয়েছি? ভালুকা সদর থেকে বিরুনিয়ার দিকে একটা নন্দীবাড়ি আছে। জনৈক ছোটভাই জানিয়েছিলো। বন্ধু রিফাত জানিয়েছিলো, ময়মনসিংহেও একটা নন্দীবাড়ি আছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটা জায়গা আছে নন্দীগ্রাম নামে। উল্লেখিত তিনটে জায়গার কোনটাতেই আমি যাই নি।
৩
একটা স্কুলে গণিতের একজন শিক্ষক লাগবে। আমার পরিচিত একজন জানিয়েছিলো, তার একটা চাকরি খুব জরুরি। ঐ স্কুলে চাকরি করতো এমন একজনের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষকের নাম্বার নিয়ে মোবাইলের ডায়ালে রেখে দিলাম।
ঘন্টা দুই পরে বড়বোন ফোন দিলো। অনেকদিন তার সাথে কথা হয় না। নাম্বারটা সেইভে ছিলো না। কথাবার্তা বলে নাম্বারটা সেইভ করে রেখে দিলাম।
যার চাকরিটা দরকার সে ফোন দিলো। তাকে নাম্বার দিতে গিয়ে খেয়াল হলো, সকালে যে নাম্বারটা ডায়ালে রেখেছিলাম, বড়বোন সে-ই নাম্বার থেকেই ফোন দিয়েছিলো।
যার কাছ থেকে নাম্বার নিয়েছিলাম, তার সাথে আবার নাম্বার মেলালাম। নিশ্চিত হলাম, ঐ নাম্বারটা আসলে প্রধান শিক্ষকেরই। তাহলে কি ধরে নেবো বড়বোন আমাকে ফোন দেয় নি? এমনও তো মনে হচ্ছে না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



