somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রূপক বিধৌত সাধু
Our sweetest songs are those that tell of saddest thought (Shelly).

এল আঁধার ঘিরে (৪)

২৮ শে এপ্রিল, ২০২২ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আগের পর্বের লিঙ্ক: Click This Link
ঢাকা শহরে থাকার মতো অবস্থা রইল না তূর্য’র। হাতে যা সঞ্চয় ছিল, সব শেষ। এখন কী করবে সে? কোথায় যাবে? পরিচিত যারা ছিল, সবার কাছে গেল। কিন্তু কেউ কোনো সদ্গতি করে দিতে পারল না। অথচ তূর্য ভেবেছিল কোনো একটা গতি নিশ্চয়ই হবে। চারপাশে এত এত শুভানুধ্যায়ী, কেউ কোনো ব্যবস্থা করে দিতে পারবে না?

কত চাকরির সাক্ষাৎকার দিল। শহরের অলিগলি ঘুরল। জুতোর তলা ক্ষয়প্রাপ্ত হলো, পরনের কাপড় ময়লা হলো। তবু কিছুতেই কিছু হলো না। তূর্য বুঝতে পারল নিজের পথটা নিজেকেই হাঁটতে হয়। চলার পথে অনেকেই সাথে হাঁটে, কিন্তু কেউ কারও জন্য হাঁটে না। অচেনা এ শহরে নিজের পকেট থেকে এক পয়সা খরচ করে কেউ খাওয়াবে না, শোবার জায়গা দেবে না।

মনমরা হয়ে বসে থাকে সে। প্রাণের চাকরি টা ছাড়া কি ভুল হলো? না। সেটা করা সম্ভব ছিল না। সে সপ্তাহখানেক চেষ্টা করেছে। থাকা সম্ভব হয়নি। তার আগের চাকরিটা? ওখানে তো মাস শেষে একটা পরিমাণ আসত। একটু ধৈর্য ধরে থাকলে ভালো হতো? কিন্তু ওখানে তো ভবিষ্যৎ নেই। ভবিষ্যৎ দিয়ে কী হবে? এখন তো টিকে থাকাই কঠিন। নিজেই নিজের সাথে কথা বলে তূর্য। অস্থিরতা বাড়ে তার। দমবন্ধ হয়ে আসে। বৃদ্ধ মা-বাবার কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে বোনদের কথা। মধুর কথাও মনে পড়ে। বেচারি বাড়ি চলে গেছে। ওর বাড়ি থেকে পড়ালেখার খরচ চালানো সম্ভব না।

মধুর সাথে কত স্মৃতি! মালিবাগ থেকে ফার্মগেট চলে যেত মাঝেমধ্যেই। তারপর সংসদ ভবন এলাকায় দু’জন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকত। কত কথা! কখনও কখনও চন্দ্রিমা উদ্যানে চলে যাওয়া। একসঙ্গে বসে থাকা। প্রেমালাপ। সব এখন অতীত।

তূর্য সিদ্ধান্ত নিল কিছু লিফলেট টাঙাবে। যদি একটা-দুটো টিউশনি পাওয়া যায়। নিজের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থাটা হওয়া দরকার। এত বড়ো শহরে একটা-দুটো টিউশনি পাওয়া যাবে না? মালিবাগের আশপাশে কিছু লিফলেট টাঙাল। কিন্তু কোন ফোন এলো না। শহরের মোড়ে মোড়ে লিফলেট ‘পড়াতে চাই’। কয়জনকে ফোন দেবে?
শহরে অভাবীর অভাব নেই।

সাবেক সহকর্মী ছোটন স্যারের সাথে কথা হচ্ছিল। ওনি বললেন, ময়মনসিংহে চলে যেতে। মাস শেষে নয় হাজার করে টাকা দেবেন। থাকা খাওয়া ফ্রি। কাজ একটাই। তূর্য বসে বসে পড়ালেখা করবে আর ছোটন স্যারের কোচিং দেখাশোনা করবে।

প্রস্তাবটা ভালোই। তূর্য সম্মত হওয়ার কথা ভাবল। কিন্তু পরক্ষণেই মনে হলো, ছোটন স্যারের নিজেরই তো চলা কঠিন। ওনি কীভাবে সহযোগিতা করবেন?

মধু একবার বলেছিল টিউশন মিডিয়ায় যোগাযোগ করতে। ওরা কিছু টাকার বিনিময়ে টিউশনি দেয়। তূর্য’র মন সায় দেয়নি। ভুয়া মনে হয়। তবুও শেষ চেষ্টা হিসেবে একটায় ফোন দিল। ফোন ধরল একজন। নিজের সমস্যার কথা বলতেই ওপাশ থেকে বলা হলো যোগাযোগ করতে। যোগাযোগ করল তূর্য।

শিক্ষকের অভাব নেই। তূর্য বুঝল এখানে কোনো কাজ হবে না। অন্য পথ ধরতে হবে। কিন্তু পথ কোথায়? সামনে তো আঁধার নেমে এসেছে।

সিভি করাই ছিল। কয়েক জায়গায় সিভি দিয়ে দেখলে কেমন হয়? শাহজাহানপুরের আশপাশে কয়েকটা কোচিংয়ে সিভি দিল। অপেক্ষায় রইল একটা ফোনের।

ফোন এলো। মাসে সাত হাজার টাকা চুক্তিতে একটা কোচিংয়ে ক্লাস করাতে হবে। ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো’। কোনোমতে টিকে থাকার জন্য হলেও কোচিংয়ে যোগ দেওয়া দরকার।

টিউশন মিডিয়ার মাধ্যমে একটা টিউশনির ব্যবস্থাও হলো মুগদা এলাকায়। কয়েকদিন পর আরও দুটো ফোন এলো টিউশনির। আপাতত ঢাকায় থাকার মতো ব্যবস্থা হলো তূর্য’র।

চলবে...
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৪১
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×