somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা; অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা (স্মৃতিচারণ)

১৪ ই এপ্রিল, ২০২৩ দুপুর ১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি শুষ্ক হৃদয় লয়ে আছে দাঁড়াইয়ে ঊর্ধ্বমুখে নরনারী।
বিশ বছর বয়স পর্যন্ত অতি মাত্রায় অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিলাম। যাকে বলে সাত চড়ে রা বেরোত না। তারপর জীবনের রূঢ় বাস্তবতায় নিজের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এলো।

যাহোক, ওই সময়টায় আনন্দ উপভোগ করতে পারতাম না। গান শুনতে গেলে বা নাটক-সিনেমা দেখতে গেলেও আনন্দ পেতাম না। কেমন একটা বিষন্ণতা ভর করত নিজের মধ্যে। কেন জানি এই দুঃখকেই উপভোগ করতাম। নিজের বিফলতার জন্য নিজেই দায়ী, তবুও দেখা যায় দুঃখকে উপভোগ করার কমতি নেই।

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেছি, সেটা গ্রামের দিকে পড়েছে। চারুকলা অনুষদ থেকে মঙ্গল বা আনন্দ শোভাযাত্রা বেরোত। চলে আসত উপজেলার বাজার পর্যন্ত। বিকেলে হতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওই এলাকায় যে ক'বছর থেকেছি, প্রতি বছরই শোভাযাত্রায় যেতাম। আমার খুব আফসোস হতো এটা ভেবে যে, কেন নাট্যকলা বা বাংলায় ভর্তি হলাম না। অন্তর্মুখী স্বভাবের হলেও নিজের খোলস থেকে বেরোবার চেষ্টা করতাম।

ছবি আঁকতে পারতাম না, তাই চারুকলায় পড়ার আশা কখনও ছিল না। বাংলা বা ইংলিশে পড়ার সুযোগ ছিল। বাংলায় মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর বাংলায় ভর্তি না হয়ে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার একটা বিষয়ে ভর্তি হয়ে গিয়েছিলাম। আমার ধারণা, ওটা জীবনের অন্যতম বড় ভুল ছিল আমার। পড়ালেখা বা যেকোনো কাজই যে মনের ইচ্ছের বিরুদ্ধে হয় না, তা বুঝতে দেরি হয়ে গিয়েছিল।

ব্যবসায় শিক্ষা কখনোই ভালো লাগেনি আমার। স্কুল-কলেজে পড়ালেখায় অতটা চাপ ছিল না, তাই সমস্যা হয়নি। কিন্তু অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর চাপে পড়ে যাই। তারপর তীব্র অভাব-অনটনে ধুঁকতে লাগলাম। সব মিলিয়ে বেকায়দায় ছিলাম। ব্যবসায় প্রশাসনে পড়া ভীষণ বিরক্তিকর মনে হতো।

বাংলা, ইংলিশ, চারুকলা, নাট্যকলা, সঙ্গীত বিভাগগুলো ভালো লাগত আমার। ওদের সব অনুষ্ঠানেই যেতাম। সাহিত্যের প্রতি মুগ্ধতা তো ছোটবেলা থেকেই ছিল। দেখা যেত সারা দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে বসে সাহিত্য পড়ছি। ময়মনসিংহে যাওয়ার পরও এই অভ্যাসটা ছিল। মুসলিম ইন্সটিটিউট কিংবা জেলা গ্রন্থাগারে ছিল আমার নিত্য যাতায়াত।

ময়মনসিংহে দারুণভাবে বৈশাখ উদ্‌যাপন করা হতো। বিশেষ করে জয়নুল আবেদীন পার্ক তো রমরমা থাকত। সার্কিট হাউজ মাঠে খেলা হতো। বাহারি রঙে সেজে লোকজন আসত। বৈশাখী পোশাকে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলকে দারুণ মানাত। মেলা বসত। পুরো শহরে উৎসবের আমেজ থাকত।

আমি এখন পর্যন্ত যত জায়গায় গিয়েছি, ময়মনসিংহের মতো এমন টানে আর কেউ টানেনি। নিজের জন্ম-জেলা বলেই হয়তো মায়া কাজ করে। আমার সুখ-দুঃখের সঙ্গীও বৈকি।

জয়নুল আবেদীন পার্ক যেমন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্রের পাড়টা তো আমার স্বর্গ মনে হতো। আমি শয়নে-স্বপনে-জাগরণে এই পাড়টার কথা ভাবি। এত মায়া কেন স্থানটার প্রতি নিজেও জানি না। ময়মনসিংহে যাওয়ার সুযোগ হলে এখানে যাই। শম্ভুগঞ্জ ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকাতেও বিমল আনন্দ।

ছোটবেলার এলাকার কলেজের মাঠেও বৈশাখের অনুষ্ঠান হতো। পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। তখনকার বৈশাখী মেলাগুলোও মিস করি অনেক। মাটির ব্যাংক, পুতুল বা হাড়ি, হাতি-ঘোড়ার মূর্তি নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসত কুমোরেরা। ছেলেমেয়েরা দলবেঁধে কিনত।

মিস করি ভোরে ঘুম থেকে ওঠে পান্তা খাওয়া। ইলিশ খাওয়ার সামর্থ্য ছিল না আমাদের। মা চেষ্টা করতেন বড় মাছ ভাজি করতে, বা চ্যাঁপা-শুটকি রান্না করতে। অনেক সময় খেত থেকে কচু শাক তুলে আনতেন। কচুর ডাটা দিয়ে ঘণ্টা রাঁধতেন। এর স্বাদ জগতের আর কোনোকিছুর সঙ্গে হয় না। গ্রামে গ্রামে নতুন বছরকে বরণের যে ছোটখাটো প্রস্তুতি, তা আমাদের মতো শিশু-কিশোরদের নাড়া দিয়ে যেত।

ঢাকায় তো সার্বজনীনভাবে বৈশাখী উৎসব পালন করা হয়। রমনার বটমূলে বড় আয়োজন হয়। তারপর সারা দিনব্যাপী সংগীতায়োজন বেশ ভালো লাগে। মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে লোকজনের আলোচনা-সমালোচনা চললেও দেখা যায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ভেদাভেদ ভুলে বাঙালির চিরাচরিত রীতিতে সকলেই একীভূত হয়ে যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:৫৬
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওনাকে দেখা না গেলেও লেজটা ঠিকই দেখতে পাচ্ছি

লিখেছেন আহা রুবন, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০১




তারা চলে গিয়েছেন। আসলে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কয়েক দিন পর পর বাংলাদেশকে নতুন করে জন্ম দিতেন—নিজেদের
পশ্চাৎদেশে নিজেরাই তালি বাজিয়ে নিজেরাই নাচতেন!

সংস্কার, বিচার, ফ্যাসিস্ট নির্মূল, উঁচা বাসা-নিচা বাসা (উচ্চ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোগাক্রান্ত সাস্থ্য ব্যাবস্থাপনা

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:১৪

বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কম—এটা সত্য, কিন্তু শুধু বাজেট বাড়ালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। বরং ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এই তিনটি জায়গায় শক্তিশালী সংস্কার সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে। নিচে বাস্তবভিত্তিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভঙ্গুর ভবিষ্যৎ এর ভয় কি আমাদের শিক্ষার্থীদের জীবন কেড়ে নিচ্ছে?

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১২


আমরা প্রায়ই একটা কথা শুনি—
“ডিপ্রেশন ছিল”, “প্রেশার নিতে পারেনি”, “পারিবারিক সমস্যা ছিল”…


তারপর গল্পটা শেষ।

কিন্তু সত্যি কি এতটাই সহজ?

বাংলাদেশে ২০২৫ সালে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে ৭৭... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়েরা ,আপনার শিশুকে টিকা দিন

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:১১


টিকা দান কর্মসূচী আবার শুরু হয়েছে,
মায়েরা আপনার শিশুকে কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দিন
এবং সকল টিকা প্রদানের তথ্য সংরক্ষন করুন, যা আপনার সন্তানের
ভবিষ্যৎ জীবন যাপনে কাজে লাগবে ।



(... ...বাকিটুকু পড়ুন

×