somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্কুলে বিব্রতকর অভিজ্ঞতা

০৭ ই মার্চ, ২০২৪ রাত ১১:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গাজীপুরের কোণাবাড়িতে থাকতাম তখন। পড়াতাম একটা বেসরকারি স্কুলে। স্কুলটার নাম ‘জেনুইন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল’। যাদের শহরের ছেলেমেয়েদের পড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে, তারা জানেন এখনকার ছেলেমেয়েদের সামলানো কী কঠিন। শুধু পড়ালেখার কথা বলছি না। এদের আচরণ ঠিক করা, মনমতো চলা, ক্লাসে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা- এসব যে কী কষ্ট, অভিজ্ঞরাই কেবল জানেন। ঘাম বেরিয়ে যায়।

প্রায় ১০-১২টা স্কুলে পড়িয়েছি। টিউশনিও করিয়েছি অনেক। কত যে বিচিত্র রকম অভিজ্ঞতা! শুরুতে সামলাতে না পারলেও ধীরে ধীরে অভ্যস্ততা চলে আসে। একটা সময় এমন হয়েছে যে, ছেলেমেয়েদের গালমন্দ বা মারপিট করলেও মন খারাপ করত না। অবশ্য ওরা দ্বিধায় পড়ে যেত আমার আসল রূপ কোনটা সেটা ভেবে। আমি বকাঝকা বা মারধর করি। আমি দুষ্টলোক এটা। নাকি আমি সাহিত্যমনা। ওদের আদর করি। ভালো লোক।

মাঝেমধ্যে রাগারাগি করে অফিসে এসে বলতাম, ইচ্ছামতো বকাঝকা করেছি। মারধরও করেছি। সহকর্মীরা বলতেন, “আসলেই? আপনি বকতেও পারেন?” আমি বুঝাতেই পারতাম না যে আমি মাঝেমধ্যে ক্রুদ্ধ হয়ে যাই।

সেখানে থাকতে থাকতে সবার প্রিয় হয়ে ওঠেছিলাম। এমন হয়েছে প্রতিষ্ঠানে কাকে নিয়োগ দেবে, না দেবে, পরীক্ষার প্রশ্ন, উত্তর সব আমি দেখতাম। আমার পরামর্শে প্রধান শিক্ষক শিক্ষক নিয়োগ দিতেন।

একবার এক শিক্ষক এসে পরীক্ষা দিলেন। মোটামুটি ভালো হয়েছে পরীক্ষা, কিন্তু ক্লাসে গিয়ে পড়াতে পারেন না। ছেলেমেয়েরা পছন্দ করে না। আমি তার সম্পর্কে ভালো জানতাম। প্রথমদিন হয়তো ভ্যাবচ্যাকা খেয়ে গেছেন। প্রধান শিক্ষককে বলায় কেবল আমার সুপারিশেই তার চাকরিটা হলো।

যদিও অন্যান্য সেক্টরে তেমন সুবিধা করতে পারিনি। সরলতা কোনো কাজে লাগেনি। কাজে আসেনি ভালোমানুষি। সবাই নিজের মতো করে চলে। অবস্থান দেখে মানুষের মূল্যায়ন করে। সেসব অন্য আলাপ। এখন বিব্রতকর একটা ঘটনা শেয়ার করব।

সপ্তম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছি। আলামিন নামের এক ছাত্র বলল, “স্যার, ওয়াশরুমে যাব। খুব জরুরি।” আমি সরল মনে তাকে যেতে দিলাম। প্রায় প্রতিদিনই দেখি সে ওয়াশরুমে যায়। দেরি করে আসে।

একদিন দেখি সে ওয়াশরুমের কথা বলে বাইরে ঘোরাঘুরি করছে। আমলে নিলাম তার মতিগতি। পরদিন যখন বলল, স্যার, ওয়াশরুমে যাব। আমি না করলাম। সে বলল, “ক্লাসে করে দেব, স্যার।” “করে দাও।” আমি বললাম।

একটু পর এক ছাত্র বলে উঠল, “স্যার, আলামিন ক্লাসে প্রস্রাব করে দিয়েছে।” আমি দেখলাম সত্যি সত্যি সে একটা বোতলে প্রস্রাব করে দিয়েছে। বললাম, “এটা কী করলে?” সে বিব্রতভাবে বলল, “স্যার, আমি কিন্তু বাইরে যেতে চেয়েছিলাম। আপনিই যেতে দেননি।”

আমি বললাম, “তোমার অবস্থা ওই মিথ্যাবাদী রাখালের মতো হয়েছে, যে প্রতিদিন বাঘ, বাঘ বলে চিল্লাত। লোকজন তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসত। তার মিথ্যা কথায় বিরক্ত হয়ে তারা যখন আসা বাদ দিল, একদিন সত্যি সত্যি বাঘ এলো। রাখালের চিৎকারে কেউ আর এগিয়ে এলো না।”
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুলাই, ২০২৪ রাত ১১:৩১
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×