somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃখিনী মায়ের কান্না

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মহাখালী রেলগেট এলাকায় ময়মনসিংহের এক ভদ্রমহিলার সঙ্গে দেখা হলো মৃণালের। তিনি এক দোকানদারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তার কথায় ময়মনসিংহের আঞ্চলিকতার টান শুনে মৃণাল আগ বাড়িয়ে আলাপ জুড়ে দিল। তার নিজের বাড়িও ময়মনসিংহে।

“ময়মনসিংহ ছেড়ে হঠাৎ ঢাকায়? কতদিন হলো এখানে আছেন?”
“আট মাস,” শান্ত গলায় বললেন তিনি।

কথা প্রসঙ্গে জানা গেল, তার মেয়ে সবে কলেজ শেষ করেছিল। আনন্দমোহন কলেজে অনার্সে ভর্তির তালিকায় তার নামও এসেছিল। কিন্তু তার আগেই স্বামীর হাতে খুন হয় সে। মেয়ের হত্যার বিচারের জন্য ভদ্রমহিলা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। মেয়েটি জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। এনসিপির নেতা নাহিদ ময়মনসিংহে গেলে সেই ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে তার কাছে বিচার চেয়েছিলেন তিনি। নাহিদ তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, বিচার হবে। কিন্তু সে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়ন হয়নি।

“মেয়েকে কেন মারা হলো?”
“যে ছেলেটার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল, সে নেশাখোর ছিল। তুচ্ছ ঘটনায় আমার মেয়েকে মেরে ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখে।”
“তখন বাসায় কেউ ছিল না?”
“ওরা আমাদের সঙ্গেই থাকত। আমি চাকরি করতাম, ওর বাবাও চাকরি করত। সেদিন আমরা কেউ বাসায় ছিলাম না।”
“এমন নেশাখোরের কাছে মেয়ে বিয়ে দিলেন?”
“মেয়েই আমাদের বাধ্য করেছিল। বলেছিল, ওর সাথে বিয়ে না দিলে আত্মহত্যা করবে।”
“কতদিনের সম্পর্ক ছিল?”
“ক্লাস এইট থেকে। করোনার সময় ঢাকায় চলে এসেছিলাম। অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না। পরে কীভাবে যেন আবার যোগাযোগ বাড়ে, বুঝতেই পারিনি।”
“ফেরানোর চেষ্টা করেননি?”
“করেছি। অনেক বুঝিয়েছি। ওই যে বললাম, আত্মহত্যার হুমকি দিত। ছেলেটার বিরুদ্ধে কিছু বললেই রাগ করত।”

ভদ্রমহিলার মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে মৃণাল জিজ্ঞেস করল, “এখন চলেন কীভাবে?”
“বাসায় বাসায় ঘুরে থ্রিপিস বিক্রি করি। ঈদের সময় একটু চলে, অন্য সময় খুব কম।
“অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন তো।”
“টাচ মোবাইল নেই। থাকলেও চালাতে পারতাম না। ব্যাকডেটেড মানুষ তো।”
“আগে কী করতেন?”
“এখানে বাজারে সমিতির টাকা তুলতাম। অফিসারের ব্যবহার খারাপ ছিল, তাই ছেড়ে দিয়েছি।”
“আপনার স্বামী?”
“বাসের টিকিট বিক্রি করে। আর রাতে মেয়ের জন্য কাঁদে। মেয়েকে এত ভালোবাসত যে, এত বড় মেয়ের কাপড়ও নিজে ধুয়ে দিত।”
“এতে তো সংসার চলে না। কীভাবে সামলান?”
“আমার এক দেবরের বাসায় থাকতে দেয়, খেতে দেয়। সে প্রতিদিন ৩০০ টাকা দেয় ওর বড় ভাইকে। আমি যা উপার্জন করি, তা দিয়ে মাঝেমধ্যে চাল কিনি, আর ছেলের স্কুলের খরচ চালাই।”
“অবস্থা কি আগে থেকেই খারাপ ছিল?”
“না। আসলে ময়মনসিংহে এক ওয়ার্ডে রাজনীতি করতাম। নির্বাচন করে হেরে যাই, প্রায় ৩০ লাখ টাকা খোয়া যায়। সেখান থেকেই পথের ফকির।”
“কোনো মামলা আছে আপনার নামে?”
“মামলা নেই। তবে বিভিন্ন সমাবেশের ছবি আছে। সবাই কমবেশি চেনে আমাকে। তাই লুকিয়ে থাকতে হয়।”
“কোনো নেতার সঙ্গে যোগাযোগ আছে?”
“মাঝে কয়েকবার ফোন দিয়েছে। দু’বার ২০ হাজার টাকা দিয়েছে। এখন বলে, ‘একদিন না একদিন বিচার হবে, ধৈর্য ধর, মা।’”
“মামলা করেননি?”
“থানায় নেয়নি, তাই আদালতে করেছি। মামলা চলছে। আসামি ধরা পড়েছে, এখন জামিনে আছে।”

কথা চলতে থাকে আরও কিছুক্ষণ। শেষে মৃণাল বলল, “চলুন, আপনাকে কিছু খাওয়াই। মনে হচ্ছে সকাল থেকে কিছু খাননি।”

এ কথা শুনে ভদ্রমহিলা অঝোরে কেঁদে ফেললেন। মৃণাল নির্বাক চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। সন্তানহারা এ দুঃখিনী মাকে সে কী স্বান্তনা দিতে পারে? আশপাশে লোকজন জড়ো হতে লাগল। মৃণাল সবার উদ্দেশে বলল, “এখানে দেখার কিছু নেই। উনি আমার বোন হন। নিজের মেয়ে খুন হয়েছে, বিচার পাচ্ছেন না। এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন।”

ছবি: ইন্টারনেট
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:০০
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৫



কথায় বলে না, একটা দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না!
এটা একদম সত্যি কথা। মানুষ আসলে ভুল করবেই! ভুল থেকে মুক্তি নেই মানুষের। আমার জীবনটা কিভাবে ছাড়খার হয়ে গেলো সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংসদে যা ঘটেছে সেটা কি অপ্রত্যাশিত ছিল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৪৯


দুই দিন আগে কুমিল্লার পরিচিত এক মুদি দোকানে সদাই কিনতে গিয়েছিলাম; সেখান থেকে প্রায়ই বাজার করি। হিসাব মেলাচ্ছিলাম, হঠাৎ তিনি উত্তেজিত হয়ে বলে উঠলেন—"আগামীকাল তো সংসদ! হাসনাত আবদুল্লাহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রসঙ্গ 'চাঁদগাজী' (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:২০



আমি কোনো রকম ভনিতা না করে স্পষ্ট জানতে চাই-
ব্লগার 'চাঁদগাজী' কবে থেকে প্রথম পাতায় লেখার সুযোগ পাবেন? তাকে আর কতদিন শাস্তি দিবেন? সরকার পতনের পর কারাগার থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার কালপুরুষ ভাইয়া

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৩ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমার কালপুরুষ ভাইয়া। গত ৭ই মার্চ যিনি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। খবরটা আমি জানার পর থেকেই মনটা খারাপ হয়ে আছে। ভাইয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপিপন্থী ব্লগারদের বাকস্বাধীনতা হরনের নমুনা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৪ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৬

বিএনপির মির্জা আব্বাস অসুস্থ হবার পর কিছু বিএনপি সমর্থক এর দায় খুবই ন্যক্কারজনকভাবে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর উপড় চাপাতে চাইছে !! অসুস্থ মির্জা আব্বাসের ছবি দিয়ে এরকম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×