somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবি ঠাকুরের নামে ডাইনোসর Barapasaurus tagorei: বাঙালির ডাইনো-ফসিল আবিষ্কারের গল্প

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সন ১৯৫৮। দক্ষিণ ভারতের তেলেঙ্গানার গোদাবরী উপত্যকায় একটা কিছুকে কেন্দ্র করে বেশ বড়সড় একটা জটলা বেধে আছে। সামান্য একটা গাছের গুড়ি নিশ্চয়ই মহারাষ্ট্র সীমান্ত ঘেঁষা নালগোন্ডায় ডাইনোসরের ফসিলের অনুসন্ধানে আসা গবেষকদলের রুদ্ধশ্বাস কৌতুহলের কারণ হতে পারে না। কিন্তু জীবাশ্মভূত প্রকান্ড গুড়িটির নিচ থেকে সাদা-মতন কিছু একটা কোটি বছরের অভিশাপ ঘুচিয়ে দিবালোকে আত্মপ্রকাশ করতেই কর্মীদের হাঁকডাকে জড়ো হয়েছে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইউনিটের পুরো গবেষকদল। সতর্কতার সাথে বেলেপাথর ও কাদাপাথর খুঁড়ে শেষ পর্যন্ত প্রথম যে প্রকান্ড ফিমার হাড়টি উঠে এল তার দৈর্ঘ্য গড়পড়তা ভারতীয়ের উচ্চতার চেয়ে ঢের বেশিই হবার কথা। হয়তোবা ব্যস্ত অপলক দৃষ্টিতে খননকার্য পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করে যাওয়া প্রফেসর লামেলা রবিনসনের উচ্চতার চেয়েও খানিকটা বেশি হবে! ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের অনুরোধে চীন ছেড়ে ডাইনো-ফসিলের সন্ধানে ভারতে এসে লন্ডন ইউনিভার্সিটির এ প্রফেসর যে কোন ভুল করেননি,তা ভালোই বুঝতে পারছেন। বাঙালি বিজ্ঞানী প্রশান্তচন্দ্রের সাথে আসা দলটিতে বাঙালির সংখ্যাই বেশি।
এক এক করে যখন প্রাগৈতিহাসিক অস্থিগুলো বের করে আনা হলো,প্রফেসর রবিনসন এবং প্রশান্ত মহলানবিশ মোটামুটি নিশ্চিত হলেন গোদাবরী উপত্যকায় তাঁরা নতুন একটি ডাইনো-ট্যাক্সন আবিষ্কার করে ফেলেছেন! উদ্ধারকৃত প্রায় ৩০০ টি হাড়গোড় একটিমাত্র ডাইনোসরের নয়,সেখানে জেনাসটির অন্তত ছয় সদস্যের অস্থি ছিল।
দীর্ঘ তিন বছরের গবেষণা শেষে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া গেল যে এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ডাইনো-জেনাসের ফসিল। অবশেষে প্রসিদ্ধ জার্নাল Nature-এ ১৯৬২ সালে নতুন জেনাস আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। তখনও পর্যন্ত এটিই ছিল ভারতে আবিষ্কৃত প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডাইনো-ফসিল। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁরই স্নেহধন্য বিজ্ঞানী প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের প্রস্তাবে এর নামকরণ করা হয়-
Barapasaurus tagorei.




ভারতীয় উপমহাদেশেও ছিল ডাইনোসর??

একটা সময় পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ভারতে ডাইনোসরের ফসিল পাওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে মনে করতেন। কিন্তু ১৮২৮ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ক্যাপ্টেন উইলিয়াম হেনরি স্লিম্যান মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরে বৃহদাকৃতির কিছু কশেরুকার খন্ড আবিষ্কার করলে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের মধ্যে আলোড়ন তৈরি হয়।


যদিও সেটি যে ডাইনোসরেরই ফসিলের অংশ তা নিশ্চিত হতে বহু বছর গবেষণা করতে হয়েছে। সেটিকে নিশ্চিতভাবে Titanosaurs এর কশেরুকা বলে ঘোষণা দিতে ১৮৭৭ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অবশ্য উত্তর আমেরিকা,আফ্রিকার অনেক স্থানেই টাইটানোসরাসের বিচরণের প্রমাণ পূর্বেও পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে দক্ষিণ ভারতসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে ডাইনোসরের ফসিলের অংশবিশেষ আবিষ্কৃত হতে থাকে। সেখানে টাইটানোসরাস(Titanosaurus),ইন্দোসরাসের(Indosaurus) মত তৃণভোজী সরোপড যেমন ছিল,তেমনি রাজাসরাস(Rajasaurus) এর মত মাংসাশী ডাইনোসরের ফসিলও পাওয়া যায়। কিন্তু ফসিলগুলোর খুব অল্প অংশই পাওয়া যাচ্ছিল,সেগুলোকে মাউন্ট করা সম্ভব হচ্ছিল না। বারাপাসরাসের(Barapasaurus)-এর ফসিলই তখনো পর্যন্ত ভারতে পাওয়া একমাত্র প্রায়-সম্পূর্ণ ফসিল ছিল। গুজরাট,কোলকাতাসহ ভারতের বেশ কয়েকটি শহরে জাদুঘরে, উদ্ধারকৃত ডাইনো-ফসিলগুলো সংরক্ষিত আছে।

দেখতে কেমন ছিল বারাপাসরাস?


জুরাসিক পার্ক মুভি দেখেছেন যারা,তাদের কাছে অন্তত তিনটি প্রাগৈতিহাসিক প্রাণি পরিচিত হবারই কথা-হিংস্র মাংশাসী টিরেনোসর,লম্বা গলা ও লেজের তৃণভোজী সরোপড ব্রাকিওসরাস এবং উড়ুক্কু টেরোনোডন। Barapasaurus ও ব্রাকিওসরাসের মত একটি তৃণভোজী সরোপড ছিল। মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত পূর্ণবয়স্ক একটি বারাপাসরাসের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ছিল ১৮ মিটার।


কেবল ফিমারের দৈর্ঘ্যই ছিল ১.৭-১.৮ মিটার যা একজন গড়পড়তা বাঙালির উচ্চতার চেয়েও হয়তো বেশি-এজন্যই বাংলা 'বড় পা' এর আদলে এর নাম 'বারাপাসরাস'। থলথলে দেহের ওজন ছিল ৭ টনের মত। অন্যান্য সরোপডের মত এদেরও লম্বা গলা এবং লম্বা লেজ ছিল। বিশেষায়িত কশেরুকা দ্বারা তৈরি এদের লম্বা গলা উঁচু গাছ থেকে পাতা ছিড়ে খেতে সহায়তা করতো। লম্বা গলার তুলনায় এদের মাথা যথেষ্টই ছোট ছিল।[২]


শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ছিল দৈর্ঘ্যের তুলনায় প্রস্থে বেশ সরু। পিঠে খাঁজ ছিল বলেও অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন যা ব্রাকিওসরাস এবং ডিপ্লোডেকাসের মত সরোপডদের থেকে ব্যতিক্রম। কিন্তু বিষয়টি সুনিশ্চিত নয়।


এদের দাঁতগুলো ভেতরের দিকে ছিল অনেকটা চামচ আকৃতিবিশিষ্ট। প্রাপ্ত সবচেয়ে বড় দাঁতটির দৈর্ঘ্য ৫.৮ সে.মি.। দাঁতের অমসৃণ প্রকৃতি এবং ভঙ্গুর এনামেল গঠন থেকে ধারণা করা হয় এরা উঁচু গাছ থেকে পাতা ছিড়ে যেমন খেত,তেমনি স্থলজ এবং জলজ গুল্মও খেত।[১] একই ভৌগোলিক বিস্তৃতিতে মাংশাসী রাজাসরাসের উপস্থিতির কারণে এটা অনুমান করা খুব অযৌক্তিক হবে না মাংসল শরীরের নিরীহ বারাপাসরাসকে প্রায়শই রাজাসরাসের খাদ্য হতে হত। সুবিশাল দেহ নিয়ে এদের পক্ষে দৌড়ে রাজাসরাসকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব ছিল না। তবে অন্যান্য সরোপডের মতই এদের মাংশাসী শিকারিদের হাত থেকে পরিত্রাণের প্রধান অস্ত্র ছিল লম্বা লেজ। অতিরিক্ত চতুর্থ একটি স্যাক্রাল ভার্টিব্রাটা থাকবার সুবাদে এরা সপাটে লেজ চালনা করতে পারত বলে ধারণা করা হয়।

বারাপাসরাস টেগোরেই-এর ট্যাক্সনোমি:


জুরাসিক যুগের প্রারম্ভিক অংশে পৃথিবীতে বিচরণকারী যে অল্প কয়েকটি সরোপডের কথা এখনো অবধি জানা যায়,তাদের মধ্যে বারাপাসরাস অন্যতম। ১৯৬.৫ মিলিয়ন থেকে ১৮৩ মিলিয়ন বছর আগে ভারতে এরা বিচরণ করত। [২]
বারাপাসরাস টেগোরেই-কে নিম্নোক্তভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়-
Animalia>Chordata>Dinosauria>Saurischia>Sauropodomorpha>Sauropoda>
Gravisauria>Barapasaurus>B. tagorei


অবশ্য সরোপডসমূহের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে ধোয়াশা রয়েছে। পূর্বে ভালকানোডন(Vulcanodon)এর সঙ্গে বারাপাসরাস একই ট্যাক্সনভুক্ত থাকলেও এখন উভয় জেনাসকে ভিন্ন মনে করা হয়। উল্লেখ্য যে,বারাপাসরাস টেগোরেই Barapasaurus জেনাসের একমাত্র স্পেসিস বা প্রজাতি। অর্থাৎ,প্রফেসর রবিনসন এবং প্রশান্তলাচন্দ্র মহলানবিশ কেবল একটি নতুন প্রজাতিই নয়,বরং একটি নতুন গণ বা জেনাস আবিষ্কার করেছিলেন!

অবশেষে সগৌরবে দাঁড়ালো এশিয়ার প্রথম মাউন্টেড ডাইনো-ফসিল.......


১৯৬২ সালে Nature জার্নালে প্রকাশের পর থেকে বারাপাসরাস টেগোরেই প্যালায়েন্টোলজিস্টদের মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়। গোদাবরী উপত্যকায় যে ছয়টি বারাপাসরাসের ফসিল পাওয়া গিয়েছিল,তাদের মত সম্পূর্ণ ফসিল আবিষ্কারের ঘটনা এশিয়ায় বিরল। তখনো পর্যন্ত এশিয়ায় প্রাপ্ত কোন ডাইনোসরকে মাউন্ট করা সম্ভব হয় নি। উল্লেখ্য,ডাইনো-ফসিল মাউন্ট করা বলতে বোঝায় ডাইনোসরের উদ্ধারকৃত ভগ্ন ও বিচ্ছিন্ন অস্থিগুলোকে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ অবয়বটিকে দাঁড় করানো।


প্রফেসর লামেলা রবিনসন বারাপাসরাসের ফসিলটিকে আবিষ্কারের পরপরই মত দিয়েছিলেন,এটিই হতে পারে এশিয়ার প্রথম মাউন্টেড ডাইনো-ফসিল। কিন্তু একে মাউন্ট করার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় ছিল মাথার খুলিসহ দেহকঙ্কালের বেশ কিছু অংশ না পাওয়া।[৩] মিসিং অংশগুলোর সন্ধানে দক্ষিণ ভারতে অনুসন্ধানের পাশাপাশি অনুরূপ গোত্রের অন্য কোন সরোপডের অস্থি দ্বারা তা পূরণ করার জন্যও তোরজোড় চলে। ওদিকে চীনও নিজ দেশ থেকে পাওয়া ডাইনো-ফসিলগুলোকে মাউন্ট করতে উঠেপড়ে লেগেছে। অবশেষে ১৯৭৭ সালে চীনকে টেক্কা দিয়ে রবি ঠাকুরের নামে নামকরণ করা ডাইনোসরটিকে মাউন্ট করা সম্ভব হয় এবং এটিই ছিল এশিয়ার প্রথম মাউন্টেড ডাইনোসরের ফসিল।


চতুর্থ আন্তর্জাতিক গডোয়ানা সিম্পোজিয়ামে ৬০ ফুট লম্বা,১৩ ফুট চওড়া এবং ২০টন ওজনের মাউন্টেড ফসিলটিকে প্রথম প্রদর্শন করা হয়। ১৯৯৫ সালে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে বারাপাসরাসের একটি মডেল প্রদর্শন করা হয়। বর্তমানে কঙ্কালটি জিওলজিকাল স্টাডি ইউনিট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।

জেনে নেওয়া যাক সেই কৃতি বাঙালি বিজ্ঞানী সম্পর্কে.......



১৮৯৩ সালের ২৯ জুন কোলকাতায় প্রবোধচন্দ্র মহলানবিশ এবং নীরোদবাসিনী দেবীর প্রথম সন্তান প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের জন্ম হয়। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ঢাকার বিক্রমপুরের পঞ্চসার গ্রামে। প্রশান্তের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা গুরুচরণ মহলানবিশ প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্ম বয়েজ স্কুলে। ১৯১২ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় সাম্মানিক বিএসসি পাশ করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান ইংল্যন্ডে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংস কলেজ থেকে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার সহ ‘ট্রাইপস’ পাশ করেন। দেশে ফিরে ১৯১৫ সালে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজেই পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। রাশিবিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহ থাকায় এখানেই কয়েক জনকে নিয়ে তিনি একটি স্ট্যাটিস্টিক্যাল ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯২০ সালে। আরো বড় পরিসরে গবেষণার সুযোগ তৈরির জন্য ১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট।



কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে প্রখ্যাত এ স্কলারের ব্যক্তিগত পরিচয় এবং সখ্যতা বহুদিনের।তিনি রবি ঠাকুরকে গুরুদেব মানতেন। ১৯৪০ সালে বরাহনগরে একটি বাগান বাড়ি কিনলে রবি ঠাকুরের পায়ের ধূলো পড়ে এর প্রাঙ্গণে। রবি ঠাকুরই বাগান বাড়িটির নামকরণ করেছিলেন আম্রপালি। রানি মহলানবিশের সাথে বিবাহকালে তিনি গুরুদেবের স্বহস্তে লেখা একটি আশীর্বাদ বার্তাও পান।[৪]



প্রাচীন গন্ডোয়ানাল্যান্ডের ডাইনোসরদের ফসিল এখনো ভারতে মাটির তলায় রয়েছে-এ বিশ্বাস থেকেই তিনি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইউনিটের গবেষকদল নিয়ে দক্ষিণ ভারতে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেন। ওদিকে এশিয়ান ডাইনোসরের ফসিল উদ্ধারে চীনে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লন্ডন ইউনিভার্সিটি কলেজের প্রফেসর লামেলা রবিনসন। কিন্তু প্রশান্ত মহলানবিশের অনুরোধে তিনি সিদ্ধান্ত বদলে ভারতে চলে আসেন এবং তেলেঙ্গানা-মহারাষ্ট্রের কোটা ফরমেশনে(Kota Formation) ডাইনো-ফসিলের অনুসন্ধান শুরু করেন। অবশেষে ১৯৫৮-১৯৬১সালে রচিত হয় ইতিহাস।

আমরা কতটুকু মূলায়ন করতে পেরেছি এ কৃতি বাঙালি এবং তাঁর আবিষ্কারকে?

২০ টনের ডাইনোফসিলটি পশ্চিমবঙ্গের বরাহনগরে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের জিওলজিক্যাল স্টাডি ইউনিট মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। তবে জনসাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত নয়।১৯৯৩ সালের ২৯ জুন বিজ্ঞানী প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের জন্মশতবার্ষিকীতে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরসীমা রাও ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউশনের নতুন মিউজিয়াম ও আর্কাইভ উদ্বোধন করেন এবং প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের নামে এর নামকরণ করা হয়।



অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে পুরো এশিয়ার প্রথম মাউন্টেড ডাইনোসর যার নাম রাখা হয়েছে বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে,কার্যত অবহেলাতেই পড়ে আছে ওপার বাংলার জাদুঘরটিতে। এ জাদুঘরের জন্য বাৎসরিক বরাদ্দ মাত্র ৩ লাখ রুপি! গত ২২ অক্টোবর ভারতীয় বনকর্মী পারভিন কাসওয়ানের বারাপাসরাস টেগোরেই নিয়ে করা একটা টুইট ভাইরাল হওয়াই প্রমাণ করে ঐতিহাসিক এ ফসিলটি নিয়ে আগ্রহ দূরে থাক,রবি ঠাকুরের নামে বাঙালি বিজ্ঞানীর আবিষ্কৃত ডাইনো-ফসিল যে বাংলায় আছে সেটা অধিকাংশ বাঙালি বা ভারতীয় জানেনই না! বাঙালি বিজ্ঞানী প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশও কি বাঙালি জাতির কাছ থেকে প্রাপ্য মর্যাদা বা স্তুতি পেয়েছেন?

আবারো উল্লেখ করছি,এটি এশিয়ায় উদ্ধারকৃত প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডাইনো-ফসিল যাকে জোড়া দিয়ে মাউন্ট করা সম্ভব হয়েছে। ভাবুন তো,কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম জড়িয়ে আছে যে প্রাচীনতম সরোপডের সাথে,একজন বাঙালি বিজ্ঞানীর বহু বছরের সাধনা মিশে আছে যে অতিকায় ফসিলের সাথে,তা কি বাঙালির গৌরবের উপাদান হবার দাবি রাখে না?

তথ্যসূত্র:
১)Osteology of Barapasaurus tagorei (Dinosauria: Sauropoda) from the Early Jurassic of India
২)Barapasaurus-Wikipedia
৩)India’s invaluable dinosaur fossils lie neglected and forgotten in this Kolkata museum
৪)কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের নামে ডাইনোসরের কঙ্কাল!
৫)রবি ঠাকুরের নামে আছে জুরাসিক যুগের ডাইনোসর, জানতেন?
ছবিসূত্র:গুগল
.......................................................................................................................................................................
.......................................................................................................................................................................

পারভিন কাসওয়ানের টুইটটি ভাইরাল হবার পর আনন্দবাজার পত্রিকাসহ কয়েকটি পত্রিকায় এ নিয়ে লেখালেখি হলেও খুব বেশি বিস্তারিত বিবরণ বাংলায় নেই বললেই চলে। তাই ইংরেজি নিবন্ধ ও প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। কাজেই কিছু ইংরেজি টার্মের কিম্ভূতকিমাকার পারিভাষিক রূপ ব্যবহার করে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার এবং পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করার অনুরোধ রইল। সেই সাথে উইকিপিডিয়ায় লেখার অনুমতি বা অভিজ্ঞতা আছে এমন কেউ সামুতে থেকে থাকলে,তথ্যসূত্রে দেওয়া উইকিপিডিয়ার ইংরেজি আর্টিকেলটিকে বাংলায় অনুবাদ করে উইকিপিডিয়ায় প্রকাশের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। রবি ঠাকুরের নামে যে ডাইনোসর উইকিপিডিয়ায় তারই বিবরণ ভারতের অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষায় থাকলেও বাংলাতেই যে নেই!!!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:২২
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিলেকোঠার প্রেম- ১৩

লিখেছেন কবিতা পড়ার প্রহর, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ বিকাল ৪:২৫


দিন দিন শুভ্র যেন পরম নিশ্চিন্ত হয়ে পড়ছে। পরীক্ষা শেষ। পড়ালেখাও নেই, চাকুরীও নেই আর চাকুরীর জন্য তাড়াও নেই তার মাঝে। যদি বলি শুভ্র কি করবে এবার? সে বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নগ্ন দেহের অপূর্ব সৌন্দর্যতা বুঝেন না! বলাৎকার বুঝেন?

লিখেছেন মুজিব রহমান, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৮:৩৫


শৈল্পিক প্রকাশের সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয় নগ্নতাকে৷ ইউরোপে অন্ধকার যুগ কাটিয়ে রেনেসাঁ নিয়ে এসেছিল আধুনিক ও সভ্য ইউরোপ৷ রেনেসাঁ যুগের শিল্পীরা দেদারছেই এঁকেছেন শৈল্পিক নগ্ন ছবি৷... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নবীকে ব্যঙ্গ করার সঠিক শাস্তি সে ফরাসি শিক্ষক কি পেয়েছে?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৯:৫৩



গত কয়েকদিন আগে ফ্রান্সে কি হয়েছিল? একজন শিক্ষক ক্লাসে আমাদের নবীর ব্যঙ্গচিত্র দেখিয়েছিলেন, বলা হয়েছিল তার উদ্দেশ্যে ছিল বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার বিষয়ে বুঝানো। এটার পর এক মুসলিম যুবক তার ধর্মীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবি ও পাঠক

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ১১:৩১

কবিদের কাজ কবিরা করেন
কবিতা লেখেন তাই
ভেতরে হয়ত মানিক রতন
কিবা ধুলোবালিছাই

জহু্রি চেনেন জহর, তেমনি
সোনার পাঠক হলে
ধুলোবালিছাই ছড়ানো পথেও
মাটি ফুঁড়ে সোনা ফলে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

***

স্বরচিত কবিতাটির ছন্দ-বিশ্লেষণ

শুরুতেই সংক্ষেপে ছন্দের প্রকারভেদ জেনে নিই। ছন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রিয় খাবার সমূহ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২০ রাত ৩:৩৪



আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেসব খাবার গ্রহণ করেছেন, তা ছিল সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। নবীজি (সা.) মোরগ, লাউ, জলপাই, সামুদ্রিক মাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×