গতকাল বিকেলে ভার্সিটি ক্লাস শেষ করে বাসায় আসছিলাম, মিরপুর সাড়ে এগারোর দিকে দেখি দু’টি হিজড়া গণধোলাই খাচ্ছে কিছু একটা চুরির অপরাধে।
আমি রিকশা থামাইনি, শুধু শুনলাম কেউ একজন বলছে ্দেশের সব হিজড়াকে নাকি ‘জবাই’ করে ফেলে দেওয়া উচিত।
আমি মাঝে মধ্যে ভাবি আমাদের মনুষ্যত্ববোধ নিয়ে, দিনদিন আমাদের মূল্যবোধ যে কতটা নিচে নামছে তা নিয়ে আমরা বোধহয় আমাদের এস মুল্যবোধ নিয়ে খুব একটা চিন্তিত না।
মানুষের আচার আচরন কিংবা ব্যবহার পুরোটাই একটি পারিবারিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠে, কিন্তু দুঃখের বিষয় তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি অবহেলিত থেকে যায়।
বাংলাদেশের বেশিরভাগ দরিদ্র পরিবারগুলোতে দেখা যায় কোন বাচ্চা হিজড়া হলেই তারা আর তাকে পালন করতে চায় না কারন হিজড়াদের আমাদের সমাজে মানুষ হিসেবেই ধরা হয় না, আর দলবেঁধে থাকা অন্য হিজড়ারা খবর পেলেই তাকে এসে নিয়ে যায়, এভাবেই বেশিরভাগ হিজড়ারাই ছোট থাকতেই তাদের বাবা মার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায়।
অনেকেই বলে থাকেন হিজড়ারা মানুষের কাছ থেকে জোর করে টাকা নিয়ে যায় তাদের একটা কথা বলি একটা শিশু যে ছোটকাল থেকেই আদর ভালবাসা কি জিনিস তা দেখেনি, যে দেখেছে সে যেখানেই যায় মানুষ তাকে তাড়িয়ে দেয় হাসাহাসি করে, যে দেখেছে অন্য শিশুরা বাবামার সাথে স্কুল এ যাচ্ছে আর তাকে নিয়া সবাই ঠাট্টা করছে না হয় শিশুবেলাতেই সে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে তার কাছ থেকে এর চেয়ে ভাল কি আশা করা যায়?
সবখানে একটি জিনিস লক্ষ্য করবেন যে কোন সরকারি বেসরকারী ফর্ম/ জন্মনিবন্ধন/স্কুল ভর্তিফর্ম/নিয়োগপত্র সবকিছুতেই 'লিঙ্গ' বা 'sex' এর জায়গায় 'পুরুষ/মহিলা' দেওয়া থাকে। তাহলে কি আমরা ধরে নিতে পারি রাষ্ট্রীয়ভাবে হিজড়ারা মানুষ না?
আর যদি রাষ্ট্র ও সমাজ তাদের মানুষ হিসেবেই স্বীকৃতি না দেয় তবে তারা এই সমাজ ও রাষ্ট্রের নিয়ম কানুন আইন মেনে চলতে কতটা বাধ্য?
আপনি আমি কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারব যে কোন হিজড়া এসে আমাদের বাড়ির ড্রাইভার/বুয়ার কাজ চাইলে আমরা তাদের কাজ দিব?
আমরা যাদের মানুষই মনে করি না, যারা শিশুকাল থেকে কখনো সমাজের কাছে মানুষ হিসেবে গন্য হয়নি, তাদের কাছ থেকে মানুষের মত ব্যবহার আশা করাটা অন্যায়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



