কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি আসার সময় এক অদ্ভুত সহযাত্রির কবলে পড়লাম! ভদ্রলোকের বাড়ি আমার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে।আমার চেয়ে বছর কয়েকের সিনিয়র হবেন।পৃথিবীর যাবতীয় বিষয়আদি বিষয়ে ভদ্রলোকের সীমাহীন অাগ্রহ।
ওনার এই অতিরিক্ত আগ্রহ আমার বিরক্তিকর বাস জার্নির কারন হয়ে দাঁড়ালো! ভদ্রতার খাতিরে সব চুপচাপ হজম করলাম।আমি পারতপক্ষে কখনও কারো ওপর বিরক্ত প্রকাশ করি না।কাজটা আমার কাছে অপরাধ মনে হয়।
আমাদের বাস বিকাল চারটায় যাত্রা করল।ভদ্রলোক বাস ছারার সাথে সাথেই মসজিদে জামাতে নামাজ পড়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।সুপারভাইজার সাহেব কে বার বার ডেকে বলছেন "পাঁচ মিনিটের জন্য যেন কোন মসজিদ দেখে বাসটি থামায়েন,রোজায় মসজিদে নামাজ কায়েম করা খুবই ইম্পরট্যান্ট। নাইলে রোজা রেখে ফয়দা কি? কি বলেন ভাই?" আমি অবস্যই/হু/হা বলে মনে মনে প্রমাদ গুনছি।জোর করে আমাকেও মসজিদে না নিয়ে যায়।আপনারা ভূল বুঝবেন না।আমি রোজাও করি নামাজ ও পড়ি।কিন্তু বাসে ওঠার আগে আমার একমাত্র ব্যাগপ্যাক নিয়ে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে গিয়ে হয়েছে ভেজাল।একেবারে দাড়িয়ে উইদাউট ওয়াটার/টিস্যু তে কাজ শেষ করছি!
সুপারভাইজার এসে জানাল ড্রাইভার সাহেব বেকে বসেছেন।এখানে নামাজের বিরতি দিলে সময় মত ইফতার হোটেলে পৌঁছানো যাবে না।আর যাত্রীরাও খুব একটা আগ্রহী নয়।আপনারা যে কয়েকজন নামাজ মসজিদে আদায় করতে চান ড্রাইভারকে গিয়ে একটু রিকুয়েস্ট করুন।
ভদ্রলোক দ্বিগুণ উদ্যমে শুরু করলেন'এটা কি বলেন?রোজার মাস বলে কথা।আমরা এখন মুসাফির।আল্লাহ আমাদের জন্য কছর নামাজের ব্যাবস্হা করেছেন।দুই রাকাত কছর পড়তে আর কত সময় লাগবে বলেন তো রিজভী ভাই"
আমি একবার মিন মিন করে বলার চেষ্টা করলাম সবার কথাতো শুনতে হবে'ধোপেই টিকল না।
ড্রাইভার সাহেব সময়মত মসজিদ দেখে বাস থামালেন।অনেকেই নামাজ পড়লেন।আমি অবাক হয়ে গেলাম উনি আমাকে নামাজ পড়ার জন্য কোন চাপা চাপিই করলেন না।
নামজ শেষে বাস ছাড়তেই ওনার সাথে কিছু কথা হল।ভদ্রলোক ব্যবসা করেন।শহরে ওনার বড় দোকান আছে।কথায় কথায় তাবলিগের প্রসঙ্গ এলো।আমি জানালাম আমার বাবা প্রথম রোজায় চিল্লায় গিয়েছেন।আসবেন ঈদের পর।এও জানালাম আমি নিজেও তিন দিনের একটি চিল্লা দিয়েছি।উনিও ভাল ভাল বল্লেন।বিপত্তিটা বাধল যখন আমি বল্লাম ব্যাক্তিগত ভাবে আমি তাবলিগ অপছন্দ করি!
ভদ্রলোক এদিক ওদিক তাকিয়ে গলার স্বর নামিয়ে নিয়ে এলেন।"ঠিকই বলেছেন ভাই।তাবলিগ চালায় কারা জানেন? জানেন নাকি?" আমি মাথা নেড়ে বল্লাম না"
মুসলিম বিরোধীরা।টাকা পয়সা দিয়ে মসজিদে ঢুকায় রাখে।বলে রান্না বান্না কর,খা,আর আল্লাহর নাম নে।দুনিয়াবি কোন কথা কোন কোশ্চেন করবি না।ভিসার কোন প্রব্লেম নাই।যেখানে যেতে চাস যা।আজ পর্যন্ত দেখেছেন তাবলীগ জামায়াতের কোন ভিসা ক্যান্সেল হইছে?"
আমি আসলে এতো কিছু জানি না ভাই"
"হয় নাই।কখনও দেখেছেন অন্যায় অত্যাচার জুলুম নিয়ে প্রতিবাদ করতে"
আমার যা বোঝার বুঝে গেলাম।এ ধরনের পাবলিক আপনাকে কখনো কথা বলার সুযোগ দিবে না।এরা কট্টরপন্থী কোন দলের সমর্থক।কিছুক্ষন পর দেখবেন ইনিয়ে বিনিয়ে নিজ দলের এডভার্টাইস করা শুরু করবে।
আমি ভদ্রলোক কে সে সুযোগ দিলাম না।ব্ল্যাঙ্কেট একটা নিয়ে মাথা ঢেকে শুয়ে পড়লাম।
সেদিন আমি যা বলতে চেয়েও পারি নাই।আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই।হয়ত আমি অন্ধকারেও থাকতে পারি।যদি আপনাদের কারো মাধ্যমে আলোর পথে আসতে পারি ক্ষতি কি?
আমরা সারা জীবন জেনে এসেছি ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত।
১.কালেমা
২.নামাজ
৩.রোজা
৪.হজ্জ
৫.যাকাত।
তাবলীগ জামায়াত নিজেরা একটি বই প্রকাশ করেছে।বইটির নাম ছয় নম্বর।ওনারা এই পাঁচটার সাথে তাবলীগ/দাওয়াত লাগিয়ে ছয় টা স্তম্ভ করেছে।এখানেই আমার প্রবলেম।
এছাড়া মুটামুটি সবই ঠিক ঠাক আছে।তাহাদের উদ্দেশ্য সৎ।সন্দেহ নাই।ঝামেলা ফ্যাসাদ,হামলা,রাজনীতি, পরচর্চা এগুলো নাই।
আমার মনে হয়,ছয় নম্বরটি অপ্রয়োজনীয়। আপনি যদি প্রথম পাঁচটা ঠিকঠাক মত পালন করেন শেষেরটি অটো হয়ে যাবে।
ধন্যবাদ
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০১৬ রাত ২:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



