somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেধাবী ও দূর্নীতিবাজ : ব্লগার চাঁদগাজী'র ব্লগ বিশ্লেষণ

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৮ ভোর ৪:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মেধাবী ও দূর্নীতিবাজ : ব্লগার চাঁদগাজী'র ব্লগ বিশ্লেষণ

ইচ্ছে করলে শ্রদ্ধেয় ব্লগার চাঁদগাজী ভাই এর উত্তর ওনার ব্লগ মন্তব্য ঘরে দিতে পারতাম। কিন্তু পরক্ষনেই মনে হল না,আমি এই বিষয়টা নিয়ে আস্ত একটি লেখাই লিখব।যদিও লিখি লিখি করে অনেক দেরি হল আশা করি চাঁদগাজী ভাই সহ আপনারা বিষয়টি ভূলে যান নাই,অথবা ভূলে গেলেও আমি মনে করিয়ে দিব।লেখায় শ্রদ্ধেয় ব্লগার চাঁদগাজী ভাইয়ের উক্ত ব্লগের লিঙ্ক যোগ করলাম।
http://www.somewhereinblog.net/blog/chandgazi/30236133


উক্ত লেখায় শ্রদ্ধেয় ব্লগার চাঁদগাজী ভাই বিসিএসের মাধ্যমে মেধাবীদের সকারি চাকুরিতে নিতে নিষেধ করেছেন।চাঁদগাজী ভাইয়ের দাবি, মেধাবীরা সরকারি বড় পদে আসীন থাকলে তাদের মেধা খাটিয়ে আরো বেশি বেশি দূর্নীতি করবে।চাঁদগাজী ভাইয়ের চিন্তা-ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমি আমার মতামত তুলে ধরব।

প্রথমত উক্ত লেখা বা মন্তব্যের সাথে আমি একমত নয়।যদিও বর্তমান বিসিএস পরিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত অভিযোগ আছে যে এই পরিক্ষাপদ্ধতিতে কি আসলেই সঠিক মেধাবি মূল্যায়ন করা সম্ভব?? কিন্তু যেহেতু আমার আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু এটা না,এবং এ বিষয় নিয়ে আজ এখানে আলোচনা করব না।অন্য একদিন এই বিষয়ে একটি বিষদ লেখা লেখার ইচ্ছে আছে।

আমরা মূল আলোচনায় ফিরে যাই,মেধাবি মানেই যে দূ্র্নীতিবাজ হবে আমি এ কথার সাথে একমত নই।মেধার সাথে দূর্নীতির কোন সম্পর্ক নেই।দূর্নীতিবাজ যে কেউ হতে পারে,আবার মেধাবী ও যে কেউ হতে পারে।

আমার মতে দূর্নীতির জন্য দায়ি, ১.অসুস্থ সসমাজ এবং আইন প্রয়োগের অভাব ২.দেশপ্রেম।

আসুন আমরা এখন অসুস্থ সমাজ ব্যাবস্থা এবং আইন প্রয়োগের অভাব কিভাবে দূর্নীতির জন্য দায়ী হতে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা করি।আমাদের দেশের শিশুরা আশপাশের যে সব ছোট ছোট দূর্নীতি অথবা অসুস্থ সমাজ ব্যাবস্থা দেখে বড় হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিদ্যুত চুরি,অবৈধ জায়গা দখল,রিকশাওয়ালার সাথে ভাড়া নিয়ে বিতন্ডা,ওজনে কারচুপি,সৎলোকের প্রতি সামাজিক অবঙ্গা,গরীব লোকেদের নীচু চোখে দেখা,দূ্র্নীতিবাজ লোকেদের সমাজে সন্মান করা ইত্যাদি। একটি শিশু বেড়ে ওঠার সময় এইসব শিক্ষা নিয়ে বেড়ে ওঠে।

এবং পড়াশোনার শুরুতেই মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়"পড়াশোনা করে যে, গাড়ি ঘোরা চড়ে সে" ভালোকরে পড়াশোনা করলে অনেক বড়লোক হবা,ভালোকরে পড়াশোনা না করলে চায়ের দোকানদার,মুদি দোকানদার হবে,রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হবে,ভাল চাকুরি পাবে না,সন্মান পাবে না,টাকা পয়সা বানাতে পারবে না ইত্যাদি ইত্যাদি।

আইনের শাসনের অভাব কিভাবে একটা শিশুকে প্রভাবিত করে,আসুন তা নিয়ে আলোচনা করি।একটা শিশু সাধারন বুদ্ধিঙ্গান হবার পর থেকেই দেখে এ দেশে খুন করে পার পাওয়া যায়,কিছু দিন আগেও যার নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা হটাৎ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হবার পরেও বুক চেতিয়ে মাথা উচিয়ে সমাজে সন্মানের সহিত বসবাস করতে দেখে,ধর্ষনকারীর সাজা হয় না,মাদক ব্যবসায়ীর দাম্ভিকতা টাকার গরম,পুলিশ প্রশাসনের অসহযোগিতা, ভেজাল দ্রব্য বিক্রয়কারী ওজনে কম দানকারীর সমাজে ইতিবাচক অবস্হান ইত্যাদি।

এই সকল বিষয়ের সাথে যখন একটা শিশু কমপেয়ার করে বেড়ে ওঠে, তখন সেই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষটির আর কি অবশিষ্ট থাকে??

এবার আসুন আলোচনা করা যাক দেশপ্রেম নিয়ে।আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন বাংলাদেশের মানুষ কি দেশপ্রেমিক?? হয়ত কাগজে কলমে, কথায়, ফেসবুকে দেশপ্রেমিক হতে পারে, কিন্তু কাজে দেশ প্রেমিক এটা মানতে আমার কষ্ট হয়।একেবারেই যে নেই তা নয়,কারন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক না থাকলে এ দেশের অস্তিত্ব বিলিন হত।

দেশ প্রেমের উদাহরণ টানতে আমি শুরু করব রাজনৈতিক নেতা দের থেকে।বাংলাদেশে কয়জন সৎ রাজনৈতিক নেতা আছে?? রাজনৈতিক নেতাদের আয়ের উৎস কি,তাদের ব্যাংক ব্যালেন্স,ভ্যাট ট্যাক্স কি পরিমান কয়জন দেন এর কোন সঠিক ব্যাখ্যা কি কারো কাছে আছে?? কয় জন নেতার আঙ্গুল ফুলে বট গাছ হয়েছে, এ নিয়ে কখনও কোন তদন্ত কি হয়েছে?? অথচ দেশপ্রেমের শুরুটা হওয়া দরকার তাদের থেকে।তাদেরই হবার কথা ছিলো সবার আইডল।

বুকে হাত দিয়ে বলুন দেশের জন্য কি করেছেন??হয়ত বলার মত অনেকেই অনেক কিছু পাবেন,আবার অনেকে কিছুই পাবেন না।ভাই আমি নিজেও দেশের জন্য এখনও কিছুই করতে পারিনি।

স্কুলে দিনের পর দিন বছরের পর বছর যে শপথ বাক্য পাঠ করে এসেছি এবং জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে এসেছি আমাদের জীবনে এটা প্রভাব কি??

আমার মতে প্রভাব ঠিকই পড়ত যদি সঠিক সামজিক জীবন ব্যাবস্হা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা যেত।

এখন আমার দৃষ্টিতে কিভাবে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম বৃদ্ধি করে, দূর্নীতি মুক্ত সমাজ আমরা পেতে পারি সেটি নিয়ে আলোচনা করি।

প্রথমেই আমাদের যেটা করতে হবে,

**আইনের সঠিক প্রয়োগ। সকল ঘুসখোর, দূর্নীতিবাজ,মাদক ব্যাবসায়ী,ভেজাল কারবারি,অন্যায়কারীকে আইনের আওতায় আনতে হবে।যাতে নতুন জেনারেশন বুঝতে পারে এগুলো খারাপ কাজ,কেউই আইনের বাইরে নয়।অন্যায় করে পার পাওয়া যায় না।

**বাবা-মা এবং বাচ্চাদের বিভিন্ন ওয়ার্কশপের মাধ্যমে এমন ধারনা দিতে হবে যে সকল সৎকাজই সম্মানজনক।

**সমাজের সাধারন মানুষ, সরকারি কর্মকর্তা /কর্মচারী সৎ লোকেদের বিভিন্ন ভাবে পুরষ্কৃত করতে হবে জাতীয় ভাবে।

**স্কুল কলেজে সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে বোঝাতে হবে এ দেশ আমার,আমার প্রতি দেশের এবং দেশের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আছে।

**সরকারি বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজকর্মে শিশুদের অংশগ্রহণ করাতে হবে।

চোর যেমন ধর্ম মানে না,তেমন দূ্র্নীতিবাজেরও ধর্ম নাই।দেশ থেকে দূ্র্নীতি দূর করতে আরো অনেক বিষয় সরকারকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হবে।আজ এ দুটি বিষয় নিয়েই শেষ করব।চেষ্টা করব পরবর্তীতে লেখার,যদি উৎসাহ পাই।সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা শেষ করছি,আসুন সবাই মিলে একটি দূর্নীতি মুক্ত দেশ গড়ি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৮ ভোর ৪:০৬
৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু টুথপেস্ট নয়—মোড়ক ছেঁড়ার মুহূর্তেই ছড়াচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক

লিখেছেন মুনতাসির, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০

টুথপেস্ট নিয়ে আলোচনা সবে শুরু হয়েছে, কিন্তু বাস্তবতা আরও অনেক বড়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি সিন্থেটিক পণ্যই এখন মাইক্রো বা ন্যানোপ্লাস্টিক তৈরি করতে পারে—এমনকি একটি চিপসের প্যাকেট ছেঁড়ার মুহূর্তেও,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×