somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একাত্তরে পেরেছি একুশ শতকেও পারব

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া (অব.)
বিজয়ের একচল্লিশ বছরে পৌঁছে আমি প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসাব মেলাতে রাজি নই। রাজি নই নৈরাশ্যবাদীদের কাতারে শামিল হতে। বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার দেশ। বিশ্ব বিস্মিত হয় এ দেশের মানুষের এগিয়ে যাওয়া দেখে। আমি এ দেশের মানুষের ওপর সম্পূর্ণ আস্থাশীল। আমাদের স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের। যে ভূখণ্ডে আমরা আমাদের আইন দ্বারা শাসিত হব। বাক, ব্যক্তি ও কর্মের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে নিজেরা নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্তারূপে মাথা উঁচু করে বাঁচব। একচল্লিশ বছর আগে অপরিমেয় আÍত্যাগ, অকুতোভয় সাহসের সঙ্গে হানাদার পাকসেনাদের পরাজিত করে আমরা বিজয়ী হয়েছি। অর্জন করেছি হাজার বছরের আরাধ্য স্বাধীন-সার্বভৌম এ বাংলাদেশ। আমাদের প্রত্যাশাকে আমরা পরিপূর্ণরূপে পেয়েছি। গত একচল্লিশ বছর অনেক দুর্যোগ-দুঃসময় চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। আমরা চেয়েছি পশুশক্তিমুক্ত স্বাধীন দেশ। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে একথা কল্পনা করলেও লজ্জা পাই যে, ২৩ বছর আমরা ওদের সঙ্গে কিভাবে ছিলাম! আমরা পশুশক্তির কবল থেকে মুক্ত হয়েছি।
আমি ভীষণভাবে আশাবাদী। আমাদের সবকিছু আছে। আজ ২০১২ সালে ঘুষ, দুর্নীতি, শাসক সমাজের ত্র“টি-বিচ্যুতি এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে সত্যি কিন্তু ২০২২ সালে এসব প্রতিবন্ধকতা থাকবে না; যখন জিডিপি বাড়বে, জিএসপি বাড়বে, রেমিট্যান্স বাড়বে তখন আরেক বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটবে। সেই বাংলাদেশ নির্মাণের দায়িত্ব আমাদের উত্তরসূরিদের।
গত ৪১ বছরে বাংলাদেশে তিন ধরনের সরকার ব্যবস্থা আমরা দেখেছি। গণতান্ত্রিক শাসন, সামরিক শাসন ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। গত ৪১ বছরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানাতে পারিনি, অনেক শহীদের কবর শনাক্ত পর্যন্ত করতে পারিনি। একেকটি সরকার আসে আর একেকটি তালিকা তৈরি হয় মুক্তিযোদ্ধাদের। এমন অনেক অক্ষমতা আছে। শাসকশ্রেণীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতাসহ গণমানুষের অধিকারের পক্ষে যথার্থ অঙ্গীকার পূরণের নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও এ জাতি এগিয়ে যাবে, কেননা পৃথিবীতে মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেয়ার নজির বাঙালি ছাড়া আর একটিও নেই। অনেক নেতিবাচক হিসাবের পরও অসংখ্য ইতিবাচক অর্জন রয়েছে আমাদের। সেগুলোর অন্যতম একটির কথা বলিÑ ভোটার আইডি কার্ড তথা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের মধ্য দিয়ে আমাদের তৈরি ডাটাবেজের উদাহরণ এখন অনেক দেশ অনুসরণ করতে উদ্যোগী হয়েছে। রাজনৈতিক অন্তর্দ্বন্দ্ব, কলহ-কোন্দল এগুলো আমাদের শাসকশ্রেণীর সৃষ্ট সংকট। এগুলো তাদের অপরিপক্ব মন-মানস ও সংস্কৃতির পরিচয় তুলে ধরে।
আমাদের ছেলেরা ডিজিটাল পৃথিবী বিনির্মাণের অংশীদার। ওয়েববিশ্বে ইউটিউবের সহ-নির্মাতা জাভেদ করিম কিংবা খান একাডেমির ইকবাল খান এরকম মাত্র দুটি উদাহরণ। পৃথিবীব্যাপী শ্রম ও মেধার মর্যাদায় বাঙালি জাতি আজ অভিষিক্ত। আর এসবই স্বাধীনতার অর্জন। আমাদের সবকিছু আছে, মেধাবী মস্তিষ্ক, শ্রমের সুদৃঢ় পেশি, প্রকৃতির আশীর্বাদ দরকার শুধু সুদৃঢ় ইচ্ছাশক্তির। আমরা যদি সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারি তাহলে কেউ আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। আর এজন্যই আমি ভীষণভাবে আশাবাদী। আমরা একাত্তরে পেরেছিÑ পারব এ একুশ শতকেও, অবশ্যই পারব! সব বাধাবিঘœ ও প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের মুখচ্ছবি গোটা পৃথিবীর কাছে তুলে ধরতে। বাঙালির সেই ইচ্ছাশক্তি নতুন প্রজš§Ñ আমি তাদের ওপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখি।
মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া (অব.) : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে লেখক, গবেষক।

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×