somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

না বলা ভালোবাসা

১৬ ই এপ্রিল, ২০১২ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ পহেলা বৈশাখ। দিনটা শুক্রবার। সকাল থেকেই সাজ সাজ রব পড়েছে সারাদেশে। সেই রবের ছোট একটা ঢেউ আছড়ে পরেছে মাহমুদের বাড়িতেও। পুরো বাড়ি জুড়ে উৎসবের আমেজ। কিন্তু মাহমুদের মনটা ভালো নেই।
জুমার নামাজের আগেই সে চলে গেল উত্তরা কেন্দ্রিয় কবরস্থানে। হাতে একটা গোলাপ ফুল। ধীর পায়ে কান্নাভেজা চোখে এগিয়ে যাচ্ছে ৬১১ নং কবরের দিকে। কবরের উপরে ফুলটা রাখল। হাত দিয়ে কবরের উপরের মাটিটি পরিষ্কার করতে লাগল। চোখ বেয়ে পড়া অশ্রুর কয়েকফোটা কবরের উপর পরল।

মাহমুদ তখন ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। তার ক্লাসেরই একটা মেয়ে কানিজ। রোল নাম্বারটা পাশাপাশি থাকতো সবসময়। সে সুবাধে প্রতিদিন একসাথে বসা, একসাথে খেলা আর একসাথে গল্প করা সবই হতো। তাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ভালো ছিল। সবাই তাদের দুজনকে অনেক আদর করত। আর তাই তাদের এই কাছাকাছি থাকাটা কেউ খারাপ চোখে দেখত না। এভাবেই কেটে যায় প্রায় দেড়টি বছর। তারা তখন ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। পড়াশোনার কাজে, গল্পের জন্য মাঝে মাঝে মাহমুদের বাসায় আসে কানিজ। তেমনি একদিন হঠাৎ করে মাহমুদের বাসায় আসল কানিজ। কোনো কাজ নেই। মাহমুদের সাথে বসে গল্প করছে। এরমধ্যেই মাহমুদকে নিজের ভালো লাগার কথা বলে ফেলল কানিজ। সেদিন সে মনে হয় শুধু একথা বলার জন্যই এসেছিল মাহমুদের বাসায়। তারপর "জবাবটা দিবে" বলেই চলে গেলো কানিজ। কানিজ আর মাহমুদের বাসা কাছাকাছি। কানিজকে মাহমুদের মা অনেক আদর করত। তাই কোনোদিন তাদেরকে কিছু বলত না। মাহমুদ নিজেও পছন্দ করত কানিজকে। কিন্তু কোনোদিন বলার সাহস পায় নি। আজ হঠাৎ করে কানিজের বলে যাওয়াটা তার কানকে কিছুতেই বিশ্বাস করাতে পারছিল না। সময়টা তখন মাত্র বিকাল। সে তখনই বাসার বাইরে বেড়িয়ে যায়। উদ্দেশ্য শুধু কানিজকে জবাব দেওয়া। যথারীতি বাসায়ই পেলো কানিজকে। বলে ফেলল মনের কথাটা। সেই শুরু। এর মধ্যে কেটে যায় দীর্ঘ নয় বছর।

তাদের সম্পর্কের কথা দুই পরিবারও জানত। কিন্তু কোনোদিন কেউ কিছু বলত না। মাঝে আসে এস.এস.সি পরীক্ষা। দুজনেই গোল্ডেন এ+ পায়। মাহমুদের ইচ্ছা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া আর কানিজের ই্চ্ছা ডাক্তার হওয়া। তাই দুজনেই বিজ্ঞান বিভাগে ছিল। আবার একসাথে ভর্তি হয় একই কলেজে। সৌভাগ্যক্রমে একসাথে ক্লাশ করে। তাদের সম্পর্কে কোন চির ধরে নি। তখন পর্যন্ত। এভাবে কেটে যায় আর একটি বছর। ২০০৯ সালের আগস্ট মাসের ঘটনা পাল্টে দেয় সবকিছু। মাহমুদের কাছ থেকে হারিয়ে যায় কানিজ। মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে মাহমুদ। সামনে ছিল এইচ.এস.সি পরীক্ষা। পরীক্ষাটা আর দিতে পারেনি সে। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় নীল মাহমুদ প্রায় ১বছর অসুস্থ থাকার পর পরীক্ষাটা দেয়। প্রত্যাশিত ভালো ফলাফল আর হয়নি তার। তারপর আজ সেসব স্মৃতি নিয়ে মাহমুদ ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। কিন্তু পাশে নেই তার এগিয়ে যাওয়ার পথের দিশারী।

তাকে এখনো সেসব স্মৃতি মনের অজান্তে তাকে কাঁদায়। এখনো সে রাতে ঘুমের মাঝে স্বপ্ন দেখে কানিজকে। ফুলের ডালা নিয়ে বসে আছে অনিন্দ সুন্দর একটি বাগানে। মাঝে মাঝে দেখে তাকে সেই বাগানের ডালে ডালে উড়ে বেড়ানো পাখির বেশে। ঘুম ভেঙ্গে যায়। ডুকরে উঠে সে। কখনো তার শিয়রে দাড়ানো দেখতে পায়। এইতো কিছুদিন আগেও সে স্বপ্নে দেখে তার পরী তাকে ডাকছে।

আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে ভয়াবহ এক সড়ক দূর্ঘটনায় মাহমুদের চোখের সামনেই মারা যায় কানিজ। সে দিন ছিল মাহমুদের জন্মদিন। দিনটি শুক্রবার ছিল। মাহমুদ আর কানিজ দুজন একসাথে সিএনজি অটোরিক্সায় করে যাচ্ছিল উত্তরায়। সারাদিন একসাথে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বাসায় ফিরে যাচ্ছিল। হঠাৎ করে পিছন থেকে একটি বাস তাদেরকে ধাক্কা দেয়। কানিজ যে পাশে ছিল ঠিক সে পাশটাতেই বাসটি ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় কানিজ। তার পাশে বসা তার প্রিয় সেই মাহমুদ প্রচন্ড আঘাত পায়। নিজের চোখের সামনে ভালোবাসার সেই মানুষটিকে যখন হারিয়ে যেতে দেখল তখন সেখানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। তারপর সব কিছুই আজ স্মৃতি। এখনও প্রতিটি শুক্রবার শত ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়ম করে কানিজের কবরে ফুল দিয়ে ভালোবাসার শ্রদ্ধা জানায় মাহমুদ। শত চেষ্টা করেও পারেনি তাকে ভুলতে। কিভাবে পারবে ভুলতে তাকে? যাকে ভালোবেসেছে মন থেকে দীর্ঘ নয় বছর। যার জন্য নিজে করেছিল সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ। যার কোনো বিপদে আটকে রাখতে পারতো না নিজেকে।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×