somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উগ্র ধর্মতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার মৃত্যু

২৫ শে মে, ২০১৫ সকাল ৭:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। তবে তা কেবলই সাধারণ জনগন এবং শুভচিন্তকদের জন্য। মৌলবাদে ছেয়ে গেছে গোটা দেশ। এরাই এখন সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর, কর্ণধার, জাতির ইজ্জত, ধর্মের মাথা। পরিস্থিতি তাদের কনিষ্ঠ আঙুলের ইশারায় নিয়ন্ত্রিত।

তারাই এখন ঈশ্বর, মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রক; মৃত্যুর পয়গম্বর। তাদের কালো তালিকায় লাল অক্ষরে লেখা আছে মৃত্যুর ফরমান। উর্ধ্বতনের এক ইশারায় দন্ড ধার্য হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে ধড় হতে পৃথক মুক্তচিন্তকদের মস্তক। সাধারণ মানুষ যেখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, মুক্তমনারা সেখানে নিশ্চিত মৃত্যুর অপেক্ষায়।

বাকস্বাধীনতা কি তবে বিলুপ্তির পথে? উগ্র ধর্মতন্ত্রই কি জারি হবে চতুর্দিকে? হ্যাঁ। সেই দিন বেশি দূরে নেই। তালিকা অনুযায়ী আর ক'টাকে মারলেই কিচ্ছা খতম। দেশ এখন এই বর্বর মৌলবাদের দখলে।
এই হত্যা জিঘাংসা সংঘটন কি একা মৌলবাদীদের পক্ষে সম্ভব? কখনোই না। এর জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী ক্ষমতালোভী ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উদাসীনতা, বেহাল ও ভঙ্গুর আইনী ব্যবস্থা, ঘুষখোর-অদক্ষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এরাই দিনের পর দিন মদদ দিয়ে যাচ্ছে মৌলবাদীদের। এদের প্রশ্রয়েই মৌলবাদীরা নিজেদের শক্তিমান ঈশ্বরজ্ঞান করছে এবং প্রকাশ্যে হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েও আইনের ফাঁক গলে তারা ঠিকই বেরিয়ে যাচ্ছে। অতঃপর আমাদেরই চোখের সম্মুখে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ব্যাপারটা খানিকটা এমন, "মুখ খুলবি তো জান খতম"!

বুড়ো মানুষের দাঁতের মত নড়বড়ে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি গায়ে হাওয়া লাগিয়ে বিচরণ করছে এই বর্বরেরা। কিন্তু প্রমাণের সামান্যতম অভাব না থাকা সত্ত্বেও এতোগুলো নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটে যাওয়ার পরেও বিচার তো দূরের কথা, নূন্যতম জোরালো আইনী সাড়াও জোটে নি। এমনই দায়সাড়া ভাব আমাদের আইন ও বিচার বিভাগের। সর্বোপরি আমজনতাও কিন্তু এসব অন্যায় অবিচারের জন্য কম দায়ী নয়। আমি অনেককেই বলতে শুনেছি, " নাস্তিক জাহান্নামিটারে মাইরা ভালোই করছে"! এরাও কিন্তু পরোক্ষভাবে হত্যার জন্য দায়ভার বহন করে। সাহস জোগায় উগ্রপন্থীদের।

কোনো ধর্মই সহিংসতাকে সমর্থন করে না। যারা ধর্মের নামে এমন নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়, তারা যে কোনো ধর্মেরই বাইরে। ধর্মকে পুঁজি করেই এরা অধর্মের বীজ বপণ করে সাধারণ মানুষের মনে এবং সেখান থেকেই উগ্র ধর্মতন্ত্রের ফসল ফলায়; নাস্তিকতার দোহাই দিয়ে ধ্বংস করে মুক্তচিন্তা। এরা প্রকৃত ধার্মিকও না; নাস্তিকও না। এরা লিঙ্গহীন নরপশু কিংবা দুর্গন্ধময় নর্দমার কীটস্বরূপ। আস্তিক কিংবা নাস্তিক কেউই এদের হাত থেকে নিরাপদ নয়।

উগ্র ধর্মান্ধতা মৌলবাদীদের চোখে যে সহিংসতার পট্টি বেঁধে দিয়েছে তার উন্মোচন বা নির্মূল সম্ভব না হলে আগামী একশো বছরেও বঙ্গমাতার উন্নয়ন তো সম্ভবই নয়; বরং অবনতি, দুর্নীতি আর অপমৃত্যুর হার যে কয়েক'শ গুণে বৃদ্ধি পাবে তা হলফ করে বলা যায়। মানুষ হারাবে বাক স্বাধীনতা; হারাবে ধর্ম পালনে স্বাধীনতা। জঙ্গী, মৌলবাদীরা হয়ে উঠবে অপ্রতিরোধ্য শক্তিমান। স্বাধীনতার চেতনা হারাবে ঐতিহ্য ও মর্ম এবং সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতার নির্মম কষাঘাতে জাতি নিমজ্জিত হবে গভীর অন্ধকারে।
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×