আমার একজন বন্ধু (মেয়ে) দেখলাম কে জানি সুইসাইড করেছে, সেজন্যে দুইন্নার যতো মানুষ সুইসাইড করেছে সবাইরে ধুয়ে দিছে। কিন্তু সুইসাইড যে করেছে, তার যে এর পিছনে কোন হাত ছিলো না, সেটা আমাদের বোঝা উচিত। সেজন্যেই একটু গ্যাজাইলাম।
আমরা ভুলে যাই, শরিরের যেমন রোগ হয়, মনের ও তেমন রোগ হয়। শরিরের যেমন, সর্দি-কাশি, জ্বর, যক্ষা, কলেরা, ডায়রিয়া, বহুমুত্র, হৃদরোগ, ক্যান্সার আরো শত শত রোগ হয়, তেমনি মনের ও শত শত রোগ হয়। তার জন্যেও ডাক্তার আছে। সর্দি হইলেই যেমন মানুষ মরে না, আবার ওশুধ ছাড়া সর্দি হয়েও মানুষ মারা যাইতে পারে (যেমন, নিউমোনিয়া), তেমনি মানসিক রোগ মানেই বদ্ধ-উন্মাদ না। আমরা শরিরের কোথাও চিনচিনে ব্যাথা হইলে কোন রোগের লক্ষণ ভেবে ডাক্তার দেখাই, কিন্তু মনের কোথাও চিন চিন করলে লজ্জায় কাওরে বলিও না। আর বললেও সেটা হাসির খোরাক হয়। প্রেম ঘটিত ব্যাপার ই মানব মনের সব না, এছাড়াও বহু কারণে মনের সর্দি-কাশি, জ্বর হয়।
সবার শারিরীক সক্ষমতা যেমন সমান না, তেমন মানসিক সক্ষমতাও সমান না। আর তাই 'আমি এতো কিছুর পরেও বেঁচে আছি, আর ও কেন মরলো' এজাতীয় ছাইপাঁশ বলবেন না। শরিরের স্বাস্থ্যের মাপকাঠি আছে, মেঁপে বলতে পারছেন, কে বেশি সক্ষম, কে বেশি পরিশ্রম করতে পারবে। কিন্তু মনের সেরকম কোন মাপকাঠি আছে কি না সেটাই আমরা জানি না। এর মধ্যে আবার কেও বইলেন না যে একাডেমিক পরীক্ষা মনের জোর মাইপা একদম উল্টায়া ফেলে।
একজন ক্যান্সারের পেশেন্ট কেন তার রোগ ধরা পড়ার পরেও আত্মহত্যা করে না? কারণ সে জানে, ০.০০০১ শতাংশ হইলেও তার বাঁচার চান্স আছে। কিন্তু মানসিক সমস্যায় ভোগা একজন মানুষ (বিশেষ করে ডিপ্রেশন) ৯৯ভাগ ক্ষেত্রে কারো সাহায্য পায় না। ভাই, বন্ধু, বান্ধবী যদি অসুখ সারাইতে পারতো, তাহলে ডাক্তারিবিদ্যা নামটাই ডিকশনারিতে আসতো না। এদিকে দেশের মানসিক চিকিৎসকদের যে দশা, তাদের কাছে গেলে সিম্পলি হাতুড়ে চিকিৎসা করে। গোটা দশেক ঘুমের অষুধ আর এন্টি ডিপ্রেশন ধরায়া দেয়, ব্যাপারটা অনেকটা অসুখ যেটাই হোক, তিনবেলা তিনটা নাপা এক্সট্রা প্রেস্ক্রাইব করার মতো অবস্থা।
আর হ্যাঁ! হুদাহুদি সুইসাইড করতে চাওয়ারে সুইসাইডাল টেনডেন্সি বলে, এইডাও মানসিক রোগ, যার চিকিৎসা আছে। এখন রোগীরে ডাক্তার না দেখায়া আশাকরছি রোগী মইরা যাওয়ার পর তারে গালিগালাজ করবেন না।
কোন মানুষ যখন সুইসাইড করছে, তখন তারে দোষ না দিয়ে, সিস্টেমরে দেন। সমাজরে দেন। যে সমাজ শিখাইছে শরির ই সব। মন দিয়া মাঝে মধ্যে প্রেম-পিরিত আর আজাইরা মুড়ি খাওয়া ছাড়া কোন কাজে লাগে না।
নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেন, অন্যরেও মানসিক স্বাস্থ্যের পরিচর্যা করতে উৎসাহিত করেন।
(ছবিখানা গুগল থেকে সংগৃহীত)


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

