ছোটবেলার বন্ধুত্বে কোন চাওয়া-পাওয়া ছিল না। কিন্তু বড়বেলার বেশিরভাগ বন্ধুত্বই কেন জানি প্রত্যাশাবিহীন হয় না। দলীয় সুবিধা পাবার জন্য বন্ধুত্ব, নোটের জন্য বন্ধুত্ব, বিনে পয়সায় খাওয়ার ধান্দায় বন্ধুত্ব, চান্সে সেলফোন ব্যবহারের জন্য বন্ধুত্ব ইত্যাদি হরেকরকম বন্ধুত্ব বড়বেলাতেই চোখে পড়ে। তবে এটাও ঠিক হাতের পাঁচ আঙ্গুল সমান নয়। এখনো পৃথিবীতে যেমন ভাল মানুষের সংখ্যা বেশি, তেমনি স্বার্থপরতাহীন বন্ধুত্বই বেশি।
আমাদের দেশে বন্ধুত্ব বলতে ছেলে-ছেলে বন্ধুত্ব কিংবা মেয়ে-মেয়ে বন্ধুত্ব বোঝানো হয়। ছেলে-মেয়ে বন্ধুত্ব বিষয়টিকে অনেকেই বাঁকা চোখে দেখেন। কেউ কেউ ভাবেন, ছেলে-মেয়ে বন্ধুত্ব হয় নাকি! হয় তো প্রেম! আসলে এটা আমাদের একটা বিরাট সমস্যা যে আমরা প্রেম ও বন্ধুত্বকে পরস্পরের সাথে মিলিয়ে গুলিয়ে ছাড়ি। অবশ্য ইদানিং দৃষ্টিভঙ্গির কিছুটা পরিবর্তন হচ্ছে। সবকিছু সহজ চোখে দেখলেই তো হয়। বন্ধু তো বন্ধুই। হোক না সে ছেলে কিংবা মেয়ে। বন্ধুকে ছেলে/মেয়ে হিসেবে না দেখে আমরা কি মানুষ হিসেবে দেখতে পারি না?
অনেকেরই জীবনের একটা সময় বন্ধু থাকে না। হয়ে পড়েন নিঃসঙ্গ। ব্যস্ততার অজুহাতে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখেন না কেউ কেউ। কিন্তু এ আধুনিক যুগে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখাটা কি খুব কঠিন? কাজের চাপে হয়ত দেখা করা যাচ্ছে না, খরচের ভয়ে মোবাইলে কথা বলা যাচ্ছে না, তাহলে অন্তত একটা মিসকল তো দেয়া যায়-'দোস্ত, তোরে ভুলি নাই!'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


