তুমি কি জানো, সেই রাত্তিরে বৃষ্টি নেমেছিল পৌষের হিমে?
আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম তবু নীলকণ্ঠীর মাঠে।
সেখানে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির কণা
আমাকে ছুঁতে চেয়েছিল তীব্র বিষাদে।
আমি তখন বিষাদ নয়, খুব চাইছিলাম পৌষের হিম
কিন্তু সে আমায় ছুঁতে পারে নি, খানিক হাওয়া হঠাৎ
নাকের ডগা ছুঁয়ে উড়ে এলো বুকে। আমি ভাবলাম, কষ্ট।
তখনও চাঁদ ওঠে নি আকাশে, মেঘে ঢেকেছিল শুক্লপক্ষ।
আমি দাঁড়িয়েছিলাম নীলকণ্ঠীর মাঠে।
কী ভীষণ একা! কী ভীষণ শুন্য।
যেন একটা মৃত মাছ, তার জন্য শোকের কি আয়োজন?
বরং উনুনে ঝলসে ওঠে দগদগে আগুন, জলেরা ভেজায় জিভ!
আমি তবু দাঁড়িয়েই ছিলাম। একটা ডানা ভাঙা পাখি হঠাৎ
আমার কাঁধ ছুঁয়ে থামল, তারপর ফিসফিস করে বলল, 'অপেক্ষারা বড্ড কষ্টের'।
আমি বললাম, 'না, উপেক্ষারা'।
ঠিক তখনি মেঘের ভেতর থেকে জেগে উঠলো চাঁদ।
নীলকণ্ঠী মাঠের ঘাস ছুঁয়ে কেউ একজন হেঁটে এলো, নীল শাড়ী!
আমি তীব্র অপেক্ষায় তাকিয়ে রইলাম নির্নিমেষ।
কিন্তু সে হেঁটে গেল উপেক্ষায়! জল আর জোছনা ছুঁয়ে, বৃষ্টি ছুঁয়ে, বাতাস ছুঁয়ে।
আমি সেই নীলকণ্ঠীর মাঠে অপেক্ষায় রয়ে গেলাম অস্পৃশ্যই। কিংবা উপেক্ষায়।
ডানা ভাঙা পাখিটা হঠাৎ ফিসফিস করে বলল,-
'দুটোই বড্ড কষ্টের, অপেক্ষা কিংবা উপেক্ষা'।
---------------------------------------------------------------
অপেক্ষা কিংবা উপেক্ষা/সাদাত হোসাইন
০২/০৫/২০১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



