আমি শুনে চমকে উঠলাম!
তিনি আমার দীর্ঘদিনের পরিচিত মানুষ, হঠাৎ বললেন, 'ধুর মিয়া, আপনি ফেসবুকে যেই জাম্বুরা গাছের ছবি দিছেন, ওগুলো কি আসলেই জাম্বুরা গাছ?'
আমি বললাম, 'হ্যা', কেন?'
উনি বললেন, 'আপনি শিওর?
আমি বললাম, 'সিওর না হওয়ার কি আছে?'
উনি আমতা আমাতা করে বললেন, 'কিন্তু আমিতো জানি, জাম্বুরা গাছ হয় লতার মত!'
আমি অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইলাম। খুব অদ্ভুত চোখে। পরে অবশ্য সেই গল্প মনে পড়ল, কোন এক ছোট্ট মেয়ে খুব আহ্লাদ করে তার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল, 'আব্বু, আব্বু, ধান গাছে কি কাঠ হয়?'
আমার জীবন এমন অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতায় পূর্ণ। আমার পরিচিত এক আপুর মেয়ে টুপুর। ১২-১৩ বছর বয়স। নন্দন না ফ্যান্টাসি কিংডমের ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ঘুরে এসে খুব উত্তেজিত। সেদিন হঠাৎ আমার সাথে দেখা, বলল, 'মামা, মামা, জানো? ওয়াটার ইজ দ্যা বেস্ট থিং অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড টু মেক ফান'।
আমি বললাম, 'তাই?'
ও বলল, 'হুম, আই জাস্ট লাইক ওয়াটার'।
আমি বললাম, 'সাঁতার জানো?'
ও বলল, ;না, তবে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে ভেসে থাকতে পারি, কি যে মজা!'
আমি বললাম, 'তুমি কি জানো, দেশের উত্তরাঞ্চল পানিতে পানিতে ভেসে যাচ্ছে? তুমুল বন্যা'
ও সাথে সাথে বলল, 'ওয়াও... আমি যাবো মামা, আমি যাবো। সব জায়গা পানিতে ডুবে আছে?'
আমি বললাম, 'হ্যা'।
ও বলল 'ওয়াটার ওয়ার্ল্ডের মত?'
আমি জবাব দিলাম না। ও বলল, 'চলো না মামা, আমরা সবাই মিলে ঘুরে আসি, চলো। ভয় কি, লাইফ সাপোর্ট তো থাকবেই! অনেক মজা হবে!'
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, 'কিন্তু সবার তো লাইফ সাপোর্ট থাকে নারে!'
ও বলল 'তুমি কাদের কথা বলছ!'
আমি বললাম, ওখানকার লক্ষ লক্ষ মানুষের কথা'।
ও বলল, 'ওদের লাইফ সাপোর্টের কি দরকার, ওরাতো সাঁতার জানেই। ওদের তো অনেক মজা!অনেক!!
আমি আর কথা বললাম না। আমার আর কথা বলতে ইচ্ছে করল না। বিশাল উত্তরাঞ্চল জুড়ে লক্ষ লক্ষ পানিবন্দি মানুষের মুখ ভেসে উঠল চোখে। ভেসে যাচ্ছে ফসলের মাঠ, ঘরের চালা, গবাদিপশু, শিশুর শরীর, আগামী কালের দিন, দিনের সকাল, সকালের স্বপ্ন, বেঁচে থাকা, আগামী । সব ভেসে যাচ্ছে। সব...
একটা লাইফ সাপোর্ট আসলেই খুব দরকার, খুব... খুব...
সাঁতার না জানা মানুষদের 'ভেসে থাকার' জন্য?
না, না, সাঁতার জানা মানুষদের ''বেঁচে থাকার'' জন্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



