ব্লগার রাজীব নুর ভাই এর view this link চাঁদগাজী এবং অন্যান্য ব্লগারগন পোষ্ট এ কমেন্ট করতে গিয়ে এই গল্পটা লেখা, কমেন্ট বক্সে লিখে এন্টার না চেপে কাট করে আমি নতুন পোষ্ট করলাম। ভাবলাম গল্প হয়ে গেল বোধয়। কৃতজ্ঞতা রাজীব নুর ভাইকে।

গন্তব্য
মানুষ চিনিনা আমি, কিছুটা বুঝি। চেনা হয়না আমার এই মানুষ এটা, এই নাম ওনার এসব আমাকে দিয়ে হয়না, আমি পারিনা, আমি ভুলে যাই নিক নাম দেখে তার চেহারা মেলাতে কিংবা ছদ্ম নিক হলে সে কী ভাই নাকি বোন আমি দ্বন্দে পড়ে যাই। এমনসব দন্দ্ব নিয়ে আমার পথ চলা। আমি যখন একা পথ চলি এমন হাজারো দ্বন্দ আমাকে ঘিরে ধরে। আমি পথ ভুলে যাই, আমি গন্তব্য ভুলে যাই। ভয় হয় জীবনানন্দ এর কথা ভেবে। হয়তো এমনসব চিন্তা, দ্বন্দ, ভাবনা আর বোধ এর জগতে ঢুকে গিয়ে পড়ে গেছিলেন ট্রাম এর সামনে।
চলতি পথে হঠাৎ ডাক পড়ল বাকপ্রবাস ভাই বলে। ফিরে তাকালাম। এক লম্বা চৌড়া নিপাট ভদ্রলোক লুঙ্গি টিশার্ট আর কোমরে গামছা পেঁচিয়ে আম বিক্রি করছে। তাকালাম ওনার দিকে, হুম আমাকেই ডাকছে। কিন্তু আমিতো আম কিনতে চাইনি, আমাকে কেন ডাকল? শংকার সাথে ঠোঁট কোনে হাসি নিয়ে গিয়ে পাশে দাঁড়ালাম।
কেমন আছেন? কী করছি এখন? ইত্যাদি কূশলাদি জিজ্ঞেস করছিল কিন্তু আমি উত্তর দিয়ে চলেছি তখনো জানা হয়নি ভদ্রলোক কে? শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা করতেই হলো।
"জ্বি আমি রাজিব নুর."
সাথেসাথে বুকে জড়িয়ে ধরলাম। আমার আর কোন সন্দেহ রইলনা এই কাজটা ওনাকে দিয়ে সম্ভব। বললেন এই নিন ভাই আম নিয়ে যান, বলেই ভাল আমটা বাছাই করতে লাগলেন। আমি বললাম না ভাই এখন আম নিবনা, একটা কাজে বের হলাম, হাতে আম থাকলে কাজের সমস্যা হবে। নূর ভাই বললেন, সমস্যা নেই। আম কেটে দিচ্ছি, খেয়ে যান।
দুইজনই আম খেলাম, এরই ফাঁকে দু'এক কেজি বিক্রিও করে ফেললেন। নূরভাই যেভাবে আমের বর্ণনা দিচ্ছিলেন কাষ্টমারদেরকে, না কিনে উপায় নেই। এমন গ্যারান্টি দিচ্ছিলেন যে, বাসায় গিয়ে যদি আম মিষ্টি না থাকে তাহলে রিটার্ন নিয়ে আসলে টাকা ফেরত এবং সেই আমটাই গিফ্ট হিসেবে থাকবে।
আমরা আম খেলাম। বোতলের পানিতে হাতও ধুলাম। আমটা আসলেই মিষ্টি ছিল। আমার মনে তখনো কিন্তুটা রয়ে গেল। নিশ্চয় কোন হেতু আছে। প্রশ্নটা করেই ফেললাম।
"হুম, এটা একটা ক্যাম্পেইন।" এই ক্যাম্পেইন এর বৈশিষ্ট্য হল কাজকে কাজ ভাবতে হবে, যে কাজে কোন ঠকবাজি নেই, অন্যায় নেই এবং উপার্জন হয় সেটাই কাজ। তার কোন ছোট বড় নেই। আমাদের একটা সংগঠন আছে। আমরা যেসব শিক্ষিত বেকার আছে তাদেরকে জড় করে এভাবে ক্যাম্পেইন করে দেখিয়ে দিইযে, তুমি কিছু একটা নিয়ে শুরু করে দাও। চাকরী হবে, পাবো, পাবোনা এসব করে করে যখন কিছুই হচ্ছেনা, কম পুঁজিতে তুমি একটা কিছু শুরু করে দাও। তোমার যেহেতু যোগ্যতা আছে তুমি এখানে পরে থাকবেনা, তুমি উপরে উঠে যাবেই, তবে কম পুঁজিতে একটা কিছু শুরু করে দাও। শুরুটা হোক।
এই যে দেখছেন পাশে দাঁড়ানো ছেলেটা আর ওই ওইযে নীল টি শার্ট পরা ওরা আমাদের নুতন সদস্য। ওরা দেখতে আসল আমার আম বেঁচা। ওরা সারদিন আজকে আমাকে অবজার্ভ করবে। আমি কিভাবে আম বিক্রি করছি। কিভাবে কাষ্টমার ডিল করছি। সারাদিন কতো বিক্রি হলো ইত্যাদি এসব চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে। তারপর ওরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে ওরা কী কররবে। কিভাবে করবে সেই শিক্ষাটাতো পেয়ে গেলো আমার আম বিক্রি থেকে।
আমি বিদায় নিয়ে গন্তব্যের পথে। কিন্তু আমার গন্তব্য ঘুরে গেছে সেই আম খাবার পর থেকে। চাকরীর ইন্টারভিওটা আর দিতে গেলামনা। দীর্ঘ বার বছর প্রবাস থেকে খালি হাতে এসে এখন খুঁজতে হচ্ছে চাকরী। সংসার চালাতে হবে উপায়তো নেই। না, ধরাধরি করে চাকরী আর করবনা। ব্যাবসাই করবো। রাজবী নূর ভাই চোখ খুলে দিয়েছে। সারা জীবন চাকরী করে চেষ্টাতো কম করলামনা, দাঁড়াতে তো আর পারলামনা, স্থিতি হলোনা। এবার ফেরী করে বেড়াই কিছুদিন। দেখা যাক কী হয়।
কী দিয়ে শুরু করব? সিজনাল ফল নাকি অন্য কিছু? লোকে যে যাই বলুক আমি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছি। একটা ভেনগাড়ী হবে এবং ফাষ্টফুড আইটেম। অপিষ পাড়ায় সকালে এবং দুপুরে এটার চাহিদা ব্যাপক। আর আমার যেহেতু এসবে অভিজ্ঞতা আছে তাই ভয় বা রিস্কটাও কম। যেটা ঝারতে হবে সেটা হলো লোক লজ্বা। নুর ভাইতো দেখিয়েই দিল কাজে সততা ও মিথ্যার আশ্রয় না থাকলে এবং সেটা থেকে উপার্জন হলে সেটাই কাজ। তার কোন ছোট বা বড় নেই, লজ্বা বা অসম্যান নেই।
আমি চললাম................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



