somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছেলেটা এমন কাজ করলো কিভাবে? নিয়মিত নামাজ পড়ে দাড়ি ও রাখছে আবার... (দ্যা বিড়ম্বনা অফ দাড়ি এন্ড নামাজ)

২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৫:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা ব্যাপার আমাকে খুব ভাবায়। বিষয়টা ক্লিয়ার করেই বলি। দাড়ি রাখলে আর নিয়মিত নামাজ পড়লে যে সে একেবারে ফেরেস্তা হয়ে যাবে তা কিন্তু না। ভালো করে খেয়াল কৈরা কিন্তু।
দাড়ি জিনিসটা প্রাকৃতিক। নির্দিষ্ট বয়সে সাধারনত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল পুরুষেরই দাড়ি উঠে (ক্ষেত্রভেদে হরমোন ঘটিত জটিলতার কারনে কখনো মহিলাদের ও হয়) এবং মৃত্যু অব্দি তা বড় হতে থাকে। ধর্মীয় (বিশেষ করে ইসলাম) দৃষ্টিকোন থেকেও দাড়ি রাখার জন্য অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে দাড়ি না রাখার পরিনাম ও বলে দেয়া আছে। ডাক্তারের পরামর্শে কিংবা শারীরিক অসুস্ততা ছাড়াও বিভিন্ন কারনে অনেকে দাড়ি রাখেন। একজন দার্শনিক (নাম ভুলে গেছি) তিনি একবার শেভ করছিলেন তখন তার ছেলে উনাকে জিজ্ঞেস করলো এটা তিনি কেনো করছেন? দার্শনিক ত্তখন চিন্তা করলেন আসলেই ত আমি কেনো এটা করছি? এটা তো না করলেই হয়। এর পর থেকে উনি আর শেভ করেন নি।
যাইহোক আমি যা বলছিলাম, আমাদের সমাজে একটা ব্যপার খুব প্রচলিত যে, দাড়িআলা লোক দেখলে অন্যভাবে দেখা হয়, কখনো তা আবার বেশ সম্মানের সাথে। এখানে আমি কম বয়স্ক বা মধ্যবয়সী দের কথা বুজাচ্ছি (বুড়ো হলে দাড়ি রাখা এটা মোটামুটি সবাই মেনে নিয়েছে)। অর্থাৎ যে বা যিনি দাড়ি রাখবেন তার কাছ থেকে আশা করা হয় তিনি সত থাকবেন, মিথ্যা বলবেন না, চুরি চামারি করা যাবে না, বিশেষ করে অশ্লিলতা তো ভয়ঙ্কর ভাবে নিষিদ্ধ। প্লিজ আমার কথা বুজার চেষ্টা করবেন Misinterpret করবেন না। উপরের যে খারাপ কাজ গুলোর কথা বলেছি তার সবগুলা কিন্তু যেকোনো স্বাভাবিক মানুষের জন্যই নিষিদ্ধ। আর দাড়িবিহিন কোন লোক যদি ঐ গর্হিত কাজ গুলো করে তখন খুব একটা খারাপ দৃষ্টিতে দেখা হয়না যতটুকু দেখা হয় একজন দাড়িওয়ালা লোক করলে। কোন দাড়িয়ালা মুসলিম যদি যেকোনো প্রকারের খারাপ কাজ করে ফেলে তখন তাকে সহ সকল মোল্লাহ বা আলেমদের উদ্দ্যেশে গালি দেয়া হয়। কি ভয়ঙ্কর! দাড়ি রেখে এমন কাজ কেউ করে? আরো ভয়ঙ্কর ব্যপার হলো কেউ যদি সঠিক ভাবে দাড়ি রাখে তবে সে জঙ্গি, বা মৌলবাদী। মিডিয়া এই জিনিসটা একেবারে আমাদের মগজে পাকাপোক্ত ভাবে গেড়ে দিয়েছে যে জঙ্গিদের খুব লম্বা লম্বা দাড়ি থাকে। তারা লোকালয়ের বাইরে থাকে, কাধে একটা বন্দুক, মাথায় পাগড়ি আর মুখে কালো কাপড় থাকবে। মানে তাদের কথায় বুঝা যায়, জঙ্গি ছাড়া আর কারো মুখে দাড়ি উঠেনা, আমার কথা হলো যে খারাপ কাজ করার ইচ্ছা করবে সেতো দাড়ি রেখে আবার কাজ শেষে ফেলেও দিতে পারে। এভাবে এক ঢিলে অনেক গুলা পাখি মারা যায়। এ জিনিষ কি কেউ বুজে না? ভাবটা এমন যে, দাড়ি ছাড়াদের জন্য যেকোনো পাপ জায়েজ আর দাড়িয়ালা লোকের জন্য তা বিরাট পাহাড়। শুধুমাত্র দাড়ি রাখার কারনে দুইজন কে দুইভাবে বিচার করা হচ্ছে। কি আজব আমাদের চিন্তা ভাবনা!
একই ভাবে কেউ যদি নিয়মিত নামাজ পড়ে তাতে ও তার বিড়ম্বনার যেনো শেষ নেই। ছি ছি তুমি না নামাজ পড়ো তবে কেনো ঐ কাজ করলা? অইখানে গেলা? এরকম কথা প্রায়শই আত্মীয় দের কাছ থেকে শুনতে হয়। দেশের বাইরে থেকে কেউ আসলে নামাজীদের জন্য বরাদ্ধ হলো আতর, টুপি, ইত্যাদি জিনিস যা চাইলেই যখন তখন কেনা যায় আর যে বা যারা নামাজ পড়ে না তার জন্য পারফিউম, চুলের জেল, গেঞ্জি, শেভিং ফোম সহ আরো কত জিনিস, কি আশ্চর্য! আমাদের চিন্তা গুলো এমন কেনো? ভাবতেই ক্যামন লাগে।
অনেকে ইয়াং বয়েসে হজ করেনা, কারন হলো হজ থেকে এসে কোন খারাপের কাজ করা যাবে না। নিরামিশ লাইফ লিড করতে হয়। কোন ভুল হলে মানুষের ব্যাপক কথা শুনতে হয়, কি ব্যপার হজ করে আসলা আবার এইসব করতেছো? অথচ যে হজ করে নি সে দিব্বি যেকোনো কাজ করে যাচ্ছে। আর আমাদের সমাজ ব্যবস্থা ও তা দেখেও খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেনা। কি ভুলের মধ্যেই আমরা ডুবে আছি, কোন জিনিস কে কোনটির সাথে মিলিয়ে ফেলছি। হ্যাঁ... অনেকেই হয়ত বা বলবেন এটা ত ভালো। এতে করে দাড়ির কারনে খারাপ কাজ থেকে ত বেচে থাকা যায়। আমি অস্বীকার করছি না। তা হয়তোবা ক্ষেত্রবিশেষে সঠিক। আমার কথা হচ্ছে এভাবে চিন্তা করা হবে কেনো। দীর্ঘকাল থেকেই এই রকম চলে আসছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায়। বড় হলে নামাজ পড়া, বৃদ্ধ হলে হজ করা কিংবা দাড়ি রাখার এই tendency । একটা মানুষের যেকুনো সময় পদস্ফলন ঘটতে পারে। মুখে তার দাড়ি থাকুক বা নাই থাকুক, সে নামাজ পড়ুক বা নাই পড়ুক, হজ করুক বা নাই করুক। তাকে অতিরিক্ত কথা কেনো শুনতে হবে কেবল মাত্র নামাজ পড়া কিংবা দাড়ি রাখার কারনে। বেগম রোকেয়ার একটা লেখা পরেছিলাম অশিক্ষিত নারী যত ভুলই করুক তা ক্ষমা সুন্দর চোখে দেখা হয় বা সাধারন বলে ধরে নেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষিত নারী যদি ভুল করে তবে আর নিস্তার নেই।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৫:২০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×