বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা হচ্ছে একজন ছাত্রের জীবনে সর্বচ্চ পর্যায়ের শিক্ষা। এই জন্য আমরা এই শিক্ষাকে উচ্চশিক্ষা বলি। এই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ছেলে-মেয়েরা দেশ গঠনে সক্রিয় ভুমিকা রাখবে এটাই সবার প্রত্যাশা। কিন্তু আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান এখনও আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে পারিনি। বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের মানদণ্ডের যে ক্রম তাতে আমাদের অবস্থান খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা কেন তলানিতে পরে আছি? বিশ্বায়নের এই দিনে আমরা তো পিছিয়ে থাকার কথা না! তাহলে আমাদের সমস্যা কোথায়? প্রথমে আমাদের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে, যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহনের মধ্যমে আন্তরিকতার সাথে সেগুলো সমাধান করে এগিয়ে গেলেই আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পোঁছিতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।
১। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে এবং রাজনীতি মুক্ত করতে হবে। প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নিজস্ব নিয়ম আছে তা দিয়েই এটা করা সম্ভব। প্রয়োজনে নুতুন আইন করা যেতে পারে।
২। একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠনে গবেষণার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে, দেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে বিশেষ বারদ্দ প্রদান সাপেক্ষে টার্গেট নির্ধারণ করতে হবে। গবেষণা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ-দের দ্বারা মনিটরিং সেল গঠন করা যেতে পারে।
৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকগণের মূল কাজ হবে পাঠদান ও গবেষণা এবং ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক জ্ঞান অর্জনে পড়াশুনায় বিশেষ মনযোগী হতে হবে।
৪। দক্ষ প্রশাসনিক দ্বারা প্রশাসন পরিচালনা করে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের অধিকার সুরক্ষনের ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।
৫। ছাত্রছাত্রীরা যাতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আবাসিক হলে থেকে পড়াশুনার পরিবেশ পায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। আবাসিক হলের ধারন ক্ষমতা পর্যাপ্ত না হলে, বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ প্রাইভেট হাউসিং এর ব্যবস্থা করে ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করতে পারে।
৬। মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করার ক্ষেত্রে আর্থিক বরদ্দ বৃদ্ধি করা সময়ের দাবী। উচ্চ শিক্ষা কখনই অবৈতনিক হয় না। অবশ্যই টিউশন ফি যুক্তিসঙ্গত হারে বাড়াতে হবে। গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের প্রয়োজনে বৃত্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৭। দেশের মধ্যে অবস্থিত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতাল গুলোর মধ্যে গবেষণা ব্রিজ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি, বিশ্বের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়/গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষা-বিনিময় চুক্তি করতে হবে।
৮। বিভিন্ন সেক্টরের বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানি-গন সম্পুরক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা ইন্ডাস্ট্রির মান উন্নতকরনে তাদের মতামত দিবেন।গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল দেশের মানুষের কল্যাণে আসলেই কেবল শিক্ষার আসল মর্যাদা রক্ষিত হবে।
আর এভাবেই আমরা একদিন বিশ্ব-দরবারে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারবো। বাংলাদেশ হবে একটা উন্নত, সমৃদ্ধশালী দেশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


