somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সু-শিক্ষাই কেবল আমাদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট বেলা থেকে একটা প্রবাদ শুনে আসছি “ শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড”।আমাদের দেশের রাজনিতিবিদ থেকে শুরু করে আমরা সবাই সমাজ গঠনে শিক্ষার অপরিসীম গুরুত্বের কথা বলি। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতিই উন্নতি করতে পারে না। প্রবাদ আছেঃ যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি ততো উন্নত। কিন্তু সেই শিক্ষা অবশ্যই হতে হবে সুশিক্ষা। আমরা কি পারছি সেই সুশিক্ষিত সমাজ গড়তে?
বিশ্বায়নের এই দিনে আমার তো মনে হয় আমরা পিছনের দিকে যাচ্ছি। উদাহরনসরূপ একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমার জন্ম এক অজপাড়া গাঁয়ের মধ্য-বিত্ত পরিবারে। এই অর্থে অজপাড়া, রাস্তা ঘাট কল কারখানা তো দুরের কথা, যেখানকার মানুষ আজও বিদ্যুতের সংস্পর্শ পায়নি। গ্রামে বেড়ে উঠা আমি ছিলাম এক দুরুন্ত বালক। আমার বাবা একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়-এর শিক্ষক। ভাগ্যক্রমে শিক্ষক পরিবারে জন্ম হওয়ার সুবাদে ছোটবেলা থেকেই পড়াশুনার প্রতি আমার ছিল একটা বিশেষ ঝোঁক । সেই অবহেলিত গ্রামের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার শিক্ষা জীবনের শুরু। প্রাথমিক বিদ্যালয় এর গণ্ডি পেরিয়ে একসময় আমার বাসা থেকে ২ কিলোমিটার দূরে এক উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। তখন দেখেছি, আমার যারা শিক্ষক ছিলেন তারা কতটা ভাল ও দক্ষ । একাধারে তারা যেমন ছিলেন সৎ ও আদর্শিক তেমনি ছিলেন শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে আন্তরিক। সেইসময়, তারা আমাদের যেটা শিক্ষা দিয়েছেন, তার বদৌলতে আজ আমরা কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, আর কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক। আমি সেই সব গুণী ও সন্মানিত শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। কিন্তু আজ এর বিপরীত চিত্র খুঁজে পাই।আজ আর সেই স্কুল থেকে আর প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যায় না। গড়তে পারে না একজন ভাল মানুষও। কিন্তু বাস্তবিক প্রেক্ষাপটে তো আরও ভাল হওয়ার কথা ছিল কারন শিক্ষাদানের প্রযুক্তি এখন সবার হাতে হাতে। আজ যারা শিক্ষকতা করছেন, তাদের মধ্যে সেই আদর্শিকতা, দক্ষতা এবং যোগ্যতার অভাব পরিলক্ষিত হয়। কারন, আজ যারা শিক্ষক হয়েছেন বা হচ্ছেন তাদের অধিকাংশই হয় মামা-খালু নাহয় টাকার জোরে, যোগ্যতার বিচারে নয়। কিন্তু এই দোষ কি তাদের? এই দোষ সিস্টেম এর। এই উদাহরন শুধু একটি, দুটি স্কুল-কলেজে না, সারা বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের। যেখানে একজন মানুষের শিক্ষার ভিত্তি রচিত হয়। এই ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে আমরা কিভাবে একটা ভাল সুশিক্ষিত জাতি আশা করতে পারি?

এর ভয়াবহতা আমারা লক্ষ করছি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার ক্ষেত্রেও । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুবাদে আমার জানার সুযোগ হয়েছে এই নতুন প্রজন্মকে নিয়ে। যাদেরকে নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখি তারা একদিন এই দেশটাকে নেতৃত্ব দেবে, সোনার বাংলা গড়বে। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করবে, দেশের সম্মান রক্ষা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে একজন ভাল, দক্ষ দেশপ্রেমিক মানুষ হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলবে এটাই তো একজন ছাত্র-ছাত্রীর লক্ষ হওয়া উচিৎ। কিন্তু শ্রেণীকক্ষে অনেক ক্ষেত্রে এমনটি পরিলক্ষিত হয়না। যেকোনো কারনেই হোক, অনেকেরই পড়ালেখার প্রতি আগ্রহ থাকে না, আচার-আচরন ও নৈতিক মূল্যবোধের অভাব পরিলক্ষিত হয় যেটা একজন মানুষ পরিবার কিংবা স্কুল-কলেজ থেকে শিক্ষা পাবার কথা। কিন্তু কেন এমন হয়? কারন, একজন ছাত্র-ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যখন বুঝতে পারে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেধাকে সর্বস্তরে চাকুরীর জন্য সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় না, মামা-খালু নাহয় টাকা দিয়ে চাকুরি পাওয়া যায়, তখন সে পড়ালেখায় মনোনিবেশ না করে কোন রকমে, কম পরিশ্রমে একটা ডিগ্রি অর্জন করে অসৎ পথ অবলম্বন করে চাকুরী পাওয়ার পথ খোজে। তখন খুজতে থাকে কিভাবে অসৎ চক্রেরে মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করা যায়, রাজনৈতিক পরিচয়ে, কিংবা টাকার মাধমে চাকুরী পাওয়া যায়। এমন পরিস্থিতিতে যারা সৎ, পড়াশুনায় আগ্রহী তারাও পড়ালেখার উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। এভাবেই দেশের সর্বস্তরে আজ অযোগ্য, অদক্ষ মানুষের সমাহার। এর কুফল আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করি।এটি দুর্নীতির অন্যতম একটি কারণ বলে প্রতীয়মান। আজকের বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে একটা ভাল দেশ গড়তে পারি? একটা ভাল জাতি গড়তে হলে এর পিছনের সমস্ত কারণ খুঁজে বের করে কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে, অন্যথায় আমরা কোন দিনও একটা সত্যিকার সু-শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে পারব না এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারব না। আমাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে......।।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×