somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুগন্ধীওয়ালা হকার

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৃষ্টিকর্তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমি । প্রতি শুক্রবার ছাড়াও প্রতিদিন ৫ বার নির্দিষ্ট সময় করে স্মরন করার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে । প্রার্থনার সময়ে কোন এক্সকিউজ এপলিকেবল নয় তথাপি আমরা পার্থিব জগতে জৈবিক চাহিদা পূরনের জন্য নানান ব্যস্ততা তুলে ধরি । ধর্মীয় প্রেকটিসটাও বাবার কাছ থেকে পাওয়া । তাবলীগের আমির ছিলেন বাবা । বাবা যেদিকে যেতেন আমাকেও সাথে করে নিয়ে যেতেন । বাবা নিতেন ধর্মীয় শিক্ষা দিতে আমি যেতাম চকলেট খাওয়ার লোভে ছোট বলে কথা ।

ধর্মীয় অনুশাসনে বড় হয়েছি, ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে যতটুকু জ্ঞান দিয়েছেন তিনি , আমি তা দিয়ে তাকে খুঁজি, বিচার করি, নিজের মনের সাথে প্রশ্ন করি । আইফোনের আবিষ্কারক যদি স্টিভ জব কে মানতে পারি বিশাল এই সৃষ্টির যে একজন মেকার আর্টিস্ট আছে তা মানতে আমার আপত্তি থাকার কথা নয় । চোখের সামনে একটি উদ্ভিদও যে শ্রী ধারন করেছেন তার সামান্য আকৃতি দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
যিনি সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করছেন সেটাও তার বিশ্বাস । আমি নিজের ধর্ম ছাড়াও অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করি ।

প্রাসঙ্গিকতায় আসি ইউরোপে মুসলিম উপাসনালয় গুলো ছোট পরিসরের । দেশের মত বৃহৎ পরিসরে নেই । আসন সীমিত হবার জন্য বাইরে দাড়িয়ে আছি ধর্মীয় পোশাকে । দেশীয় পোশাকের মধ্যে পান্জ্ঞাবী আমার প্রিয় পোশাক । আমার মত অন্যরাও দাড়িয়ে । এক পর্ব শেষ হচ্ছে দ্বিতীয় পর্বে আমি দাঁড়াবো । পেছন থেকে কেউ একজন পিঠে হাত রাখল । ফিরে তাকাতেই একজন বলল হাতটা একটু বাড়িয়ে দিন । বুঝে উঠার পূর্বেই হাতে তরল পানীয় স্প্রে করে দিলেন । নাকের ডগায় স্পর্শ করতেই সুগন্ধীর ঘ্রান আসলো । সবাইকে ডেকে ডেকে সুগন্ধী ঢেলে দিচ্ছেন তালুতে । প্রথমে মনে হল মসজিদ কমিটি এটি করেছেন ।
মসজিদের পটকের পাশে ছোট একটি ব্যাগ ঝোলানো কাঁধে । হারমোনিয়াম আকারে । কাছে যেতেই সালাম[আদাব] দিলেন । উত্তর করে কুশলাদি জিজ্ঞেস করলাম । বলল ভালোই আছেন তিনি । কথা বাড়িয়ে সামনের দিকে ধাবিত হলাম । তিনি জানালেন তার বাড়ী বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায় । বিদেশে এসেছেন দীর্ঘ একযুগ, এর মাঝে আর দেশে যাননি । শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন ।
আমি : জ্বী, মাস্টার্স করেছেন, তো এখানে কেন আপনি ?

বললেন অক্ষয় বাটা পাদুকা কয়েক পাটি গত করেছেন ।তার উপর মামা মারা গেছেন ছোট থাকতেই । চাকুরীর জন্য অনেক তদবীর করেও লাভ হয়নি । রাজনীতি পরিবার থেকে তিনি উঠে আসেননি যে যোগ্যতা নীলক্ষেত পাশ হলেও চাকুরী মিলে যাবে । নিজের অর্জিত জ্ঞান বিন্দুমাত্র রাষ্ট্র মূল্যায়িত করে নি। যদিও ক্ষোভের সুরে বললেন জ্ঞানটা দিয়ে রাষ্ট্রের সেবা করতে চেয়েছিলেন । পরিবারে তিনিই বড় । সবার দ্বায়িত্ব ভার তার উপর । কোন উপায়ান্ত না দেখে নিজের জ্ঞান নিজের মাঝেই রেখে পৈত্রিক আবাদী জমি বিক্রি করে পাড়ি জমান বিদেশে । আজ তিনি সুগন্ধীওয়ালা ।

নৈতিকতা বিকিয়ে দিয়ে ধর্ম ব্যাবসায়ীদের হাতে হাত রেখে মৌলবাদ শস্য উৎপাদন করতে পারতেন । তাও করেন নি । এক ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন । বললেন এদের মত ভন্ড মৌলবাদের কারনে আজ আমার দাড়ী , টুপি পোশাক নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে । ধর্ম ভুল নয় বরং যিনি প্র্যাকটিস করছেন তিনার ভুল হতে পারে । সৃষ্টিকর্তা ইশ্বর , ফলোয়ার মানুষ । মানুষ ভুল করাটাই স্বাভাবিক । সাদা পন্ডিত জাতি তারা তো ধর্ম যুদ্ধে আমাদের ডেভিল বানিয়ে ফেলছেন [যদিও আমি-আমার ধর্মে উগ্রতার কোন স্থান নেই, আমি বলেই যাচ্ছি **ক টেররিজম, কে শুনে কার কথা ]

নামাজের প্রথম পর্ব শেষ । কথা গুটিয়ে বললাম সৃষ্টিকর্তা আপনার সহায় হোন । মসজিদে ঢুকে গেলাম ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:২৯
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নতুন ভোরের গান

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭


নতুন ভোরের গান



কষ্টের দিন পেরিয়ে এবার
আসবে আলোর গান,
নতুন দিনের নতুন সুরে
জাগবে সবুজ প্রাণ।

নষ্ট স্মৃতির আড়ষ্টতা
ঝরিয়ে দেবো অনেক দূরে,
নিজের মনেই ভালোবাসার
নূপুর বাজবে সুরে সুরে।



ভ্রষ্ট পথের আঁধার কেটে
ভোর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে চার বছর একদিন হয়ে গেল । কি আশ্চর্য!

লিখেছেন সামরিন হক, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৪৭

অবজ্ঞা

তোমার বিশেষ ঘৃণা দ্বারা আক্রান্ত আমি
চারপাশ ঘিরে ফেলেছে ঘৃণারা আমাকে
আস্তে আস্তে গ্রাস করে নিচ্ছে আমাকে তোমার ঘৃণা
আমার কথা শোন
আমি কখনই মনুষ্যত্বের সীমা পার করিনি
কিন্তু তোমার ঘৃণায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×