somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাগর সাখাওয়াত
একজন চাকুরীজীবির ডায়েরীতে লিখা হাজারও বায়না, সীমাবদ্ধতায় তা আর কখনই পূরন করা হয়নি । আমি সে ডায়েরীর খোঁজে ।

বাবাদের বর্ণিল ডায়েরীর খোঁজে

১৯ শে জুন, ২০১৬ ভোর ৫:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ প্রতিটি শব্দ লিখেছি আর চোখের জল ঝরিয়েছি ]

ভোর হয়েছে নামাজ পড়তে উঠো, প্রতি সকালে দরজার ওপাশ থেকে এই সুর শুনেই আমার সকাল জানান দিতো ৷ দরাজ কন্ঠে পবিত্র কুরআনের ধ্বনি পুনরাবৃত্তি শুনতাম আর বলতো এখনো উঠোনি ? ভাবতাম কবে যে এই থেকে উত্তরণ হতে পারবো ৷ এখন দিনের ১২ কিংবা ১ টা তে সকাল হয় কিন্তু কেউ আমাকে ডাকছেনা বা আর কখনোই সুযোগ হবেনা ঠিকক তখনি আমার ধীশক্তি আমাকে উত্তর দেয় তুমিতো বড় হচ্ছো পাশাপাশি এটাই প্রবাস এবং কার্যময় জীবন ৷ আর ওপাশের ধ্বনিতো সুরের সুরকার হচ্ছেন বাবা ৷৷ আর হয়তবা কখনোই আমাকে ডাকবেনা বা ডাকবে কিন্তু সেই দৃঢ়তা উয্য থাকবে ৷৷ একটা বিশেষ স্মৃতি অবতারণ করি, আজ থেকে নির্দিষ্ট কিছু বছর পূর্বেও আমার কার্যফল ছিল রুক্ষও কর্কট প্রকৃতির ৷ একদিন কিছুসংখ্যক বন্ধু মিলে কনসার্ট দেখতে যাই ৷ অনুষ্ঠান শেষের পথে আবির্ভাব হয় সম্যসার, এবং এটা গড়ায় বিচারে, আমি বাসায় যাবার পর দেখি যাদের সাথে সৃষ্ট সম্যসা তারা হাজির, সব বিশ্লেষণ করার পর বাবাকে লক্ষ্য করলাম তাদের কাছে খুবী সমুচিত সুরে বললেন" আমার ছেলের জন্য আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রাথী তাকে অভিসম্পাত দিবেন না তার উপর এসে আমাকে থাপ্পড় দিলেন বললেন sorry বলার জন্য ৷ খুবি রাগ হলো বললাম sorry বলতে পারবো না আর বাবাকে বললাম আমি তোমার ছেলে, অন্যায় আমি করিনি কেন আমি সরি বলবো তারপরও গায়ে হাত তুলেছো, এই তোমার বুদ্ধিমত্তা ? কিভাবে তুমি বাংলাদেশের প্রথম সারির সরকারী কর্মকর্তা হও আমার মাথায় আসেনা ৷ বাবা কিছুই বলেননি, কিছুদিন অতিক্রান্ত হলো তার উপর হাতে ভিসা পেয়েছি ইংল্যান্ডে পড়াশুনা করার ৷ ঐদিন বিকেলে বাবা আমাকে বললেন আজ বিকেলে কোথাও যেনো না যাই বাবা আমাকে নিয়ে ঘুরতে যাবেন ৷ বের হলাম বাবার সাথে, নির্দিষ্ট কিছু দূরত্বে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিন ও বাগান বাড়ি দেখতে ৷ বাবা ছেলের কথোপকথন শুরু, তোমার মা বললো তুমি ইংল্যান্ড যাচ্ছো ? প্রফুল্ল মনে উত্তর করলাম হ্যাঁ বাবা ৷ অভিবাদন জানিয়ে বললো পরিপূর্ণ মানুষ হও ৷ আবার জিগ্গেস করলেন আমি যেখানে পড়াশুনা করবো সেখানে কেমন অর্থ লাগতে পারে ? ১ মিলিয়ন BD টাকা উত্তর জানাল দিলাম ৷ আবার বললো তুমি কি কখনো অভাববোধ অনুভব করেছিলে হঠাৎ এই ধরনের কথা শুনে অনেকটা অস্বস্তির সুরে বললাম না তা হবে কেনো ৷ বাবা এবার বললেন বাবার জন্মের পর পরই হারান দাদু ভাই কে, মানুষ হয়েছিলেন বড় বাবার কাছে, অনেকসময় বাতির কূপে তৈল থাকতো না পড়ার জন্য ৷ কখনো আবার তৈল কেনার জন্য থাকতো না পয়সা ৷ মায়ের ভালবাসা কি সেটাও সান্নিধ্য হয়ে উঠেনি ৷ কথাগুলো শুনতে শুনতে কষ্টের দিকে জুঁকে গেলো মন ৷ বললেন বাবা , তোমার বাবার সব কিছুতেই অভাববোধ লাঘামহীন ভাবে পিষ্ট থাকতো, অতো শিক্ষিত না আমি তোমার মত, বা আমর সুযোগ হয়নি বিলেতে পড়ার ৷ তোমার দুনিয়া আর আমার পৃথিবী সুবিশাল ফারাক্কা ৷ জানিনা কিভাবে বাংলাদেশ সরকার আমাকে মূল্যায়িত করেছে, তুমিতো পেয়ে বড় হয়েছো শুধু আমাকে প্রথম সারির নয়, তৃতীয় সারির কর্মকর্তা হয়ে দেখাবে, পারবা না ? কিছুই উত্তর দেইনি, কথাগুলোর মুল্যতা আজ উপলব্দি করে উত্তর ঠিকক করেছি, কিন্তু উত্তর কিভাবে দিবো আমি কেননা তুমি উত্তর শোনার বা বোঝার জন্য অপ্রস্তুত ৷ হারিয়ে বসে আছো স্মৃতিশক্তি জীবনের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করছো বেঁচে থাকার ৷ হয়তবা একদিন শুনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে যে চলে যাবা অপার্থিব জগতে ৷ আকাশের মত সুবিশাল গর্বিত অংশীদার যে তুমি আমার জনক ৷ জানিনা তোমার সাথে আর দেখা হবে হয়তবা না ৷ সকল জল্পনা কল্পনার বাইরে অনেক দূরে ভালো কিংবা মন্দ কাজের একটা ময়দান আছে হয়তবা প্রশ্নের উত্তর সেখানেই দিবো ৷ যেখানেই থাকো ভালো থাকো,সুস্থ থাকো দেখাতো হবেই কাল অথবা কোনো একদিন ৷ তোমার মত অসংখ্য সীমিত বাবার ডায়েরী ছিল যেখানে বাজেটের হিসেব করতে
জুড়ে থাকত আবদার মমতাময়ী মায়েদের । কি কি পূরন হয়নি , অভিমানের রং কেমন ছিল আমি দেখি নি । আমি সেই অপ্রত্যাশিত অপূরনিয় বাবাদের বর্ণিল ডায়েরীর খোঁজে । আমার কলমের রক্ত ফোটায় সে গল্প মানুষের কাছে পাঠাতে চাই বাবা

তোমার কনিষ্ঠ পুত্র ৷

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:২৮
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×