somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃস্বপ্নের সমাধানে আম্মু!

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ব্যখ্যাটা আমার জানা নেই। তবে একটা স্বপ্ন ছোট বেলা থেকেই দেখতাম। শুনেছি অনেকেই নাকি দেখে। ঘুমের মধ্যে অনেক উচু থেকে পড়ে যাওয়া। আমিও দেখতাম। উচু দালান থেকে পড়ে যাচ্ছি, গাছের মগডাল থেকে পড়ছি, বিদ্যুৎয়ের টাওয়ার থেকেও পড়েছি। বিদ্যুৎয়ের টাওয়ারে কি জন্য উঠছিলাম কে জানে! আমি শুধু পড়ে যাওয়াটাই জানি। মূহুর্তের মধ্যে পড়ে গিয়ে ঘুম ভেঙে যেত। আর ঘুম ভেঙে যে আতংকটা তৈরী হয় সেটা যে যে এভাবে পড়েছেন তারা অবশ্যই জানেন। আমি অনেক বছর এই সমস্যাটায় ভুগেছি। কাউকে বলতাম না। তারপর একদিন সকালে উঠে মনে হল আম্মুকে বলি। বললাম আম্মু আমি এরকম ঘুমের মধ্যে পড়ে যাই। আম্মু শুধু একবার তাকালেন। আশ্চর্য! এত বড় প্রবলেম আম্মুর কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। তার চেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার হল আমি আর কখনো ঘুমের মধ্যে পড়ে যাইনি। ওটা থেকে হয়ত মুক্তি পেয়েছি।
কিন্তু সমস্যা বাধল নতুন একটা। আমি কখনো উপুর হয়ে ঘুমাই না। অন্তত স্বাভাবিক ভাবে ঘুম ভেঙে কখনো নিজেকে উপুর হয়ে থাকা অবস্থায় পাইনি। কিন্তু আমি স্বপ্নে দেখতে লাগলাম যে আমাকে কে ঘাড় চেপে ধরে আছে। খুবই শক্তভাবে। আমি ঘুমের মধ্যে আপ্রাণ চেষ্টা করছি ছাড়ানোর। কিছুতেই পারিনা। তার সাথে যেন আমার যুদ্ধ চলে। কতক্ষণ চলে জানি না। তবে একটা সময় পর আমাকে ছেড়ে দেয়। আর শুধু তখনই ঘুম ভেঙে নিজেকে উপুর অবস্থায় আবিষ্কার করতাম। সাথে গোসলের মত ঘাম। আতংকের কথা নাই বললাম। এ বিষয়টাও অনেক বছর ফেস করেছি।
এটাও অনেকের সাথেই হয়। ব্যাপার আসলে তা না। ব্যাপারটা আবারও আম্মু! এঘটনাও আম্মুকে পূর্বের মত জানালাম। ফলাফল একই। আমাকে আশ্চর্য করে আম্মু একদমই ভ্রুক্ষেপহীন থাকে। আর আরও আশ্চর্য হই এই ঠাসাঠাসিও আমার সাথে আর কখনো হয় না। শুধু তাই না আমি আর কখনোই এরকম নতুন কোন বেহুদা স্বপ্ন সমস্যায় ভুগি নাই।
আমি আমার স্বপ্নের ব্যাখা খুঁজছি না। কিন্তু খুঁজে পাই না সমাধানের ব্যখ্যা। আমি আম্মুকে জানানোর পর সে কেন বারবার নিশ্চুপ থাকে আর দীর্ঘদিন ধরে দেখা আমার দুঃস্বপ্নের এমন নিশ্চুপ সমাধান হয়ে যায়!
তবে একবার আম্মু নিশ্চুপ থাকে নি। আমি স্বপ্নটা একবারই দেখেছি। সেটা ছিল আমার নিজের ভয়ানক মৃত্যুর স্বপ্নটা দেখা। বিষয়টা এমন ছিল যে রাস্তায় আমি পড়ে আছি ক্ষতবিক্ষত হয়ে। শরীরের বিভিন্ন অংশ বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে আছে। মাথাহীন নিথর শরীরে ছিল রক্তমাখা সাদা শার্ট। প্রচন্ড ভয় পেয়েছিলাম সেইরাতে। আমি যেকোন দুঃস্বপ্নের কথা আম্মুকে জানাতে ভুল করি না। আশা তো আমিও করি অন্য মায়েদের মত আম্মুও মাথায় হাত দিয়ে যেন একটু দোয়া কালাম পড়ে ফুঁ দিয়ে দেয়। কিন্তু আমার আম্মু কেন যেন সেটা না করে চুপচাপ চলে যায়। কিন্তু সেবার আর চুপ ছিলেন না। বলেছিলেন একটি কথা। "তুই আর কখনো সাদা শার্ট পড়বি না"। আর কখনো সাদা শার্ট পড়া হয় নি আমার। সেদিন থেকে আমার নতুন কেনা সাদা শার্টটাও আর পাই না। হয়ত আম্মুই গায়েব করেছে। আমি জিজ্ঞেস করিনি।
শুধু সে ঘটনার তারিখটা আমি মনে রেখেছিলাম। সেটা এই ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। তারপর থেকে আমি আর কখনো কোন দুঃস্বপ্ন দেখিনি। যতদূর মনে পড়ে কখনোই না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:৫৮
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারো নামে মিথ্যা অপবাদ কাম্য নয় তবে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৯


ঘটনাটি মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এবং তার সঙ্গে থাকা এক সাংবাদিক বন্ধুকে ঘিরে। পরিবাগ ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় ট্রান্সজেন্ডার বা হিজড়া জনগোষ্ঠীর কয়েকজনের সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কী-বোর্ড কাহিনী: ডেল কেবি২১৬

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:০০


আমি ১৯৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কী-বোর্ড ব্যবহার করছি। দেশে থাকতে কী-বোর্ড তেমন প্রয়োজন পড়েনি। মাঝে মধ্যে কেনা হতো। একবার বাংলা লিখার জন্য "বিজয়" সফটওয়্যারের প্রলোভনে, বিজয় এর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×