somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে কী পেতে যাচ্ছে কৃষি

২৩ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আগামী জুন মাসের প্রথমার্ধে ২০১০-১১ সালের বাজেট ঘোষণা করবে মহাজোট সরকার। এটা সরকারের দ্বিতীয় বাজেট। মন্ত্রণালয়গুলো থেকে আসছে বিভিন্ন প্রস্তাবনা। তৈরি হচ্ছে খসড়া বাজেট। নতুন বাজেটে কোন কোন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার তা নিয়ে চলছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে অর্থমন্ত্রী মত বিনিময়।
ইকোনমিক রিপোর্টাস ফোরামের সঙ্গে ৪এপ্রিল অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্র জানান, আগামী ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশের বাজেটের আকার হবে ১ লাখ ৩০/৩২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপির আয়তন হবে ৩৮ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি আর মোট দেশজ উৎপাদনের বা জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ১ লাখ ১৩ হাজার ৮শ’ ১৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ৩০ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৭.৮ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করা হয় মৎস্য, পশুপালন ও পানিসম্পদসহ সার্বিকভাবে কৃষি খাতের জন্য। বাজেটে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণসহ কৃষিখাতে অবকাঠামো জোরদারকরণ, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ানো ও নদীভাঙন রোধের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো জোরদার করতে এডিপির আওতায় বরাদ্দ করা হয় ১ হাজার ৩শ ৯ কোটি টাকা। কৃষিখাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিতে ২০০৯-১০ অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য বরাদ্দ করা হয় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। পরে আবারো ভর্তুকি বাড়ানো হয় ৭০০ কোটি টাকা। যা মূলত দেয়া হয় ডিজেল ভর্তুকি বাবদ। এছাড়া ভর্তুকির আওতায় ২০০৯ সালের নভেম্বরে এসে দ্বিতীয়বারের মত আবার সারের দাম কমানো হয়। শস্য উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কৃষি গবেষণা ও কৃষিখাতে পুনর্বাসন সহায়তা বাবদ ১৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা বরাদ্দ করে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫ হাজার ৯’শ ৬৫ কোটি টাকা।
আসন্ন বাজেটে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে জ্বালানি ও কৃষি খাত। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলতে এবং বিদ্যুৎ সমস্যা দূর করতে বাজেটে বরাদ্দ থাকবে বেশি। এ দুই খাতকে শক্তিশালী করতে পারলে বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হবে। কয়ালাভিত্তিক বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বায়ুশক্তি, সৌরশক্তিসহ উৎসে অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পরামর্শ এতে রয়েছে। আগামী অর্থবছরে বাস্তবায়নের জন্য বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ ইতিমধ্যেই এডিপিতে সন্নিবেশিত হয়েছে। সেসব প্রকল্প বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এদিকে বিদ্যুৎ ও ডিজেল খাতে চলতি বছরের চেয়ে অতিরিক্ত ৬শ কোটি টাকা দিয়ে মোট ভর্তুকি দাঁড়াবে চার হাজার ১শ কোটি টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে অর্থমন্ত্রণালয়ে কৃষি খাতের জন্য ৭ হাজার ৬শ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কৃষিখাতে ৫৯টি প্রকল্প অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ ও ইক্ষু খাতে পাঁচ হাজার টাকা ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার ৬শ কোটি টাকা। বিদ্যুতের রেয়াত কৃষকরা ২০ শতাংশ হিসেবে পাচ্ছেন। এর বাইরে আরো ৯শ কোটি টাকা ভর্তুকি চাওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬শ কোটি টাকা দেওয়ার সন্মতি প্রকাশ করেছে। সাত হাজার ৬শ কোটি টাকার মধ্যে কৃষিখাতের উন্নয়ন বাজেটে ১২শ কোটি টাকা এবং অনুন্নয়ন খাতে অর্থাৎ ভর্তুকি খাতে পাঁচ হাজার কোটি, বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মসূচিখাতে ৩শ কোটি এবং বেতনভাতা খাতে ১১শ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবকিছু নির্ভর করছে অর্থমন্ত্রণালয়ের উপরে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০১০ বিকাল ৪:৪৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চাপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১



রাজধানী ঢাকা সহ দেশের নানা অঞ্চলে টমটম, অটোরিক্সা, নসিমন, করিমন চলাচল করে। বেশ মানুষজন পরিবহন সহ মালামালের বস্তাও টানাটানি করতে দেখা যায়। কিন্তু এইগুলোর দেশ হচ্ছে গ্রাম গঞ্জের বাজার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৪


আমার সমাধিতে কোনো ফলক রেখো না
আমার ডক্টর উপাধিটি মুছে দিও
জ্ঞানী, কবি, দরবেশ, সাধক, সফল, ব্যর্থ
এসব কোনো শব্দই যেন
মাটির ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে আলাদা না করে।

কারণ আমি দেখেছি
অহংকার খুব সূক্ষ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু!

শিশুর অধিকার রক্ষা অবশ্যই সভ্য সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশ্নটা তখনই কঠিন হয়ে ওঠে, যখন ১৭ বছর ১১ মাস ২৯ দিন বয়সী কেউ ধর্ষণ বা হত্যার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস: ঢাকার রাজপথ, ধারণক্ষমতার সংকট এবং গণপরিবহনের বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৩৩



আজ ২২ সেপ্টেম্বর—বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। কল্পনা করুন তো, কর্মব্যস্ত এক মঙ্গলবারের সকালে ঢাকার রাজপথে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই! কানে তালা লাগানো অহেতুক হর্নের গর্জন নেই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফুনফুনা ফুন

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩



ছয় হাজার হাজার আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিলো মাত্র দশ লাখ।
হ্যা দশ লাখ। পুরো পৃথিবীর সব জায়গায় মানুষ থাকতো না। বনজঙ্গল ছিলো। আর সমুদ্র এবং নদী। পাহাড় পর্বত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×