somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাহরীন মাহাদী
বার বার মুছি আবার নতুন করে লিখি। শব্দ সংকট প্রকট ভাবেই দেখা দিয়েছে। এমন হয় কিছু কিছুদিন শেষে শুন্যতা প্রগাড় ভাবে ঘিরে ধরে,কেমন যেনো চাপা হাহাকার,কারন ছাড়াই অনর্থক কিছু বিষন্নতা,অথবা অনাগত আগামীর নির্মমতা মেনে নেয়ারভয় ।

নতুন আকাশ

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন পর আজ মাহীন হৃদি কে কল করে বিকেলে দেখা করতে বলেছে । বলেছে মাহীন একটা জরুরী সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা দেখা করে হৃদি কে জানাবে আজ ।একথা শুনার পর থেকে তো হৃদি মনে মনে খুব খুশি । ভাবছে এতদিন পর তার অপেক্ষা বুঝি শেষ হতে চলল । ৫ বছরের প্রেমটা বুঝি এবার শেষতক বিয়ের দিকেই যাচ্ছে । একটা চাকরির জন্য গত ২ বছর ধরে কি চেষ্টাটাই না করেছে মাহীন । আর আল্লাহর কাছে কাঁদতে কাঁদতে শেষ হৃদি । অবশেষে গত ৬ মাস আগে ভাল একটা প্রাইভেট কোম্পানীতে জুনিয়র অফিসারের চাকরি পায় মাহীন ।তারপর থেকে হৃদি শুধু মাহীনের কাছ থেকে বিয়ের কথাটাই শুনতে চাইছে ।" যাক এত দিন পর বাবুর হুশ ফিরল " , এটাই ভাবছে হৃদি ।
অনার্স পাশ করার পর থেকে গত ১ বছরে হৃদির বিয়ে নিয়ে ওর বাবা-মা যেভাবে উঠে পড়ে লেগেছিলেন , হৃদির তো প্রতিনিয়ত উৎকণ্ঠায় কাটতো কখন না মা এসে বলেন , " হৃদি কাল তোর বিয়ে ।" কত বুঝিয়ে সুঝিয়ে যে ও মাস্টার্স এ ভর্তি হয়েছে তা শুধু হৃদিই জানে ।
" আজকের সময় যেন কাটছেই না । ঘড়ি যেন থমকে গেছে । অথচ মাহীনের সাথে থাকলে যেন ঘড়িটা লাফিয়ে লাফিয়ে চলতে থাকে ," এসবই ভাবছিল দুপুর থেকে হৃদি ।
আর থাকতে না পেরে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাসা থেকে বের হয়ে গেল টিউশনির কথা বলে ।
আস্তে আস্তে হেঁটে ওদের নিজেদের দেখা করার জায়গায় বসে অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভাবতে লাগলো হৃদি । নতুন সংসারের নতুন পর্দা,নতুন চাদরের রংগুলো যেন ওর চারপাশে ভাসছিলো । কিভাবে ও সুন্দর করে মাহীন কে রেঁধে খাওয়াবে ওর পছন্দের খাবার , কি কি দুষ্টুমি করবে , কোথায় কোথায় বেড়াতে যাবে এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে সন্ধ্যা হয়ে গেলো হৃদি বুঝতেই পারেনি ।
হঠাত খেয়াল হতেই তাড়াতাড়ি মাহীন কে কল করলো হৃদি , " কি ব্যাপার এখন
এলে না তুমি ? আমি সেই কখন থেকে বসে আছি । তুমি কি ভুলে গেছ যে আজ আমাদের দেখা করার কথা ? "
কিছুক্ষন চুপ করে থেকে মাহীন বলল , " হৃদি , আমি আর কোনদিন আসবো না । আমাকে কাল অফিস থেকে আমেরিকায় পাঠাচ্ছে ২ বছরের জন্য । তোমাকে সামনা সামনি কিভাবে বলবো বুঝে উঠতে পারিনি , তাই আর আসিনি । "
হৃদি চুপচাপ সব কিছু শুনে গেল , তারপর বলল , " আর আমি ? "
মাহীন কিছু বলার খুজে না পেয়ে বলল , " পারলে ক্ষমা করে দিও ।"
তারপর কলটি কেটে যায় । হৃদি আস্তে আস্তে বাড়ির দিকে চলে যায় । আর তার সাথে হারিয়ে যেতে থাকে তাঁর না বাধা সংসারের পর্দার রং , না রাঁধা খাবারের স্বাদ । যা হয়তো আর কখনো আলোর মুখ দেখবে না ।
এই ঘটনার মাস দুই পর হঠাত মাহীনের এক কলিগের সাথে রাস্তায় দেখা হয়ে যায় হৃদির । সে বিভিন্ন কথার পর হৃদিকে জানায় যে মাহীন আমেরিকায় যাওয়ার আগের দিন ম্যানেজারের মেয়েকে বিয়ে করে প্রমোশন নিয়ে তারপর আমেরিকায় যায় ।
একথা শুনে হৃদি আর কিছু না বলে ওখান থেকে বাসায় চলে আসে । এসে নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে এই কটা দিন চোখের পানিতে ভেজানো চিঠিগুলো বের করে । তারপর একটা একটা চিঠি কুটিকুটি করে ছিড়ে বারান্দা দিয়ে আকাশে উড়িয়ে দেয় , আর বলে , " ধন্যবাদ , অসংখ্য ধন্যবাদ । আমাকে সারাজীবনের বন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার জন্যে । আজ থেকে আমি সব প্রতিজ্ঞা থেকে মুক্ত ।"
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৫১
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্ত-গায়েব-গুম এবং পিওর ও শিওর লাভ

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:১৬


৭ মাসে বাংলাদেশে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজ !!!
এমন রোমহর্ষক, চমকে যাওয়া এবং অন্তরে কাপুনি ধরানোর মতো তথ্য বা কথা বার্তার কোনও মানে হয় ??!!
গরীব পরিবারের শিশুদের কথা বাদ দেই-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারী অফিসারদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:০০

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সরকারী অফিসারদের হাত ধরেই হয়। সেজন্যে, এই পদগুলো যোগ্য মানুষদের হাতে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে, গত কয়েক দশকে দেশের টপ ট্যালেন্টদের বেশির ভাগই কোনক্রমেই সরেকারী অফিসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেমোরি লুপ (Memory Loop)

লিখেছেন চারাগাছ, ৩১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০৪




মেমোরি লুপ (Memory Loop)

​গভীর রাত। ল্যাবের নিস্তব্ধতা চিরে শুধু ভেসে আসছে মনিটরের নীলচে আলোর মৃদু কম্পন। টেবিলের ওপর ঝুঁকে বসে আছেন ডা. আরিয়ান। স্ক্রিনে ভাসছে তার বহু বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×