মানুষ এই সংসারের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণি। অাবার
বলা যায় মানুষই জগত সংসারে সবচেয়ে চিন্তিত প্রাণি।
এই চিন্তায়ই তাদের জীবনকে উপভোগ করতে
দিচ্ছে না। ফলে তারা না পারছে একূলে (দুনিয়া)
সুন্দরভাবে বাঁচতে, না পারছে ঐকূলের (আখিরাত)
পাথেয় অর্জন করতে। জীবন চলছে গাড়ির চাকার
ন্যায় ঘুরতে ঘুরতে। এই ঘোরার শেষ কখন কে
জানে?
এমন কেন?
মনে করে দেখুন আপনি জঙ্গলের প্রাণি হলে
কি করতেন? আপনার জীবন অনেকটা এমন হত:
যখন পিপাসা লাগত, পুকুরে গিয়ে পানি পান করে
আসতেন। তীব্র রোদ উঠলে গাছতলায় গিয়ে
বসতেন। অাবার যদি কোন শিকারী প্রাণি আক্রমণ
করে তো নিজের জীবন নিয়ে দৌঁড়ে
পালাতেন।
এই ঘটনাগুলো থেকে কি বোঝা গেল?
জীবজন্তুরা যা করে তার ফল তারা ঐ সময়েই
পেয়ে যায়।
যদি ক্ষুধার্ত হয় তবে খাদ্যের সন্ধানে বের
হয়ে খাবার সংগ্রহ করে। অাবার বিপদে পড়লে
দৌঁড়ে পালায়।
এই কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য হল প্রাণির জীবন
বর্তমান কাল মেনে চলে।
এখন অাপনার কল্পনার ঘোড়ায় লাগাম দিন। মনুষ্য
জীবনে আসুন এবং মানুষ হিসেবে কি করেন
দেখুন:
আপনি চাকুরি করছেন। বেতন পান মাসের শেষ
হয়ে পরের মাসের কয়েকদিন পর। পড়াশোনা
করছেন যাতে ভবিষ্যত সুন্দর হয়। আজ আপনি পয়সা
বাঁচাচ্ছেন যাতে ভবিষ্যত সুরক্ষিত হয়।
মানুষের জীবনের অধিকাংশ পরিশ্রমের ফলই
ভবিষ্যতে পায়। এটিই অামাদের সমস্যা ও চিন্তার কারণ।
প্রাণিরা কেবল বর্তমান নিয়ে ভাবে অার সমস্যায় পড়া
মাত্রই তার দ্রুত সমাধান করে ফেলে।
যদি কোন প্রাণি শিকারী কর্তৃক অাক্রমনের শিকার
হয় তবে তা থেকে রক্ষা পাবার কিছুক্ষণ পরই স্থির
হয় এবং চিন্তা বাদ দেয়।
গবেষণায় জানা যায়, প্রাণিরা বিপদ থেকে উদ্ধার
পাবার পরই তা ভুলে যায়। এরা ভবিষ্যতের চিন্তা করে
না। সাপ, বাঘ ইত্যাদি কখনই প্রতিশোধ নিতে
আসেনা। সাপের ছোট্ট মস্তিষ্ক আপনার অত্যাচার
মনে রাখতে অক্ষম।
আমাদের চিন্তা ভবিষ্যত ও বর্তমান মিলে অনেক
বেড়ে যায়। কিন্তু সমাধান কি? কেউ ভবিষ্যতের
ভাবনা ভাবতে বলেন, কেউ বা বলেন বর্তমানের
ভাবনা ভাবতে। এখন আবার এই দুইয়ের সিদ্ধান্ত
নিতেই নতুন চিন্তার উদ্রেক হচ্ছে! চিন্তা আর
কমবে কিভাবে? এজন্যই তো বললাম মানুষই জগতের
সবথেকে চিন্তিত প্রাণি।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




