
জগতে কিছু লোকের জন্মই হইয়াছে অন্যের লাত্থি-গুড়ি খাইবার নিমিত্ত্ব। যেমন: রোহিঙ্গা। ওদের জন্ম যদি বাংলাদেশ, ভারত অথবা আম্রিকাতে হইত তাহলে হয়তো লাত্থি-গুড়ি খাইতে হইত না।
আবার কিছু লোকের জন্মই হইয়াছে ডিবি লটারীর জন্য হা করিয়া চাহিয়া থাকিবার নিমিত্ত্ব। জন্ম যদি কাহারো আম্রিকায় হইতো তাহলে কি আর ডিবির লটারীর আশায় হা করিয়া চাহিয়া থাকিত? আর বিদায়কালে স্যাটাস দিয়া যাইত, প্রে ফর মি সো দ্যাট দেশের মুখ উজ্জ্বল করিতে পারি। দেশের মুখটা যে কোথায় আজিও দেখিলাম না।
কিছু লোকের জন্মই হইয়াছে কলুর বলদের মত খাটিয়া মরিবার নিমিত্ত্ব। আর কিছু লোকের জন্মই হইয়াছে হাতের কবজি পর্যন্ত ডুবাইয়া দুগ্ধ-ঘি খাইবার নিমিত্ত্ব।
কিছু লোকের জন্মই হইয়াছে চক্ষু বন্ধ করিয়া পাঠ্যবই নিয়া কালক্ষেপণ করিয়া হরলিক্স খাওয়া বাচ্চাদের ন্যায় টলার, সার্পার আর স্ট্রংগার হইবার নিমিত্ত্ব। আর কিছু লোকের জন্মই হইছে কৌটার দুগ্ধ (কৌটা, কোটা ভাবিয়া লজ্জ্বা পাইবেন না) খাইয়া সার্পার হইয়া খাঁটি গাওয়া ঘিয়ে ভাঁজা ইলিশ খাইয়া তোয়ালে দিয়া হস্ত মুছিয়া স্ট্যাটাস দিবার নিমিত্ত।
এইসব জন্মের উপর আমাদের হাত নাই। জন্ম হইতে পারে চোরের ঘরে, হইতে পারে রাজগৃহে। চোরের ঘরে জন্ম লইয়া উপাধি পায় চোরের পোলা, চোরের মাইয়া, চোরের বউ চুন্নী। আর বারাক ওবামার ঘরে জন্ম লইয়া মাইয়াটা স্ট্যাটাস মারে আম্রিকার প্রেসিডেন্টের হাতে বানানো চা খাইলাম।
চা খাওয়ার আগে শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ যে, তোমার জন্ম চা বিক্রেতা ঘরে হয় নাই। তাহলে হয়তো আজকে চা বানাইয়া মানুষরে খাওয়াতেই দিন যাইত। জন্মসূত্রে আজ তুমি বারাক ওবামা মানে আম্রিকার প্রেসিডেন্টের মেয়ে আর আমি বারেকের প্রতিবেশীর ছেলে। এইসব জন্মসূত্রে পাওয়া বস্তুতে স্ট্যাটাস মারিবার কিছুই নাই।
জন্ম যেখানেই ইউক রিযিক যেখানে রাখছে আল্লাহ সে সেখানে যাইবেই। তবে একটা কথা, ডাল দিয়া ভাত খান, সোজাপথ দিয়া হাইটা যান। পথ বাঁকা হইলে নির্দোষ রোহিঙ্গার মত লাত্থি-গুড়ি খাইতে কতক্ষণ?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



