somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

প্যারিস থেকে আমি
স্বপ্ন দেখি সত্য ও সুন্দরের।আহত হই সত্যের পরাজয়ে।মনের মাঝে কতশত এলোমেলো ভাবনা এসে জড়ো হয়।ভাবনা গুলো চাই সকলের সাথে শেয়ার করতে,কিন্তু সীমাহীন অযোগ্যতায় আর লিখা হয়না।ভাবনা গুলো গুমড়ে মরে সমাধিত হয় নীরবে।

সিগারেটের আত্বকথা

২০ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দুনিয়ার মানুষগুলো (সবাই না) এত বোকা কেন? দুনিয়ায় একমাত্র আমিই, যার গায়ে লিখা থাকে আমাকে ছুইও না, আমি বিষ। আমাকে ব্যাবহার করলে মরবে। তার পরোও মানুষ আমাকে ছুয়,ব্যাবহার করে। শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত, ধনি কিংবা গরিব, পুরুষ-নারী,কিশোর,যুবক, বৃদ্ধ সকলেই। অথচ, আমি নিজেই ঘোষনা দিচ্ছি- "আমি বিষ"।

আমি ধোয়া ছাড়া আর কিছু নই। আমি যেমনি জ্বলি ঠিক তেমনি অন্যকেও জ্বালিয়ে মারি। শুধু কি মানুষকেই জ্বালি? কত বাড়ি-ঘর,অফিস-আদালত, কল কারখানা পর্যন্ত জ্বালিয়েছি তার কোন ইয়ত্তা নেই।আর কেনই বা জ্বালাবো না? আমাকে পরম আরাদনার সহিত ব্যাবহার করে আমার অবশিষ্টাংশ তাচ্ছিল্যের সহিত যেখানে সেখানে ফেলে দেয়।আমার প্রচন্ড গোসসা হয় তাই আমিও সবকিছু জ্বালিয়ে পুড়িয়ে রাগ নিবারণ করি।

পৃথিবীতে কত অসংখ্য মানুষ আমাকে ব্যাবহার করে মরেছে তার কোন হিসাব নেই।যাদের কাছে হিসাব আছে, যারা জানে আমাকে ব্যাবহারের প্রতিফল কি, সেই ডাক্তাররাও আমাকে ব্যাবহার করে।আমি হেসে মরি,যখন ডাক্তাররা নিজে আমাকে ব্যাবহার করে অন্যকে উপদেশ দেয় আমাকে ব্যাবহার না করার। মসজিদের হুজুর কিংবা মাদ্রাসা শিক্ষিতরাও আমাকে ব্যাবহার করে, আমাকে ব্যাবহার করা মাকরুহ এই ফতোয়া দিয়ে।

হা, আমি এক সময় মাকরুহ ছিলাম।যখন চিকিৎসা বিজ্ঞান এতটা উন্নত ছিলোনা।যখন মানুষ জানতে পারেনি আমার মাঝে কি আছে। এখন সময় বদলেছে,চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে,তারা আমার মাঝে কি আছে তা স্পষ্ট করতে পারছে। তাই বর্তমানে আমাকে ইসলামিক স্কলার ইউসুফ আল কারদাভী হারাম বলে ফতোয়া দিয়েছেন এবং তার এই ফতোয়াকে বেশিরভাগ আলেম উলামা গ্রহণ করেছেন।শুধু তারা গ্রহণ করতে পারেন নি, যারা আমাকে ব্যাবহার করবেন।

আমাকে নানাভাবে, নানা আংগিকে ব্যাবহার করা হয়।গরিব- ধনি সকলেই যাতে আমাকে ব্যাবহার করতে পারে সেভাবে সহজলভ্য করে আমাকে বানানো হয়। আমি যখন বড়লোকদের হাতে পড়ি তখন আমার খুব ভালো লাগে।আর গরিবের হাতে পড়লে খারাপ লাগে।আবার যখন রাজা বাদশাদের হাতে আমি শোভা পাই তখন আমার সুখের সীমা থাকে না।তরুণ -যুবকরা আমাকে স্মার্টলি ব্যাবহার করে।হতাশাগ্রস্ত মানুষগুলো আমার মাঝে আশা খুঁজে,সুখ খুঁজে।বিশেষ করে প্রেমে ব্যার্থ হওয়া যুবক যুবতীরা আমার মাঝে তাদের হারানো প্রেম খুঁজে পায়। অথচ তখন তারা জ্বলছে আর আমি তাদেরকে জ্বলতে আরো সাহায্য করি।

আমিতো অর্থের অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। হাজার হাজার টাকা মানুষ আমার জন্য অপচয় করে।না আমি পেটের ক্ষুধা নিবারণ করি আর না মনের ক্ষুধা। আমিতো মনের ক্ষুধা কে আরোও বাড়িয়ে দেই।যার কারনে যারা একবার আমার সংগ পেয়েছে তারা আর কোনদিন আমাকে ছাড়তে পারেনি।আমাকে দিয়ে যে হাজার টাকার অপচয় করা হয় তা দিয়ে অনেক উন্নয়নমুলক কাজ করা যেত।অসংখ্য গরিব অসহায় মানুষদের সাহায্য করা যেত।

ক্যান্সার সহ নানা রুগের উপসর্গ এই আমিই।অথচ, আমাকে কি আয়েশেই না ব্যবহার করা হয়।আমি নিজেই নেশা। তারপরও বর্তমান সময়ে আমার মাঝে আরোও নানা জাতের জিনিষ ঢুকিয়ে ব্যবহার করে অনেকেই।নেশার উপর বাড়তি নেশা।উন্নত,অনুন্নত সকল দেশেই আমি সমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছি।যারা মদ পান করেন তারা মদ পানের সময় আমি সাথে না থাকলে যেন মদ পানই বৃথা হয়ে যাচ্ছে।ঠিক তদ্রূপ, চা পানের সময় ও অনেকে তার আংগুলের মধ্যখানে রাখেন। অনেকে মনে করেন যে যিনি আমাকে ব্যবহার করছেন শুধু তিনিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।কিন্তু না। আমি পাশে থাকা অন্যের ও সমান ক্ষতির কারণ। আমার ধোয়া যাদেরই নাক দিয়ে প্রবেশ করবে আমি তাদেরকেও রক্ষা দেইনা,সে আমাকে ব্যবহার করুক বা না করুক।যে কোন মানুষের চরিত্র নষ্টটা কিন্তু আমাকে দিয়ে শুরু হয়। তাই বলে আমাকে ব্যবহার করে সবাই চরিত্রহীন হয়ে যায় এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই।পৃথিবীর সকল ধর্মীয় মানুষের কাছে, সকল পেশার মানুষের কাছে আমি সমানভাবে সমাদৃত। মজার ব্যাপার হলো যারা আমাকে ব্যবহার করেন তারা জেনে শুনেই আমাকে ব্যবহার করেন।তাইতো দেখা যায়, তাদের প্রিয়জন যাতে আমার নাগাল না পায় সেদিকে তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।

একটা কষ্টের কথা বলে শেষ করতে চাই,আর তা হলো- আমি বিষ,ধুমপান বিষ পান,যে ধুমপান করলো সে মরন ডেকে আনলো ইত্যাদি লিখা আমার গায়ে দেখেও মানুষ আমাকে ব্যবহার করে, আমার কাছে আসে। অথচ, যার গায়ে লিখা আছে " আমি সেই কিতাব যার মধ্যে কোন সন্দেহ নেই, আমি আল্লাহভীরুদের জন্য পথপ্রদর্শক "সেই কিতাবকে মানুষ অবজ্ঞা করে,তার থেকে দূরে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১৬ দুপুর ২:০২
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চনাটক: "এনিমেল ফার্ম"

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় দেখে এলাম জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নাটক "এনিমেল ফার্ম"। পরিবেশনায় ছিল রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ। নির্দেশনা দিয়েছেন ড.... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×