প্রীতির চুম্বন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ
পুকুর পাড়ের উত্তর পাশে
সমাহিত আমার মা
আম আর সুপারি গাছের ছায়া
নির্জন, পাখিদের আনাগোনা
খালি খেয়ালে আসে দৃশ্যগুলো
মায়ের চলাফেরা, বসে থাকা খাটে
কখনো ঘুমাতেন কখনো জেগে থাকতেন
কখনো বাটা থেকে পান, কাঁচা সুপারিি
আর সাদা পাতা ছিঁড়ে একটু খেতেন
কখনো পান ধুতেন কখনো সুপারি কাটতেন
কখনো পান-সুপারি শেষ হলে-
অস্থির হয়ে যেতেন, আনতে বলতেন
যাকে দেখতেন তাকে
ঘর হতে বের হতেন না বললেই চলে।
কখনো চিন্তায় মগ্ন থাকতেন
কখনো চেয়ারে বসে থাকতন
কখনো বিছানায় শুয়ে থাকতেন।
কখনো তাসবিহ জপতেন
তিনি সবচেয়ে বেশি দোয়া ইউনুস পাঠ করতেন
আমাকেও বেশি বেশি পড়তে বলতেন।
কখনো নামাজ আদায় করতেন।
অনিয়ম করে ওষুধ খেতেন।
কখনো রাখতেন না চারদিকের খবর
পড়তে পারতেন না, ছিলেন সদা অনারম্ভর।
আমার মা সবসময় শাড়ি পরতেন
কয়েক মাস পর পর পেনশন উঠাতেন।
মাঝে মাঝে ভাবি কিভাবে একটি ঘরে
তাঁর দিনগুলো কাটে, আমার বন্দি লাগে
পেরেশান হয়ে যাই, ছটফট করি
বের হয়ে যাই বাহিরে।
শৈশবে মায়ের কোলে ঘুমাতাম
কী যে শান্তিতে, মনে পড়ে?
মায়ে দেয়া শেষ ছোঁয়া
আমার গালে প্রীতির চুম্বন!
উত্তরা, ঢাকা।
০৫.০৫.২০২৬
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




