রাগের মূল অর্থ প্রীতি বা অনুরাগ। কিন্তু আধুনিক অর্থ ক্রোধ।
বাংলা ভাষায় রাগ শব্দটির উপযোগিতা বেশি। সংগীত শাস্ত্রে রাগ একটি বিশাল অধ্যায়। তবে বাংলা ভাষায় রাগ শব্দের কিছু বিশেষ ব্যবহার এখন আর নেই।
এক সময় সন্তোষ অর্থে ভোগ-রাগ শব্দটির ব্যবহার ছিল, এখন নেই। রঞ্জক পদার্থের তীব্রতা বোঝাতে রাগ শব্দের ব্যবহার ছিল (সরিষা-তেলের রাগ ক্রমে কমিয়া যায়; দইর রাগ দেখিয়া দই বসাইতে হয় - বাঙ্গালা শব্দকোষ)।
ঘরের চালের বক্রতা অর্থেও (খড়ের চালে রাগ না দিলে জল কাটে না - বাঙ্গালা শব্দকোষ) রাগ শব্দের ব্যবহার রয়েছে।
সংগীতে রাগ আবার ভিন্ন চিজ। সংগীতে রাগ হচ্ছে স্বরের প্রকার বিশেষ। এটি ছয় প্রকার। ব্রহ্মার মতানুসারে শ্রী (শীতে গেয়), বসন্ত (বসন্তে গেয়), পঞ্চম (গ্রীস্মে গেয়), ভৈরব (শরতে গেয়), মেঘ (বর্ষায় গেয়), ও নটনারায়ণ (হেমন্তে গেয়)।
ভারত ও হনুম মতে ভৈরব, মালবকোষ, হিন্দোল, দীপক, শ্রী ও মেঘ। মতান্তরে বৈরব, মালব, সারঙ্গ, হিন্দোল, দীপক ও মেঘ।
প্রত্যেক রাগের ছয় ছয় রাগিণী কল্পিত হয়েছে সংগীত শাস্ত্রে। যেমন ভৈরবের ভৈরবী, বাঙ্গালী, সৈন্ধবী, গুণকেলী, গুর্জ্জরী ও রামকেলী।
মেঘের মল্লারী, সৌরবী, সায়েরী, কৌশিকী, গান্ধারী ও হরশৃঙ্গার। নটনারায়ণের কামোদী, কল্যাণী, আভিরী, লাটিকা, সারঙ্গী ও হম্বীর। শ্রীরাগের মালশ্রী, ত্রিবেণী, গৌরী, কেদারী, মধুমাধরী ও পাহাড়ী। বসন্তের দেশী, দেবকিরী, বরাটী, তোড়ী, ললিতা ও হিন্দোলী। পঞ্চমের বিভাষ, ভূপালী, কর্ণাটি, বড়হাসিকা, মালবী ও পঠমঞ্জরী (ভারতকোষ)।
প্রাচীন সংগীতবিশারদরা তাদের সমকালীন স্বরবিন্যাসকে মুখ্য ছয় ভাগে ভাগ করলেও আবার প্রতিটি রাগকে কেউ পাঁচ ভাগে কেউবা ছয় ভাগে বিভক্ত করে এক এক ভাগকে রাগের স্ত্রী কল্পনা করে রাগিণী নাম দিয়েছেন। ‘ছয় রাগ ছত্রিশ রাগিণী’ নামের প্রবাদবাক্যটির উৎপত্তি এখন থেকেই। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশকালপাত্র ভেদে এ বিভাজন এক থাকেনি, থাকতে পারেনি। কারণ অনেক পুরনো রাগ বা রাগিণী যেমন হারিয়ে গেছে, তেমনি পরিবর্তিতও হয়েছে। আবার নতুন রাগিণীও চালু হয়েছে।
আলোচিত ব্লগ
যুদ্ধে কেউ জয়ী হয়না, যুদ্ধ বন্ধ হলে মানবতার জয় হয়।
যুদ্ধে কে জয়ী হয়েছে?
আমার উত্তর খুব সহজ- কেউ না।
যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী বলে কেউ থাকে না। যুদ্ধ যখন শুরু হয়, তখন শুধু সৈনিক নয়; মায়ের বুক খালি হয়, শিশুর ভবিষ্যৎ ভেঙে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষো-ল-ব-ছ-রঃ আর কি বর্ষপূর্তি পোস্ট লেখা হবে?

অবাক হয়েই চেয়ে দেখি
কখন এমন হলো?
এইতো আমার ব্লগবাড়ীটার
বয়স হল ষোল।
দুরুদুরু বুকে তখন
খুলেছিলাম ‘নিক’।
ফেলতে পলক, পেরিয়ে গেল
ষোল বছর ঠিক।
ফেসবুক আর ইউটিউবের
আছড়ে পরে ঢেউ।
সামুপাড়ায় এখন কি আর
উঁকি মারে... ...বাকিটুকু পড়ুন
কটা দুলাল

বাল্য বন্ধু শফির ফোন পাইলেই টেনশনে থাকি। কোন একটা দুঃসংবাদ নিশ্চিত। আর সেটা যদি হয় সকাল বেলা তবে তো কথাই নেই। যদিও আমাদের মধ্যে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই মোটেও তবুও... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফাউ টাকার গল্প
সময় ২০১৪ সাল...
ভার্সিটিতে আজ ক্লাস শেষে আমি, মেহনাজ, তামিম আর শাওন গোল হয়ে বসে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ কোত্থেকে শেতু এসে হাজির। এসেই ডিরেক্ট ঘোষণা! আজ নাকি সে আমাদের সবাইকে স্টার... ...বাকিটুকু পড়ুন
জীবন পর্ব -১

(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।