somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাপ ও চাপা

০২ রা এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'জীবনটা গল্প নয়, গল্পের চেয়েও অদ্ভুত'।
দার্শনিক তত্ত্ব কপচাতে হলে এ জাতীয় হাইথট ডায়ালগ হয়তো জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনৈতিক চাপাবাজি ঠিক কতোটা অদ্ভুত অথবা উলুম্ভুত _ তা একমাত্র খোদা মালুম। তারপরও মাঝে মাঝে মুখ ফসকে মন্তব্য ছোটে : 'হরি হে! আর কতকাল দেখবো তোমার কৃষন লীলা?'
কারো মনে কষ্ট দেয়ার মাঝে আমি কোনো বিলাসিতা দেখি দেখতে পাই না। অতএব আপনাদের কান লাল করা বিশেষণ অথবা অভিধান বহির্ভূত গালিগুলো হিপ পকেটে জমা রাখুন। গুণীজনেরা বলেন, সপ্তরথী ঘিরে অভিমন্যুকে হত্যার কলঙ্ক শুধু 'মহাভারত' এর নয়; 'তাদের'ও। এই 'তারা' যে 'কারা' _ তা সবাই জানেন ও বোঝেন। তাদের নাম মুখে না আনলেও চলবে। জানেন তো ভাসুরের নাম মুখে আনা পাপ!
একটি দেশের পুনর্গঠনের জন্য 35টি বছর যথেষ্ট কিনা জানি না। শুধু এতোটুকু জানি,আমাদের দেশের রাজনৈতিক কর্মসূচি মাত্র দুটো _ 'চাপ' আর 'চাপা'। ক্ষমতায় থাকুন আর রাজপথে থাকুন, কুচ পরোয়া নেহি! 'চাপ' আর 'চাপা' থাকলেই হলো। মূলত 'চাপ' আর 'চাপা' নিয়েই চলে আমাদের রাজনীতির সংসার।
কথায় বলে, স্বর্গ, মর্ত্য আর পাতাল নিয়েই নাকি আমাদের ত্রিভুবন। আবার হিন্দু পুরাণ মতে, পাতালের নাকি সাত স্তর _ অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল ও পাতাল। পাতাল সবচেয়ে নিচের তল। তবে বাংলা বাকরীতিতে 'রসাতল'ই কেন সর্বনাশের চরম সীমা হয়ে গেছে, তার জবাব ভাষাতাত্তি্বকরাও দেননি। তবে সবাই কমবেশি বুঝতে পারছি, আমাদের মেধা ও মনন আজ রসাতলেই ফেঁসে গেছে।
দেশের রাজনীতিরও প্রকৃত চিত্র এটাই। সুতরাং যা হবার তা-ই হয়। অগণতান্ত্রিক তেলের বন্যায় ভেসে প্রকৃত গণতন্ত্র হেঁচকি তোলে। 'চাপ' আর 'চাপা' সমান তালে চলে। অবৈদান্তিক গর্দভগণ জোরেসোরে চেঁচান : 'আমরা কারা _ চাপাবাজ, ওরা কারা _ চাপাভাঙা'।
সত্যিই আমাদের দেশ চাপাবাজির উর্বর ক্ষেত্র। এদেশে চাপাবাজির প্রসার দেখে খোদ গোয়েবলসও সমাধিতে শুয়ে কপাল চাপড়াচ্ছেন। মাত্রাজ্ঞানহীন চাপাবাজিই এখানে জাগতিক প্রসার বাড়ায়। চাপাবাজি জানলে মিঁউমিঁউ করতে হয় না। বেড়াল সেজে ঘরের কোণে সঙ্গোপণে কল্কেও টানা লাগে না। আবার চাপাবাজির এই দেশে দুই মেরুর চাপাবাজের কোলাকুলিও বৈধ! এবার বুঝুন, ঠেলা সামলান। মনে রাখবেন, যা ভাঙা যায়, তা-ই 'আইন'।
চাপাবাজি আমাদের নেতাদের ভাষণে ত্রিমাত্রিক দর্শন এনে দিয়েছে। তাই সবহারার দল ডাস্টবিনের দিকে দৌড়ায়। আর ডগ স্কোয়াডের মহামান্য কুত্তা সদস্য চেয়ারে চার পা তুলে মুরগির রান চিবায়। নেতাদের যান্ত্রিক ওয়াদাগুলো সচিবালয়ের মহাফেজখানা অথবা পত্রিকার পৃষ্ঠায় কালো অক্ষরে বন্দি থাকে। আপত্তি তুলে লাভ নেই ভেইয়া! চাপাবাজির তোড়ে আপনি নিজেই খড়কুটোর মতো ভেসে যাবেন। বরং এই বেশ ভালো আছেন। ছুঁচো (চিকা) দেখলে বলবেন, : 'বিরোধী দলের সেই হাতিটি না খেতে পেয়ে এখন শুকিয়ে গেছে'। আর ডগ স্কোয়াডের কুত্তা সদস্য দেখলে বলবেন : 'সরকারি দলের সেই ছুঁচোটি মুরগির রান খেতে খেতে এখন সারমেয় আকৃতি ধারণ করেছে'।
রঙ্গমঞ্চের ঠিক পেছনেই আগুন লেগেছে। ভীত-সন্ত্রসত্দ ভাঁড় স্টেজে ছুটে এসে বলছে : 'জনাব আগুন লেগেছে, আগুন। যে যার জান বাঁচান'। দর্শকরা ভাবছেন , এটাও বুঝি এক ধরনের সরস তামাশা। অতএব হাততালি পড়ছে। ভাঁড় যতই কাকুতি-মিনতি করে 'আগুন আগুন' বলে চেচাচ্ছে, দর্শকরাও ততই জোরে হাতআলি মারছে। ঠিক এমনি করেই আমাদের জাতীয় জীবনে আজ আগুন লেগে গেছে। আর তামাশা মনে করে আমরা হাততালি মারছি। অতএব চাপাবাচির জয় হোক। জয়তু চাপাবাজ! জয়তু চাপাবাজি! দম মারো দম!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×