গত 23 এপ্রিল সুধাসদনে আওয়ামীলীগের দৃষ্টিতে 'রাজাকারের পত্রিকা' নামে চিহ্নিত 'দৈনিক ইনকিলাব' এর সম্পাদক এমএম বাহাউদ্দীনের (চিহ্নিত রাজাকার মরহুম মাওলানা মান্নানের পুত্র) সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার এক ঘন্টার অন্তরঙ্গ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শেখ হাসিনা তাকে জমিয়তুল মোদাররেসিনসহ সমমনাদের নিয়ে সরকার বিরোধী আলাদা ধর্মীয় মৌর্চা গঠনের আহবান জানান। জবাবে বাহাউদ্দীন শেখ হাসিনাকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রতি দিয়েছেন বলে পত্রিকায় জানা গেছে। ঘটনাটি এখানেই শেষ হলে ভালো হতো। কিন্তু তা যে হবার নয়। কারণ ইনকিলাব সম্পাদক প্রতিদানে আওয়ামীলীগের ব্যানারে নির্বাচন করার জন্য জোর লবিং শুরু করে দিয়েছেন। তিনি আওয়ামীলীগের নমিনেশন আদৌ পাবেন কিনা তা আজও নিশ্চিত নয়। তবে ঠিক এ মুহূর্তে ইনকিলাব সম্পাদকের সাথে বৈঠক করাকে সরকার বিরোধী জোটের সব সদস্য সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। কারণ সংস্কার প্রশ্নে আওয়ামলীগ যেখানে জামাতের সাথে সংলাপে বসতে চাইছে না, সেখানে ইনকিলাব সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠকটি তাদের দাবির ভিত্তিটাকে হালকা করে দিয়েছে। একই সূত্রে বলা যায়, জোটে বিরোধ দেখা দিলে শেখ হাসিনা কি জামাতকেও কাছে টানবেন? জামাতকে কাছে টানার নজিরতো আছেই!
সরকার হটানোর জন্য যদি রাজাকারের সহায়তা বৈধ হতে পারে, তাহলে স্রেফ মুজিব কোট গায়ে পরিয়ে একজন রাজাকারকেও কি মুক্তিযোদ্ধা বানানো যাবে? এটা ঠিক যে, শেখ হাসিনা ক্ষমতার প্রয়োজনে রাজাকারকে ব্যবহার করার নামে বা শত্রুশিবিরে ফাটল ধরানোর জন্য কৌশল হিসেবে বাহাউদ্দীনকে কাজে লাগাতে পারেন। এ অধিকার তার আছে। একই অধিকারকে কাজে লাগিয়ে তিনি তার কন্যা পুতুলকেও একটি স্বীকৃত রাজাকার পরিবারে বিয়ে দিয়েছেন এবং এর প্রতিবাদে বিয়ের দিন গোপালগজ্ঞ আওয়ামীলীগ এলাকায় তিনটি প্রতিবাদ সমাবেশ করে ধিক্কার জানিয়েছিল। রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়া কি স্বপ্নই থেকে যাবে? কে জানে? কি বিচিত্র এই দেশ!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




