সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
রাজাকারদের বিচার কে করবে?
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি প্রায়ই উচ্চারিত হয়। দৃশ্যত এ দাবিতে জামাতীদের শায়েস্তা করার সরাসরি প্রস্তাব রয়েছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটির টার্গেট মূলত জনগণের আইওয়াশ ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ যুদ্ধাপরাধী আইনে পাঁচ ধরনের ব্যক্তি মূল আসামী হন। এরা হলেন, অভিযুক্ত দেশের সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, সেনাপ্রধান, মন্ত্রিপরিষদ ও কূটনীতিকবৃন্দ। কোলাবরেটর বা দালালদের শাস্তি যুদ্ধাপরাধীদের সমান নয়। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে একাত্তরে অপকর্মের বিচার চাইতে হলে পাকিস্তানকেই এক নম্বর আসামী বানাতে হবে, যা করার চিন্তা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির আছে বলে মনে হয় না। বঙ্গবন্ধু বিষয়টি জানতেন বলে তিনি দালাল আইন রচনা করেছিলেন। বর্তমানে দালাল আইনটি মৃত। জামাতীদের বিচার চাইতে হলে আওয়ামী লীগ ও ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটিকে দাবি তুলতে হবে, দালাল আইন পুনরুজ্জীবিত করতে অথবা সুযোগ এলে নিজেরাই দালাল আইনটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। অপরদিকে দেশে কোর্ট কাচারি থাকা সত্ত্বেও 'গণআদালত' গঠনের মাধ্যমে ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটি মূলত ইসু্যটি নিয়ে জনগণের সঙ্গে ঠাট্টা করেছে। কারণ গণআদালতের গঠনটা ছিল বেআইনি। তাই আওয়ামী লীগ পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকেও গণআদালতের রায় কার্যকর করতে পারেনি। কারণ একটি ভুলকে আরেকটি ভুল দিয়ে কাভার দেয়া যায় না। জামাত নেতা গোলাম আযমের নাগরিকত্ব ইসু্যটিও আজ ঝুলে থাকতো, যদি না এ দেশের পচা বাম তথা ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটি ভুল পথে আন্দোলনে না যেতো। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার একাত্তর সালে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে সত্তর জনেরও বেশি লোকের নাগরিকত্ব বাতিল করেন। এদের মধ্যে 42 জন পাকিস্তানি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর মামলায় জিতে 7 জন নাগরিকত্ব ফিরে পান। যেহেতু এর নজির আদালতে রয়ে গেছে, সেহেতু গোলাম আযমের নাগরিকত্বও আটকিয়ে রাখার উপায় ছিল না। বিষয়টা বাম নেতারাও যেমন জানতেন, জামাতও জানতো। সরকারের সামনে তখন দুটো পথ খোলা ছিল। প্রথমত তাকে নির্বাসনে পাঠানো। দ্বিতীয়ত, দালাল আইন পুনরুজ্জীবিত করে তার বিচার করা। কিন্তু সেই মুহূর্তে মামলাটি ছিল এ দেশে অবৈধভাবে অবস্থানের। তাই মামলায় জিতে গোলাম আযম আজ সুপ্রিম কোর্টের সিল-ছাপ্পড় মারা নাগরিক। জনশ্রতি রয়েছে, ভুল ইসু্যতে আন্দোলন করার জন্য জামাত নেতারা ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটির নেতাদের পেছনে মোটা অংকের টাকা খরচ করেছেন। জনশু্রতিটি সত্য মিথ্যে যাই হোক না কেন, ঘাদানিকদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কখনো গোলাম আযমের বিচার ছিল না। দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা ইসু্য তুলে মারামারির মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করাই ছিল তাদের মূল টার্গেট। তাই প্রশ্ন জাগে রাজাকারদের বিচার কি কখনো হবে না ? হলে কিভাবে হতে পারে?
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
‘স্বর্ণামতি সেতু’ থেকে

আমাদের গ্রামের পাশ দিয়ে একটা নদী বয়ে গেছে। তার একটা আদুরে নাম আছে, ‘স্বর্ণামতি’। কে, কবে, কেন নদীটির এ নাম দিয়েছে, তা আমার অজানা। তবে নামটি আমার খুবই প্রিয়। এক... ...বাকিটুকু পড়ুন
ষড়যন্ত্রঋতু
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সারাবছরই ঐক্যের ঋতু, এখানে রাজনীতিতে শত্রু না থাকলে মিত্র টেকে না। যতদিন হাসিনা ছিল, স্বাধীনতাবিরোধীরা ছিল একটি সুখী পরিবার। বাম জানত ডানকে ঘৃণা করতে হয়, কিন্তু আপাতত স্থগিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমি টুপ করে চলে আসবো

আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন
রুবা

রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।