প্যারোডি কবিতাকে রবীন্দ্রনাথ নাম দিয়েছেন 'লালিকা'। এটা 'অনুকৃতি কৌতুক' বা আনুকারিক হাস্যরস' নামেও পরিচিত। যেসব কবিতা বা গদ্য পাবলিকের কাছে অতি পরিচিত, সাধারণত সেগুলোর প্যারোডি হয়। এটা তরল হাস্যরস, তবে শিল্প। এর আবেদন সাময়িক। হালে প্যারোডির চর্চা কমে যাচ্ছে। আমার ধারণা সামহয়্যারের কবি-ব্লগাররা প্যারোডি নিয়ে এগিয়ে এসে আনন্দ দিতে পারেন। এ প্যারেডি ব্লগের কবিতা ছড়া অবলম্বনেও হতে পারে। ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে কৌতুক সৃষ্টিকে প্রাধান্য দেয়া যথার্থ হবে। আমি অকবি হিসেবে একাধিক উদাহরণ তুলে ধরছি:
পদাবলী : জ্ঞানদাস
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয় সাগরে সেনান করিতে
সকলি গরল ভেল।।
হিতে বিপরীত : কাজী নজরুল ইসলাম
আমি তুরাগ ভাবিয়া মোরগে চড়িনু
(সে) লইল মিয়ার ঘরে।
আমার কালিমা ছাড়ায়ে কলেমা পড়ায়ে
বুঝি মুসলিম করে।।
ভাগ্যে বিড়ম্বনা : সতীশচন্দ্র ঘটক
(আমি) ফলার লাগিয়া যে দই পাতিনু
বিড়ালে খাইয়া গেল।
ছেলিয়া গুলিরে মানুষ করিতে
সকলি বকাট ভেল।।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০