আমি তখন চট্টগ্রামের দৈনিক ঈশানে। কর্নেল অলি পত্রিকাটির চেয়ারম্যান। কিপটে হিসেবে তার বড়ই সুনাম। তার ভাবখানা এ রকম : 'মিয়া চাকরি দিছি, আবার বেতন কিসের?' তারপরও তিনি একদিন পত্রিকায় এলেন। কত কিছু ছিঁড়ে ফেলবেন, তা নিয়ে স্বভাবসুলভ কায়দায় অনেক যান্ত্রিক ওয়াদাও করলেন। দাবি করলেন : 'আমিই চট্টগ্রামের তের নম্বর অলি'। হঠাৎ সাইড থেকে ফরহাদী নামের একজন সম্পাদনা সহকারী একটা অপ্রস্তুত কোশ্চেন ছুঁড়ে দিলেন। রাগে অলি সাহেব বলে ফেললেন : 'আই ওয়াজ এক্স মিনিস্টার'। আর যায় কোথায়? সাংবাদিকদের মুখ ছুটলো। এক সিনিয়র সাংবাদিক বললেন, 'অলি ভাই , এখানে কিন্তু ইংরেজি জানা অনেক সাংবাদিক আছেন। আই ওয়াজ এক্স মিনিস্টার বলে ওদেরকে লজ্জা দেবেন না' ।
অলি কথা বাড়ালেন না। উঠে সোজা চলে গেলেন।
আজও পুরনো কলিগদের দেখা পেলে প্রথমেই বলি :'আই ওয়াজ এক্স মিনিস্টার'। আমি জানি না, অলি মন্ত্রী হবার কারণে ইংরেজিতে মিনিস্টার শব্দটি লিখতে একটি অক্ষর বেশি লাগে কিনা। তবে দৈনিক ঈশান আজোও বন্ধ। অলি লেবার কোর্ট থেকে মামলায় হারতে হারতে এখন সুপ্রিম কোর্টে উঠেছেন। অনেকে পরামর্শ দিয়েছেন (আইনজীবীসহ) :সাংবাদিকদের বৈধ পাওনা দিয়ে দিন। কিন্তু অলি দেবেন না কিছুতেই। আর সাংবাদিকরাও (47 জন) তাকে ছাড়বে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০