somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপেক্ষা

২৮ শে মে, ২০১৬ সকাল ৭:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্ধ্যে আমার আকাশ জুড়ে। দুই একটা তারা দ্যাখা যাচ্ছে। মিটিমিটি জ্বলছে। জোনাকিপোকার খুব শখ ছিলো আমার! বলেছিলাম,বাসর রাতে আমায় জোনাকি দিও এক বয়াম। তারপর ইচ্ছে ছিলো সব জোনাকি ঘরেই ছেড়ে দেবো। ওরা ঘর আলো করে উড়বে। আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকবো! আর তুমি! তুমি তাকিয়ে থাকবে আমার দিকে! পরে দুজনে জানালা খুলে বেড়িয়ে যেতে দেবো জোনাকিদের।
আমার এই সখ টা পূরণ হয়েছে। অন্য ভাবে! আমার ঘরে এখন ও জোনাক জ্বলে.. তবে...
আ্যাই তোমার মনে আছে? আমার ভার্সিটির দিন গুলোর কথা? আমি ক্যামন ভার্সিটির ক্লাস ফাঁকি দিয়ে চন্দ্রিমায় গিয়ে বসে থাকতাম তোমার সাথে! দিয়াবাড়ী.. সন্ধ্যের ফার্মগেট.. তুমি ভুলে গ্যাছো তাইনা! তোমার কিচ্ছু মনে থাকেনা! যাও কথাই বলবোনা!
তুমি একবার বর্ষার দুপুরে কাকভেজা হয়ে আমার জন্যে ১৫ টা কদম এনেছিলে, মনে আছে? এতো বকেছিলাম তোমায়! বকছিলাম আর কাঁদছিলাম। খুশিতে। তোমার এক্টুতেই কত্ত ঠান্ডা লেগে যেতো! আর আশ্চর্যের ব্যাপার সেদিন বৃষ্টিতে ভিজে তুমি একবার হাঁচিও দাওনি। কি অদ্ভুদ! তুমি আমার গালে দুহাত দিয়ে ধরে বলেছিলে এটা ভালোবাসায় ভেজা বৃষ্টি। তাই অসুখ হবেনা। তোমার ভেজা শার্টে মাথা গুঁজেছিলাম। সেদিন প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলাম জানো? ইশ্বরের কাছে বলেছিলাম আমি আমার জীবনের সব কটা বর্ষা এই মানুষটার বুকে মাথা গুঁজে কাটাতে চাই! দেখেছো?? আমিই বেশি ভালোবাসি..
তোমার এখন ও ঠান্ডা লাগে??
তুমি ঝাল খেতে পারতেনা। ফুচকাতেও। আমার দেখাদেখি একবার বেশি ঝাল চেয়ে নিয়েছিলে। পরে কতক্ষণ হা করে ছিলে তুমি! চোখ লাল হয়ে গেছিলো। আমার এতো মায়া লাগছিলো! তোমার অমন অবস্থা দেখে আমিও কেঁদে-টেঁদে অস্থির হয়ে গেছিলাম।
তুমি ঝাল খেতে পারো এখন?? নাকি যার সাথে আছো, সে-ও তোমার মতোই। ঝাল খায়না?
একটা অবাক করা ব্যাপার ছিলো আমাদের মধ্যে। আমাদের কিছুই মিলতো না। তোমার মিষ্টি পছন্দ হলে আমার পছন্দ হতো ঝাল! তাহলে আমাদের প্রেমটা হলো কিভাবে!
এখন যে আছে, সে নিশ্চই পার্ফেক্ট? এইযে আজ ২৪ -মে।। আজকেই হ্যা আজকেই সে দিন টা ছিলো। ভয়ানক, তাইনা?...
তুমি আমায় বললে একটু ওয়েট করতে। আমি তখন শপিং মল এ। তুমি ফোন হাতে নিয়ে একজনের সাথে দেখা করতে গেলে। আমি ঘুরছিলাম ভেতরে একা একা। হঠাৎ সবার চিৎকার। আমি বুঝতে পারছিলাম না কি চলছিলো।
...কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারদিকে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করলো। সবাই ছুটছে। আমিও ছুটছি। আগুনের তাপ লাগছেনা গায়ে। খালি মনে হচ্ছে আমি না বেরুতে পারলে তোমাকে দেখবো কিভাবে! তুমি তো আমায় না দেখে পাগল হয়ে যাবে! তুমি তো আমায় খুঁজতেই থাকবে।...
মানুষের ধাক্কায় হাতের পার্স টাও পড়ে যায়। ফোন টা বের করতে পারিনা। আমি তখন সাত তলায়। বেরুনোর পথ একটাই। সিঁড়ি। আমি সিঁড়ির দিকে দৌড়ালাম। হঠাৎ একজন পেছন থেকে পায়ে ধাক্কা দিলো। আমি পড়ে গিয়েছিলাম। অনেক ব্যাথাও পেয়েছি। তারপর গড়িয়ে নিচে পড়লাম। তারপর. তারপর আর কিছু মনে নেই। ...
হঠাৎ চোখ খুলে দেখলাম আমায় তুমি কোলে করে দৌড়াচ্ছ আর বলছো তোমার কিছু হবেনা। চোখ খুলে রাখো আমি আছি তো। আমি চোখ খুলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম বিশ্বাস করো! জোর করে একবার খুললাম। দেখলাম তোমার ঘামে ভেজা মুখ। এক হাত দিয়ে তোমায় গালটা ছুঁয়ে দিলাম।...
আমার খুব বাঁচতে ইচ্ছে করছিলো জানো? খুব বেশি। আর পারিনিহ। চোখ বুজে তোমার বুকে মুখ গুঁজে শেষবার নিশ্বাস টা সেখানেই ছেড়েছিলাম।
... আর আজ।
আকাশে মেঘ নেই আজ। বৃষ্টি হবেনা। তুমি এলেই বৃষ্টি হবে.. তুমি কবে আসবে??
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মে, ২০১৬ সকাল ৭:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×