somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অ-প্রিয়তমেষু

০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয়তমেষু,
ভালোবাসা জানবেন। শীতের শুরুর কুয়াশায় জড়ানো কুমড়ো লতার ভালোবাসা আপনার জন্যে। কেমন আছেন আপনি? আমি ভালো নেই.. আমার কুমড়ো লতাটাও উত্তরের বাতাসে মরতে বসেছে। শীত শুরু হচ্ছে বৈকি প্রিয়তমেষু।আচ্ছা, আপনাকে প্রিয়তমেষু ডাকায় আপনি কি রাগ করছেন? কিছু করার নেই। আমার বলতে ইচ্ছে করছে। ভুল গুলো ক্ষমা সুব্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আপনার আমার ভালোবাসা সে তো ছ'টা শীত দেখলো বোলে.. এই শীতটা অবশ্য আমাদের না তা আমি জানি.. আপনার শীত এবার অন্য চাদর পেয়েছে।
জানেন মশাই? শীতের শুরুর সকাল গুলো বড্ড আড়মোড়া। উঠতেই ইচ্ছে করেনা। গতবার খেজুরের রসের বায়না ধরেছিলুম, আপনি সে-কি সকাল সকাল বাড়ির সামনে কাঁপতে কাঁপতে নিয়ে এসেছিলেন রসের হাড়ী।
আচ্ছা, এবার ও এনে দেবেন?
আমার ভালো লাগা না লাগা নিয়ে অবশ্য আপনার কিছু আসে যায়না তা আমি সেদিন ই বুঝেছি..
আপনার বউ টা বড়ই লক্ষ্মী। ক্যামন লাল টুকটুকে দেখতে গো! আমিই হয়তো থাকতাম তার জায়গায়..! নাম কি যেনো.. কঙ্কাবতী! কি রাশভারী নাম! আমার নামের সাথেও তো যায়না, তাইনা ঠাকুর? আমার কত্ত শখ ছিলো বলুন তো, লাল টুকটুকে শাড়ি পড়ে পায়ে আলতা দিয়ে, কপালে সিঁদুর ছুঁইয়ে আপনার ঘরে যাবো! পরে আপনি নির্লজ্জ হয়ে আমার কপালের সিঁদুর লেপ্টে দিয়ে আমার বুক থেকে আঁচল সরিয়ে দেবেন! ঠাকুর, তা আর হলো কই! আপনি এখন রাত্তিরে ওই কঙ্কাবতীর বুকে মাথা গুঁজে ঘর্মাক্ত হবেন! ইশশ, আমি যে ওসব ভাবতেও পারিনে ঠাকুর! আপনার ওই বুক যে আমার! আপনি যে আমায় কথা দিয়েছিলেন! তবে কেন সে সংসার আমার হোলোনা? আপনার দেয়া ক'গাছা চূড়ি বুকে নিয়ে কত্ত রাত্তির কেঁদেছি আমি, তার ইয়ত্তা নেই। আপনি কেন আসেননি আমার চোখ মুছে দিতে.. যে মেয়েটা আমি আপনার বুকেই শৈশব হারিয়ে কৈশর তারপর যুবতী হলাম, সে মেয়ের প্রতি এতোটুকু ভালোবাসা দেখানো কি যেতো না ঠাকুর?! আপনি কি সেই পাথরের মূর্তিই রয়ে যাবেন?! আমার সাত সোমবারের ব্রত গুলো মিথ্যে হয়ে গ্যালো যে ঠাকুর! আপনার পায়ে দেয়া অঞ্জলীর ফুল গুলোও মিথ্যে হয়ে গ্যালো..
আপনি কি রোজ ওই কঙ্কাবতীর চুলে বেলী গুঁজে দ্যান? সে আপ্নায় জড়িয়ে ধরে?
কেন ধরে? আপনি না বলেছিলেন ভালবেসে শুধু আপনি আমারেই ধরবেন? কেন ঠাকুর? কেন ওকে বিয়ে করে আমাদের ঘরটায় ঢুকিয়েছিলেন!
আমি মানতে পারিনি কোনোদিন ঠাকুর, এখন ও আমি পদ্মদীঘীতে পা ভেজাই। মায়ের আদেশ অমান্য করে ভরসন্ধ্যা তে চুল ছেড়ে পা ভিজিয়ে বসে থাকি! আমার আর অমঙ্গল কিসের! আমি দিব্যি অলক্ষ্মী হয়ে থাকি! আপনি ভালো থাকুন কঙ্কার বুকে। ভালো থাকুন!
ইতি..
আপনার বিনোদিনী..
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×