"এক মুরগী দুইবার জবেহ দেবার কথা শুনে অর্থ দেবতার কপালে ভাঁজ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার কপালের ভাঁজ দেখে আরো বললাম যে, এটা ১৬ কোটি মানুষের সামনেই ঘোষণা দিয়ে করা সম্ভব। এহেন কথায় শেষ পর্যন্ত অর্থ দেবতা কপাল কুঁচকে আমার কাছে প্রমান চেয়ে বসলেন। উত্তরে বেদতাকে জানালাম যে, আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেশী দেখিয়ে বিদ্যুতের মূল্য বাড়িয়েছি বহুবার। কিন্তু যখন তেলের মূল্য কমে এসেছে তখন তেলের মূল্য না কমিয়ে বরং দিলাম বিদ্যুতের দাম আরো বাড়িয়ে। এখন ফার্নেস ওয়েল বিক্রি করে একবার মুনাফা করছি আবার সেই ফার্নেস ওয়েলে উৎপাদিত বিদ্যুৎতের মূল্য আরেক দফা বাড়িয়ে দ্বিতীয়বার মুনাফা করছি। আর এভাবেই এক মুরগী দুইবার জবেহ করছি ১৬ কোটি মানুষকে বোকা বানিয়ে।"
লেখার প্রথম অংশের সূত্র ধরে আমরা ১৬ কোটি মানুষ বোকা কিনা সে তর্কে যেতে চাইছিনা। কিন্তু বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কেমন সেটায় একটু নজর দিতে পারি অন্তত। পিডিবি (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) এর সর্বশেষ হিসেব মতে বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ৬.২৪ টাকা, যদিও সংসদীয় কমিটির মতে এ খরচ ৬.৬৮ টাকা। পিডিবির হিসাব মতে ৬.২৪ টাকার বিদ্যুৎ ২৫% ভর্তুকি দিয়ে সরকার বিতরণ কোম্পানি গুলোর কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ৪.৬৭ টাকায়। আর গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেই বিদ্যুৎ ৬.১৫ টাকা মূল্যে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিতরণ কোম্পানির কাছে বিদ্যুৎ মূল্য ২৩ পয়সা বাড়িয়ে বিক্রি মূল্য করা হয়েছে ৪.৯০ টাকা আর ভোক্তা পর্যায়ে ১৮ পয়সা মূল্য বাড়িয়ে ৬.৩৩ টাকা। (সূত্রঃ প্রথম আলো ১/৯/২০১৫)
সূত্র মতে বর্তমান আন্তর্জাতিক মূল্যে ফার্নেস ওয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হবার কথা ৫ টাকা প্রতি ইউনিট। যদি সত্যি সত্যি ৫ টাকা হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন মূল্য আর সেই বিদ্যুৎ মূল্যে ২৫% ভর্তুকি দিয়ে বিতরণ কোম্পানির কাছে বিক্রি মূল্য দাড়াবে ৩.৭৫ টাকা। এই মূল্যে বিদ্যুৎ কিনে বর্তমান ৩১.৫% হারে মুনাফা ধরে বিদ্যুৎ গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি করলেও সেটার মূল্য দাড়ায় ৪.৯৩ টাকা। যা বর্তমান ৬.৩৩ টাকা মূল্যর বিদ্যুতে ১.৪০ টাকা বেশী। সকল হিসাবও যদি বাদ দিয়ে সরল অংকে পিডিবির তথ্য ধরে আগাই তাহলে দেখা যাচ্ছে ৬.২৪ টাকায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহক পর্যায় বিক্রি হবে ৬.৩৩ টাকায় যা আজ ১ তারিখ থেকে কার্যকর, যেখানেও উৎপাদন ব্যয় থেকে ৯ পয়সা বেশী মূল্য নেওয়া হচ্ছে।
সরকার একদিকে মুনাফা করছে ফার্নেস ওয়েল বিক্রি করে অন্যদিকে মুনাফা করছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে। আর এর মাঝে যে ভর্তুকি নামক শুভঙ্করের ফাঁকি সেটা চেপে বসছে সাধারন মানুষের কাঁধে। মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে এখন বিদ্যুৎ অন্যতম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন একটি বিষয় নিয়ে বাণিজ্য কাম্য নয়। সরকারকে যেমন জ্বালানি মূল্যর বৃদ্ধির সাথে সাথে বিদ্যুৎ সহ জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করে সমন্বয় করতে হবে, পাশাপাশি মূল্য কমার সময়েও সেভাবে মূল্য কমিয়ে সমন্বয় করে যৌক্তিক ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় দেশে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে, মানুষ অতিরিক্ত খরচ নির্বাহের জন্য অতিরিক্ত চাপ নেবে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ লেনদেন বেড়ে যাবে। ফলে বেড়ে যাবে অর্থনৈতিক বৈষম্য, শ্রেণীতে শ্রেণীতে অর্থনৈতিক সক্ষমতার পার্থক্য বেড়ে যাবে। সামগ্রিক ভাবে দেশের জন্য এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত অকল্যাণকর।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ দুপুর ২:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



